ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ


বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ও ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে। ঠিক এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের পর প্রায় সব আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখার নতুন উপায় হিসেবে হোয়াইট হাউস এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দালালমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি

প্রশাসনের মতে, ৩০১ ধারার আওতায় নেয়া এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি আগের শুল্কের তুলনায় শক্তিশালী। কারণ অতীতেও এই ধারা আদালতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) শেষ হবে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্যগুলো নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে না।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদাররাও একই মানদণ্ড অনুসরণ করার। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

গ্রিয়ার আরও বলেন, যেসব দেশ এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না। কারণ এসব চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: কেবল ফিলিস্তিনি হওয়ার কারণেই অপরাধী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২.৫ শতাংশ হবে। আর চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক।

ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, নতুন শুল্ক মূলত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত বর্তমান শুল্ক কাঠামোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের স্থান নেবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তার দাবি, নতুন শুল্ক কেবল আগের শুল্কের বিকল্প নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার অংশ হিসেবে এটি চালু করা হয়েছে। তার মতে, অন্য দেশগুলো এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকায় তারা অন্যায় বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঢাবি ক্যাম্পাসে ৮-৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, ছাত্রদল থেকে ৩ জন আটক

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-উভয় দলই দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সেই আহ্বানেরই প্রতিফলন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন প্রয়োজনে শুল্কসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক উপায় ব্যবহার করে নীতিগত লক্ষ্য অর্জন করবে।

নতুন শুল্ক থেকে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো যেসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই ২৩২ ধারার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্ক রয়েছে, সেগুলো অব্যাহতি পাবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্কের বাইরে থাকবে। কারণ এসব পণ্য উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ এবং এগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন উপাদান ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে ট্রাকের সঙ্গে ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ২

৩০১ ধারার আওতায় আরোপিত এই চূড়ান্ত শুল্ক কাঠামো মূলত ১ জুন প্রস্তাবিত জোরপূর্বক শ্রম শুল্কেরই অনুসরণ করেছে। যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে, তাদের পণ্যে ১০ শতাংশ এবং যেসব দেশে এ ধরনের আইন বা প্রয়োগ অপর্যাপ্ত, তাদের পণ্যে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে আইন সংশোধন ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা এখন ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।

গণশুনানির পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য, পশু ও বীজজাত পণ্য এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থকেও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করেছে।

সূত্র- রয়টার্স

আরও পড়ুন: ‘অনুপ্রবেশ’ আতঙ্কে ভোগা শুভেন্দুর দাবি, ‘সীমান্তে ওত পেতে রয়েছে বাংলাদেশিরা’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ দেশের পাসপোর্ট-তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ এম


পাঁচ দেশের পাসপোর্ট-তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে

একসময়কার প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক পরিচয় প্রদান করে এবং পাঁচটি দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হননি। দুবাই পুলিশের কাছ থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য একটি চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারও আনুষ্ঠানিকভাকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতার ইঙ্গিত এসেছে। এই চিঠি চালাচালির প্রক্রিয়ায় দ্রুত বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশের এই অভিযানকে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানগুলোর একটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আইনি জটিলতা দূর করে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদের বিচার সম্পন্ন করা হলে দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির একটি মাইলফলক রচিত হবে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, ‘বিদেশ থেকে অপরাধী ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। সব বাধা দূর করে বেনজীর আহমেদকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারলে এটি সরকারের জন্য বড় একটি সাফল্য হবে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা স্পষ্ট বার্তা পাবে যে দুর্নীতি করে বিদেশে পালিয়ে থাকা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদি তাঁকে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দিতে সক্ষম হবেন, তাহলে পুলিশ বাহিনীও একটি বার্তা পাবে যে পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত রক্ষা পাওয়া যাবে না।’

জানা গিয়েছে, যখন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে, তখন তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক দাবি করে ওই দেশের পাসপোর্ট দেখান। তবে পরবর্তী নিবিড় তল্লাশির মাধ্যমে তাঁর কাছে ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি দেশের পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পাসপোর্ট এবং পর্তুগালসহ আরো দুটি দেশের পাসপোর্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এর মাধ্যমে ই-মেইলে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে। গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে ফেরত আনার প্রস্তুাব পাঠানোর বিষয়টি সেদিন জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুবাই থেকে চিঠি পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে বেনজীরকে ফেরত আনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দুবাই পুলিশ ওই প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্রুত ফিরতি চিঠি পাঠিয়েছে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বেনজীর আহমেদ কি না। সেই চিঠির সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তারের নথিপত্র ও ছবিও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলার নথি সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিলম্ব না করে আরবি ভাষায় একটি চিঠি পাঠিয়েছে যার মধ্যে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মামলার নথি সহ বেশ কিছু বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে সেই জবাব প্রস্তুত করছে, জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় মোট ৭৪ কোটির বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে বেনজীর দেশে এবং বিদেশে বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক শেয়ার কিনেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয় লুকিয়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দুদকের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলা বিচারাধীন এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ এম


ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল বাতাস, যা ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনজুড়ে দাবানলকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের মুখে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

গরমে দক্ষিণ ইউরোপের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঊর্ধ্বে চলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

কিছুদিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ইতালির সিসিলি দ্বীপ। সেখানে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় হাজার সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য মারা যাওয়ার খবর ইতালি সরকার জানিয়েছে। পাশাপাশি কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের মুখে নিরাপদে আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন জুলি লিওনার্দ নামের একজন ব্যক্তি। তিনি জানিয়েছেন, বিকেলের মাঝামাঝি সময় আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। বোর্দো এলাকার কাছে সমুদ্রতীরবর্তী পাইনবনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।

ফরাসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে লে পর্জের দাবানলে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এখনও কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি এবং হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আগের দিন মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হন।

এদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরো বড় একটি দাবানল নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের শত শত কর্মী কাজ করছেন। এ দাবানলে ইতিমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আইইএ’র প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ এম


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি।

বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রতি অর্থনীতির সংবেদনশীলতার কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর এর প্রভাব পড়েছে।

গতকাল, বৃহস্পতিবার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬ প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এলএনজি আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার ফলে এসব দেশ সরাসরি সংকটে পড়েছে।

জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চমূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমেছে। আইইএ এর পর্যবেক্ষণের দ্বারা জানা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। এর ফলে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর দেশের বিদ্যুতের চাহিদা চাপের মধ্যে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শিল্প উৎপাদনের সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা এবং ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার হচ্ছে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।

আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ৩.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৮ শতাংশ বাড়বে। ২০২৫ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ।

এ কারণে, ২০২৭ সালে বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে ৩০ হাজার ৭০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২৮ হাজার ৬০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার পর এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে এবং কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা কমিয়েছে, তবে গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আইইএ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-সৌদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ এম


বাংলাদেশ-সৌদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই)। এই লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রচার, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসএবিসিসিআই’র একটি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এসএবিসিসিআই’র সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী।

সাক্ষাৎকালে, প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য এসএবিসিসিআই’র বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় তারা সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসএবিসিসিআই’র উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে মন্ত্রণালয়ের নিষ্ঠার সাথে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ‘দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন বাড়াতে হবে।’

শামা ওবায়েদ ইসলাম সৌদি বাজারে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা, সৃজনশীল শিল্প, হস্তশিল্প এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের প্রসারের ওপরেও গুরুত্ব দেন।

সাক্ষাৎ শেষে, এসএবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%