ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অদৃশ্য ক্ষত ও আমাদের বিবেকের দায়: কিশোর অপরাধ


অদৃশ্য ক্ষত ও আমাদের বিবেকের দায়: কিশোর অপরাধ

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। স্কুলের ব্যাগটি হয়তো এখনো বিছানার এক কোণে পড়ে রয়েছে। টেবিলের ওপর খোলা খাতায় অসমাপ্ত একটি অঙ্ক, পাশে পেনসিল। জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো মা বারবার রাস্তার দিকে তাকাচ্ছেন। তাঁর সন্তান এখনো বাড়ি ফেরেনি। মুঠোফোনে কল করছেন, কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না। বুকের ভেতর অজানা আশঙ্কা নিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন—"এই তো আসবে, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও আটকে গেছে।" কিন্তু সব অপেক্ষার শেষ বাড়ি ফেরায় হয় না। কিছু মায়ের অপেক্ষা থেমে যায় হাসপাতালের করিডরে। কোনো বাবার পৃথিবী ভেঙে পড়ে সন্তানের নিথর দেহের সামনে। আর কোনো পরিবারকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয় এমন এক শূন্যতা, যার কোনো পূর্ণচ্ছেদ নেই।

এই দেশে এমন কিশোর রয়েছে, যার হাতে থাকার কথা বই, অথচ সেখানে উঠে আসছে ছুরি। যে বয়সে বন্ধুর সঙ্গে মাঠে খেলার কথা, সে বয়সে কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ কিংবা হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে। আবার সেই সহিংসতার শিকার হচ্ছে তাদেরই বয়সী অন্য কোনো কিশোর—যারও ছিল একটি পরিবার, কিছু স্বপ্ন, আর বাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি।

কেন এমন হচ্ছে? কোন অদৃশ্য পথে শৈশব থেকে সহিংসতার জগতে পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের সন্তানরা? আমরা কি তাদের বড় করছি, নাকি কখনো কখনো অজান্তেই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে ফেলছি?

আরও পড়ুন: ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এসব ঘটনা নিছক অপরাধের পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে কোনো মানুষের জীবন, কোনো পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, কোনো মায়ের বুকভরা কান্না এবং আমাদের সামাজিক দায়ের কঠিন হিসাব।

অপ্রতিম: যে শিশুটি আর বাড়ি ফিরবে না

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।

একটি সন্তান নিখোঁজ হলে মা-বাবার পৃথিবী কীভাবে বদলে যায়, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। পরিচিত প্রতিটি মুখের কাছে তাঁরা জানতে চান, কোথাও দেখেছে কি না। ফোনের প্রতিটি শব্দে চমকে ওঠেন। দরজা খোলার আওয়াজ শুনলে মনে হয়, এই বুঝি সন্তান ফিরে এল। সময় যত গড়ায়, বুকের ভেতর আশঙ্কা তত বাড়ে; তবু আশার শেষটুকু তারা আঁকড়ে ধরে থাকেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্র সংস্কারে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন জরুরি

কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষে যখন সন্তানের নিথর দেহ সামনে আসে, তখন পৃথিবীর সব সান্ত্বনা অসহায় হয়ে পড়ে। যে শিশুটির জন্য প্রতিদিন খাবার তুলে রাখা হতো, যে ঘরে তার পড়ার টেবিল ছিল, যে মানুষটি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন—সবকিছুই থেকে যায়। শুধু শিশুটি আর ফিরে আসে না।

অপ্রতিমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আমাদের ভাবতে হবে, বয়সে ছোট মানুষের মধ্যে বিরোধ কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়? কেন সামান্য বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিশোধের পথ বেছে নেওয়া হয়?

একটি শিশুর মৃত্যুর পর আমরা অপরাধীর পরিচয় জানতে চাই। সেটি জরুরি। কিন্তু ভবিষ্যতে আরেকটি শিশুর জীবন বাঁচাতে হলে জানতে হবে, সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই তাকে থামানোর কোনো সুযোগ ছিল কি না।

অপ্রতিমের পরিবারকে কোনো কথাই তার শূন্যতা থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। তবু তার মৃত্যু যদি আমাদের সমাজকে আরও একটি শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শেখায়, তবে সেই ভাবনা হোক আন্তরিক, দায়বদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী।

আরও পড়ুন: ইসলামি ব্যাংকিং ও ইসলামি অর্থায়ন ভিন্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা

