০৫:১০ পি.এম
মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার শিবনাথপাড়ায় গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে ও একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫) রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এসব তথ্য জনিয়েছেন।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কাজ করা হয়। তদন্তে জানা যায়, হত্যার সময় নিহত নাজমা আলমের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা লুট করা হয়েছিল। এই ঘটনায় প্রথমত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় মূল অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন জানান, তিনি হাতুড়ি দিয়ে নাজমা আলমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর তার গলায় ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি নাজমা আলমের হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন। এছাড়া, তিনি স্বর্ণালংকার, হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি এবং সিসিটিভির ডিভিআর নিয়ে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত: প্রশাসক
পুলিশ জানায়, মোশারফ হোসেন নিহতের স্বামী চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং মাঝে মাঝে সেখানে সুগারবিহীন চা পান করতেন। তার এই পরিচিতির সুযোগ নিয়েই তিনি হত্যাকাণ্ড সংঘটন করেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলমের (৫১) হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, তাকে নিজ বাসাতেই হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের একদিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন