০৭:৪৫ এম
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল বাতাস, যা ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনজুড়ে দাবানলকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের মুখে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
গরমে দক্ষিণ ইউরোপের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঊর্ধ্বে চলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
কিছুদিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ইতালির সিসিলি দ্বীপ। সেখানে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় হাজার সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য মারা যাওয়ার খবর ইতালি সরকার জানিয়েছে। পাশাপাশি কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মিসরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন আহত
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের মুখে নিরাপদে আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন জুলি লিওনার্দ নামের একজন ব্যক্তি। তিনি জানিয়েছেন, বিকেলের মাঝামাঝি সময় আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। বোর্দো এলাকার কাছে সমুদ্রতীরবর্তী পাইনবনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।
ফরাসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে লে পর্জের দাবানলে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এখনও কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি এবং হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আগের দিন মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হন।
এদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরো বড় একটি দাবানল নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের শত শত কর্মী কাজ করছেন। এ দাবানলে ইতিমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে সরকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন