০৭:০৫ এম
কী খাচ্ছেন বা কত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন-কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য কেমন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকেন অনেকেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার সময়টি সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণা বলছে, খাবারের সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম), রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষের শরীর সার্কাডিয়ান রিদম অথবা জৈবিক ঘড়ির নিয়মে পরিচালিত হয়। এই জৈবিক ছন্দ কেবল ঘুম নয়, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, হজম প্রক্রিয়া, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং কর্টিসল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। সকাল বেলায় শরীর খাবার গ্রহণ ও হজমের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে। এসময় ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বেশি থাকে, ফলে রক্তে শর্করা সহজে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খাবার দ্রুত হজম হয়।
অন্য দিকে, সন্ধ্যার পর শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরে হতে থাকে। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং পাকস্থলীতে খাবার হজমে ধীরগতির দেখা দেয়। এর ফলে রাতে দেরিতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং বিপাকজনিত সমস্যা বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন: নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান, লাখ টাকায় কিনেছিল ভক্তরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যস্ত কর্মজীবন, যানজট এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে অনেকেই রাত ৯টা বা ১০টার পরে রাতের খাবার খান। এরপর অতিরিক্ত ভাত, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় বা মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
তবে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন না এনে যদি ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবেই উপকার মেলা সম্ভব। যেমন সপ্তাহে অন্তত কয়েকদিন রাত ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা। রাতের খাবারে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো কারণে দেরিতে খাবার খেতে হলে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে সুষম খাবার বেছে নেওয়া উত্তম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার শুধু শক্তির উৎস নয়, এটি শরীরের জন্য একটি জৈবিক সংকেতও। তাই শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক ছন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করলে বিপাকক্রিয়া সুস্থ রাখা সহজ হয়। তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
আরও পড়ুন: খালি পেটে চিয়া সিড বিপদ ডেকে আনবে যাদের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন