ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা আদায়ের অভিযোগ


ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা আদায়ের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করার আশ্বাসে অন্তত ৩০ জন নারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এ ঘটনা ঘটেছে দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকার ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মেম্বার প্রার্থী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকারকে ডেকে এনে তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরাম এর ৩৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে কে কাটা হয়

ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, মহিউদ্দিন সরকার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং জনপ্রতি ৩০০ টাকা নেন। কার্ড পাওয়ার পর আরো ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাদের জানানো হয়। এভাবে মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

মধুমুড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি এবং ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। কার্ড হওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বললেও তিনি এখনো কোনো কার্ড পাননি।

প্রায় একই অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, শফিক মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম, গিয়াস মিয়ার স্ত্রী শাহীনা বেগম এবং রফিক মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘মহিউদ্দিন সরকারের নাম প্রথমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও পরে তাকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি নিজেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রামের অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা নেন।’

আরও পড়ুন: দক্ষ যুবসমাজই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি: ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মমিন উদ্দিন

রুহুল আমিন আরও বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যও নারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কার্ড পাওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। এই কর্মসূচির নাম করে কেউ টাকা নিলে তা প্রতারণা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহিউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। কিন্তু এই সুযোগে কেউ অসৎ উপায়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মধুমুড়া গ্রামের কয়েকজন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় মোঃ নাসির মিয়া

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের ঘটনা জানার পর ওই এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যিনি টাকা নিয়েছেন, তিনি প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওষুধের মূল্যকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ পি.এম


ওষুধের মূল্যকে কেন্দ্র করে রুয়েট শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় জিডি

রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নগরীর ‘স্নিগ্ধা ফার্মেসি’র মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, স্নিগ্ধা ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানের কর্মচারীরা প্রেসক্রিপশন দেখে অনলাইনে প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দাবি করেন। তিনি যখন ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) জানতে চান, তখন কর্মচারীরা জানান যে তারা তা জানেন না। তাদের আচরণ সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় তিনি পাশের অন্য একটি দোকানে ওষুধ কিনতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভুক্তভোগীর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ সময় ফার্মেসির ভেতরে থাকা দোকানমালিক তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন। এরপর কর্মচারীরা ঐ শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। গালির কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারী হাসু তাকে ধাক্কা দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক, অপর কর্মচারী শুভ এবং আশপাশের অন্যান্য ফার্মেসির লোকজন তাদের ঘিরে ধরে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থী।

ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর কয়েকজন বন্ধু ও জুনিয়র শিক্ষার্থী ফার্মেসির সামনে উপস্থিত হন। এ বিষয়ে রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ফার্মেসির মালিকপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ফার্মেসির কর্মচারী হাসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, ঐ শিক্ষার্থী যে ওষুধটি নিতে এসেছিলেন, সেটি তার ভাষায় ‘ড্রাগের মধ্যে’ পড়ে এবং ক্যানসারের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার আগে প্রেসক্রিপশন চাওয়া হলে ঐ শিক্ষার্থী মানিব্যাগ থেকে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। তবে ওষুধটি যে কাউকে দেওয়া যায় না জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন।

‘এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তিনি দুপুরের খাবার খেতে বাইরে চলে গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ৩০–৪০ জন একসঙ্গে দোকানে এসে জড়ো হন। এ সময় হাসুকে দোকান থেকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়। পরে দোকানের মালিককে ভেতরে নিয়ে আবার বাইরে বের করে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ঘটনার বিবাদী হাসু।’

খবর পেয়ে রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ এবং কয়েকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে কর্মচারী হাসু (৩০), দোকানমালিক ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে ঘটনার সময় ও স্থান উল্লেখ করার পাশাপাশি দুজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক আচরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওষুধের সঠিক মূল্য জানা একজন ক্রেতার অধিকার। এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কোনো ক্রেতাকে হেনস্তা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআইইউ হাবের অ্যাডমিন আটক, নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


ডিআইইউ হাবের অ্যাডমিন আটক, নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) নারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে ‘ডিআইইউ হাব’ নামের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন আশরাফকে আটক করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ডিআইইউ কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে ‘কালচারাল ফেস্ট ২.০’-এর একটি নৃত্য পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে ‘ডিআইইউ হাব’ ফেসবুক পেজে অশ্লীল পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পেজটির অ্যাডমিন আশরাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে প্রক্টর অফিসে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাঁকে উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান। উপাচার্য এ সময় তিন কার্যদিবসের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে কয়েকটি অজ্ঞাতনামা ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের মন্তব্য যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের শামিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যথাযথ শাস্তির আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নারী শিক্ষার্থী এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এরপরও তাকে শাস্তির আওতায় আনতে কেন তিন কার্যদিবস সময় প্রয়োজন, তা তাদের বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘ডিআইইউ হাব’ পেজের অ্যাডমিনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আগামীকালই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবির সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


যবিপ্রবির সামনে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) দুটি প্রবেশপথের মাঝখানে সড়কের পাশে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এসব বর্জ্য দিন দিন জমতে থাকায় সেখানে সৃষ্টি হয়েছে একটি ময়লার ভাগাড়। এর ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের জন্য এটি একটি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসস্থলের নিকটবর্তী এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক চলাচল ও বসবাসের পরিবেশকে ব্যাহত করছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ওই সড়ক এড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে ওই স্থানে আবারও ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠতে না পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন হোটেলের মালিকেরা ড্রামে করে ময়লা-আবর্জনা এনে রাতের আঁধারে ওই স্থানে ফেলে যাচ্ছেন। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন মেসে কর্মরত অনেকে বালতিতে করে গৃহস্থালি বর্জ্য সেখানে ফেলছেন। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য জমতে থাকায় ভাগাড়টি ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং আশপাশের মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব ইকবাল বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের পাশে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়ের কারণে চরম স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এটি আমাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তাই শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ময়লার ভাগাড়টি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধের কারণে পাশ দিয়ে যেতে পারি না। ফলে বাধ্য হয়ে গেটের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকিতে ওই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যেহেতু এটি পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়, তাই পরিবেশ কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। যত দ্রুত সম্ভব ওই স্থানে যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করব। যেহেতু স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, তাই সেখানে সরাসরি বল প্রয়োগ করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে স্থানটি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলের পথ হওয়ায় বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসিতে ক্রীড়াবিদদের সাফল্য, পাসের হার কমলেও আনন্দের পরিবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


এইচএসসিতে ক্রীড়াবিদদের সাফল্য, পাসের হার কমলেও আনন্দের পরিবেশ

বাংলাদেশের তরুণ ক্রীড়াবিদরা এবার মাঠের বাইরেও সাফল্যের নতুন গল্প গড়েছেন, যা খেলার মাঠে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি। গতকাল প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ৫২.১২ শতাংশে নেমে এলেও, জাতীয় পর্যায়ের একঝাঁক অ্যাথলেটের সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বিকেএসপি থেকে অংশ নিয়ে জাতীয় নারী হকি দলের যমজ বোন হিমাদ্রী বড়ুয়া ও নিলাদ্রী বড়ুয়া সাফল্যের দারুণ আলো ছড়িয়েছেন। ক্যাম্পের ব্যস্ততার মাঝেও, হিমাদ্রী জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন এবং নিলাদ্রী পেয়েছেন ৪.৮৩। এ নিয়ে বিকেএসপির সাত হকি তারকার মধ্যে ছয়জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য শাখাতেও সাফল্যের এই রেশ ছড়িয়েছে। টেবিল টেনিসের ‘রানি’খ্যাত খই খই সাই মারমা বড় টুর্নামেন্ট মিস করার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছেন। ফুটবল অঙ্গনে আলো ছড়িয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ (জিপিএ ৪.৭১) এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলরক্ষক মাহিন (জিপিএ ৪.২৫)। নারী ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ ৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন স্বর্ণা রানি মণ্ডল। ফুটবলারদের মধ্যে নবিরন, ঐশী, বন্যা, স্বপ্না ‘বি’ গ্রেড পেয়েছেন।

অন্যদিকে, পেস বোলিংয়ের মতো পড়াশোনার বাধা ডিঙিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের মারুফা আক্তার (জিপিএ ৩.১৭)। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বিভোর এসব অ্যাথলেটের এমন কৃতিত্ব প্রমাণ করে যে, ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাঠ ও পড়াশোনা দুই দিকেই জয়ী হওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%