১০:৪১ পি.এম
দেশজুড়ে বহু বছর ধরে ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ উদযাপন করে শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই বিতরণের রীতি চলে আসছে। কিন্তু এবার সরকার একটি ভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই পাবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও ডিসেম্বরে শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বুধবার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হচ্ছে কাল
একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা নোটিশে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম তৈফিকুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তি জাগো নিউজের হাতে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর জেলাধীন সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের জানানো হচ্ছে যে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও একই দিনে ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে, অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা মূল্যায়ন থাকলে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকবেন। তাই ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে। ছুটি শেষে ক্লাসে ফিরে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।
কোন শ্রেণিতে পাঠ্যবই কত
আরও পড়ুন: শিক্ষাঙ্গনে শিশুর সুরক্ষায় ইসলামের নৈতিক তাগিদ
এবার প্রাক-প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি বই ছাপানো হবে।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভাষায় লেখা বইয়ের প্রয়োজন ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলিয়ে মোট বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি হবে। ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি।
নিম্নমাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি, অষ্টম শ্রেণিতে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
মাধ্যমিকে নবম শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বই থাকবে। এ শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বইয়ের সংখ্যা হবে ৯ হাজার ৪ কপি।
আরও পড়ুন: খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়নি
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্যমতে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবার নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন দুটি বিষয় হলো- খেলাধুলা ও আমাদের সংস্কৃতি। এ দুই বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ কপি।
অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুই বিষয় হলো- আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। এ দুটি বইয়ের সংখ্যা ৭১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯০ কপি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
বই ছাপাতে এবার সরকারের খরচ কত
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপাতে মোট এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপাতে খরচ হবে ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ টাকা। নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে ব্যয় হবে এক হাজার ৪২০ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: জাবিতে ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ১৬তম প্রজাপতি মেলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন