০৬:৩৭ পি.এম
ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন, আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে একটি বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে।
তবে, উচ্চ আয়ের কর্মী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য পাঁচ বছরের পথটি বজায় থাকবে। বিশেষ অবদান রাখা উচ্চ আয়ের কর্মী ও নির্দিষ্ট দক্ষতা কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ তিন বছরেই দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্যও পাঁচ বছরের পথ বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস
নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি আর শুধু নির্দিষ্ট সময় দেশটিতে অবস্থানের ভিত্তিতে দেওয়া হবে না। বরং অভিবাসীর আর্থিক ও সামাজিক অবদান, কর্মসংস্থান, চরিত্র এবং আইন মেনে চলার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সরকারের ভাষায়, স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে হবে অবদানের মাধ্যমে। নতুন নীতির আওতায় যারা অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনে অন্তত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।
যারা পাবেন তিন ও পাঁচ বছরের সুযোগ :
ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী সর্বোচ্চ করদাতাদের তিন বছরে আইএলআর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সুযোগ থাকবে সরকারের সর্বোচ্চ দক্ষতাভিত্তিক ট্যালেন্ট কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের জন্য। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদের জন্য সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা হবে ১০ বছর।
আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য বিশেষ ছাড় :
নতুন নীতিতে সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে আসা বা সংশ্লিষ্ট ভিসায় পরিবর্তন করা কেয়ার ওয়ার্কারদের মধ্যে যারা ভিসার শর্ত পূরণ করেছেন এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন, তারা পাঁচ বছর পর আইএলআর আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে আসা বা ভিসা পরিবর্তন করা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। তাদের জন্য আরো পাঁচ বছরের নতুন কেয়ার ভিসার সুযোগ রাখা হচ্ছে। নতুন ভিসায় তারা আগের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। পাঁচ বছরের নতুন ভিসার মেয়াদ শেষে তারা আবার স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। একই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
আইএলআরের জন্য কঠোর শর্ত :
আরও পড়ুন: দিল্লি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণ করছে: জয়সওয়াল
স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য চারটি বাধ্যতামূলক শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমুক্ত রেকর্ড, উচ্চমানের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ব্রিটিশ সরকারের কাছে কোনো অনাদায়ী ঋণ না থাকা এবং অন্তত তিন বছরের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স (এনআই) কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ড। যাঁরা সরকারি সুবিধা বা বেনিফিট গ্রহণ করেছেন, তাদের আবেদন করার আগে টানা পাঁচ বছর রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থাকার শর্তও পূরণ করতে হবে।
শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন :
সরকার অনুমোদিত নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্য শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০ বছর হতে পারে। তবে কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তা ১০ বছর পর্যন্ত কমতে পারে। ছোট নৌকা বা গোপন অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ বছর অপেক্ষা যুক্ত হওয়ায় সময়সীমা ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
তবে ব্রিটেনে ইতিমধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার বাতিল করা হবে না। ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারের সদস্য, হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) ভিসাধারী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং উইন্ডরাশসহ কিছু পুরোনো রুটের অভিবাসীদের জন্য বর্তমান পথ বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে আর সহায়তার প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প
২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা :
গত সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬-এ ঘোষিত সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পরিবর্তনগুলো ডিসেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২০২৭ সালে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, আইএলআরের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় নয়, বরং আবেদন নিষ্পত্তির সময় কার্যকর নিয়ম বিবেচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বরের ঘোষণা হাউস অব কমন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীতিগত বিবৃতি, এটি নতুন আইন হিসেবে সংসদে চূড়ান্ত ভোটে পাস হয়নি। পরিবর্তনগুলো ইমিগ্রেশন রুলসের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, আলোচনা নিয়ে আগ্রহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন