ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে সিংগাইর জয়মন্টপ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী মেলা, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন


হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে সিংগাইর জয়মন্টপ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী মেলা, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

আগামীকাল হাইকোর্টের শুনানির জোর প্রস্তুতি চলছে

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করবে মানবাধিকার সংগঠন:

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনসংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর পরও কীভাবে ওই মাঠে মেলার অনুমোদন দেওয়া হলো, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। সংগঠনটির প্রশ্ন, সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত হওয়ার পরও কোন আইনি ক্ষমতাবলে জেলা প্রশাসন এ অনুমোদন দিয়েছে?

আরও পড়ুন: নড়াইলে অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার অভিযোগে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও একাধিক সিমসহ ৪ জন গ্রেফতার

এ ঘটনায় আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১১ নম্বর বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে। একই দিন বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে অবহিত করার পরিকল্পনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে হস্ত ও কুটিরশিল্পজাত পণ্যের মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মেলাটির উদ্বোধন করা হয়। মেলা আয়োজনে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্যিক মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের ২৯ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর ৫(চ) ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞার অনুলিপিও সংগঠনটির কাছে রয়েছে। ওই সরকারি পরিপত্র ও আদালতের আদেশের অনুলিপি সংযুক্ত করে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন ও অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ অবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনটির সরাসরি প্রশ্ন, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরও জেলা প্রশাসন কোন আইনি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের মাঠে মাসব্যাপী মেলার অনুমোদন দিয়েছে? আদালতের আদেশ এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনার বিষয়টি অবগত হওয়ার পরও যদি সেই নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রশাসনিক ও আইনগত দায়ভার কার? সরকারি বিধিনিষেধের বাইরে গিয়ে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জেলা প্রশাসনকে কে দিয়েছে?

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, গঠন হলো নির্মূল কমিটি

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো লিখিত আবেদনগুলোতে শুধু মেলা আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়নি; বরং সরকারি পরিপত্র ও আদালতের আদেশের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করা হয়েছে। একই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে। এরপরও বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা চলমান থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মেলার কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, মাঠজুড়ে মেলার দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা বা পিটি এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের জন্য মাঠ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পরীক্ষাসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, স্থানীয় সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বিভিন্ন সামাজিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে আসছেন। স্থানীয় তরুণ ও যুবকেরা সেখানে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করেন। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জন্য মাঠটি ব্যবহার করেন। মেলার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ও মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মেলা আয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংগঠনটির মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ বাস্তবায়নের জায়গা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের জন্য সংরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: গণধর্ষণের অভিযোগে কিশোরী মিথিলা আক্তারের মৃত্যু, অভিযুক্তদের নাম ভিডিওতে

এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বলেন, তিনি মূলত এ মামলার প্রধান পরিচালনাকারী। এর আগেও মানবাধিকার সংগঠনটির জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন। তালাশ বিডিকে তিনি বলেন, “একটি বিষয় নিয়ে বারবার কেন মহামান্য হাইকোর্টে আসতে হবে? জেলা প্রশাসকেরা কি হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে অবগত নন? আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কোন ক্ষমতাবলে বিদ্যালয়ের মাঠে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আগামীকাল আদালতে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মেলার অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি কী এবং কোন ক্ষমতাবলে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হবে।”

অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন আরও বলেন, আদালতের আদেশ ও সরকারি নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জানা থাকার পরও যদি কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর আইনগত ভিত্তি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একটি বিষয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত আইন ও আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

আগামীকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১১ নম্বর বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠের সুরক্ষা, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

সংগঠনটির বক্তব্য, আদালতের আদেশ ও সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। সরকারি বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্ধারিত, আর সেই ক্ষমতার প্রয়োগও আইনের সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: দুই মাসেও সন্ধান নেই, মেয়ে কিংবা লাশ ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

আইন ও আদালতের আদেশের প্রশ্নে কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসকসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মকর্তা প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য। প্রশাসনিক ক্ষমতা কোনোভাবেই আদালতের আদেশ অমান্য করা কিংবা সরকারি বিধিবিধানের বাইরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা দেয় না। সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দায়িত্ব পালনের জন্য, আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার জন্য নয়। আইনের শাসনে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

 

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর WhatsApp নম্বরে বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর কিংবা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেলার অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিংগাইর উপজেলা প্রশাসন এবং জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও এ ঘটনায় আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরও বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা আয়োজন অব্যাহত থাকার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: আজমির উসমানের প্রধান সহযোগী সন্ত্রাসী আক্তার নূর গ্রেপ্তার

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা, বিদ্যালয়ের মাঠের যথাযথ ব্যবহার এবং আদালতের আদেশ ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে আগামীকালের হাইকোর্টের শুনানি এখন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি এবং জবাবদিহির বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা আদায়ের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করার আশ্বাসে অন্তত ৩০ জন নারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এ ঘটনা ঘটেছে দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকার ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মেম্বার প্রার্থী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকারকে ডেকে এনে তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, মহিউদ্দিন সরকার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং জনপ্রতি ৩০০ টাকা নেন। কার্ড পাওয়ার পর আরো ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাদের জানানো হয়। এভাবে মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

মধুমুড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি এবং ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। কার্ড হওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বললেও তিনি এখনো কোনো কার্ড পাননি।

প্রায় একই অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, শফিক মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম, গিয়াস মিয়ার স্ত্রী শাহীনা বেগম এবং রফিক মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘মহিউদ্দিন সরকারের নাম প্রথমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও পরে তাকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি নিজেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রামের অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা নেন।’

রুহুল আমিন আরও বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যও নারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কার্ড পাওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। এই কর্মসূচির নাম করে কেউ টাকা নিলে তা প্রতারণা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহিউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। কিন্তু এই সুযোগে কেউ অসৎ উপায়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মধুমুড়া গ্রামের কয়েকজন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের ঘটনা জানার পর ওই এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যিনি টাকা নিয়েছেন, তিনি প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওষুধের মূল্যকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ পি.এম


ওষুধের মূল্যকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি

রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নগরীর ‘স্নিগ্ধা ফার্মেসি’র মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, স্নিগ্ধা ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানের কর্মচারীরা প্রেসক্রিপশন দেখে অনলাইনে প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দাবি করেন। তিনি যখন ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) জানতে চান, তখন কর্মচারীরা জানান যে তারা তা জানেন না। তাদের আচরণ সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় তিনি পাশের অন্য একটি দোকানে ওষুধ কিনতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভুক্তভোগীর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ সময় ফার্মেসির ভেতরে থাকা দোকানমালিক তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন। এরপর কর্মচারীরা ঐ শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। গালির কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারী হাসু তাকে ধাক্কা দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক, অপর কর্মচারী শুভ এবং আশপাশের অন্যান্য ফার্মেসির লোকজন তাদের ঘিরে ধরে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থী।

ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর কয়েকজন বন্ধু ও জুনিয়র শিক্ষার্থী ফার্মেসির সামনে উপস্থিত হন। এ বিষয়ে রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ফার্মেসির মালিকপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ফার্মেসির কর্মচারী হাসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, ঐ শিক্ষার্থী যে ওষুধটি নিতে এসেছিলেন, সেটি তার ভাষায় ‘ড্রাগের মধ্যে’ পড়ে এবং ক্যানসারের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার আগে প্রেসক্রিপশন চাওয়া হলে ঐ শিক্ষার্থী মানিব্যাগ থেকে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। তবে ওষুধটি যে কাউকে দেওয়া যায় না জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন।

‘এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তিনি দুপুরের খাবার খেতে বাইরে চলে গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ৩০–৪০ জন একসঙ্গে দোকানে এসে জড়ো হন। এ সময় হাসুকে দোকান থেকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়। পরে দোকানের মালিককে ভেতরে নিয়ে আবার বাইরে বের করে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ঘটনার বিবাদী হাসু।’

খবর পেয়ে রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ এবং কয়েকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে কর্মচারী হাসু (৩০), দোকানমালিক ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে ঘটনার সময় ও স্থান উল্লেখ করার পাশাপাশি দুজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক আচরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওষুধের সঠিক মূল্য জানা একজন ক্রেতার অধিকার। এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কোনো ক্রেতাকে হেনস্তা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআইইউ হাবের অ্যাডমিন আটক, নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


ডিআইইউ হাবের অ্যাডমিন আটক, নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) নারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে ‘ডিআইইউ হাব’ নামের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন আশরাফকে আটক করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ডিআইইউ কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে ‘কালচারাল ফেস্ট ২.০’-এর একটি নৃত্য পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে ‘ডিআইইউ হাব’ ফেসবুক পেজে অশ্লীল পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পেজটির অ্যাডমিন আশরাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে প্রক্টর অফিসে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাঁকে উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান। উপাচার্য এ সময় তিন কার্যদিবসের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে কয়েকটি অজ্ঞাতনামা ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের মন্তব্য যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের শামিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যথাযথ শাস্তির আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নারী শিক্ষার্থী এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এরপরও তাকে শাস্তির আওতায় আনতে কেন তিন কার্যদিবস সময় প্রয়োজন, তা তাদের বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘ডিআইইউ হাব’ পেজের অ্যাডমিনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আগামীকালই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবির সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


যবিপ্রবির সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) দুটি প্রবেশপথের মাঝখানে সড়কের পাশে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এসব বর্জ্য দিন দিন জমতে থাকায় সেখানে সৃষ্টি হয়েছে একটি ময়লার ভাগাড়। এর ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের জন্য এটি একটি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসস্থলের নিকটবর্তী এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক চলাচল ও বসবাসের পরিবেশকে ব্যাহত করছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ওই সড়ক এড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে ওই স্থানে আবারও ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠতে না পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন হোটেলের মালিকেরা ড্রামে করে ময়লা-আবর্জনা এনে রাতের আঁধারে ওই স্থানে ফেলে যাচ্ছেন। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন মেসে কর্মরত অনেকে বালতিতে করে গৃহস্থালি বর্জ্য সেখানে ফেলছেন। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য জমতে থাকায় ভাগাড়টি ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং আশপাশের মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব ইকবাল বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের পাশে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়ের কারণে চরম স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এটি আমাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তাই শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধের কারণে পাশ দিয়ে যেতে পারি না। ফলে বাধ্য হয়ে গেটের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকিতে ওই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যেহেতু এটি পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়, তাই পরিবেশ কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। যত দ্রুত সম্ভব ওই স্থানে যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করব। যেহেতু স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, তাই সেখানে সরাসরি বল প্রয়োগ করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্থানটি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের পথ হওয়ায় বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%