হৃদয়ের ছোট্ট দোকান, বাবার অপূর্ণ অপেক্ষা

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ছুরিকাঘাতে নিহত হয় ১৬ বছর বয়সী মো. হৃদয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সে তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত। দোকানের টাকা আদায় নিয়ে বিরোধ ও কিশোর গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের অভিযোগ ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছিল, প্রকৃত কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

হৃদয়ের জীবনের দিকে তাকালে এক নির্মম বৈপরীত্য চোখে পড়ে। যে বয়সে তার স্কুলের মাঠে দৌড়ানোর, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় সময় কাটানোর, কিংবা খাতার পাতায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকার কথা, সে বয়সে তাকে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে জীবিকার সংগ্রামে অংশ নিতে হচ্ছিল।

ফুটপাতের সেই ছোট্ট সবজির দোকানটি হয়তো শুধু একটি দোকান ছিল না। ছিল একটি পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেখানে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে হৃদয় হয়তো বুঝতে শিখেছিল সংসারের দায়িত্ব, পরিশ্রমের মূল্য আর অসহায় মানুষের জীবনের কঠিন হিসাব।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরের আয়নায় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

কিন্তু এক রাতে সব থেমে গেল।

যে বাবা প্রতিদিন ছেলেকে পাশে পেতেন, তিনি আর তাকে ডাকতে পারবেন না। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো বারবার মনে পড়বে, এই তো এখানেই ছেলেটি ছিল। এই তো তার হাতেই সবজি সাজানো থাকত। এই তো তার কণ্ঠস্বর শোনা যেত।

সন্তান হারানোর পর একটি ঘরে শুধু একজন মানুষের অনুপস্থিতি তৈরি হয় না; বদলে যায় ঘরের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অভ্যাস, প্রতিটি আগামীকাল। অথচ যে বিরোধের জেরে এমন মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে, তা হয়তো কয়েকটি কথা বলেই মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল।

হৃদয়ের মৃত্যুর ঘটনায় যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। কিন্তু তার জীবন আমাদের একটি প্রশ্ন করে যায়—একজন কিশোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কী করেছি? জীবিকার জন্য সংগ্রামরত একটি পরিবারকে সহিংসতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার দায় কি শুধু সেই পরিবারের?

আরও পড়ুন: প্রকৃতির রঙিন শিকারি মাছরাঙা, জলাশয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

অপ্রতিম ও হৃদয়ের জীবন, পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর প্রেক্ষাপট আলাদা। তবু দুজনের অনুপস্থিতি আমাদের একই সত্যের সামনে দাঁড় করায়—একটি শিশুর জীবন হারিয়ে গেলে তার সঙ্গে হারিয়ে যায় এমন এক ভবিষ্যৎ, যা আর কোনো দিন ফিরে পাওয়া যায় না।

যে অন্ধকারে কিশোরেরা পথ হারায়

কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই সামনে থাকা কিশোরদের দেখি। তাদের হাতে অস্ত্র দেখি, সংঘর্ষ দেখি, অপরাধের অভিযোগ দেখি। কিন্তু তাদের পেছনে থাকা প্রভাব, প্ররোচনা ও স্বার্থের জগৎ কতটা খতিয়ে দেখি?

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যের বরাতে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীতে ১২২টি সক্রিয় অপরাধী চক্রের কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে বিভিন্ন চক্রের সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখল, ছিনতাই ও সহিংসতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে আসে।

আরও পড়ুন: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা: নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

সংখ্যাটি নগরজীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ। তবে এসব চক্রের প্রত্যেক সদস্য কিশোর নয়, এবং অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

বিভিন্ন ঘটনায় এমন অভিযোগও এসেছে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বয়স্ক অপরাধী বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিশোরদের ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার, অর্থ আদায় কিংবা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। যে কিশোর সামনে দাঁড়িয়ে অপরাধ করছে, তার পাশাপাশি তাকে ব্যবহার করছে কে, অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে কে, অপরাধের বিনিময়ে সুবিধা দিচ্ছে কে—সেসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে।

একটি কিশোরকে গ্রেপ্তার করে তার পেছনের শক্তিকে আড়াল করে রাখলে অপরাধের শিকড় অক্ষত থেকে যেতে পারে। আবার সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো নিরপরাধ শিশুকে অপরাধী আখ্যা দেওয়াও অন্যায়। আইনকে হতে হবে নিরপেক্ষ, আর বিচারকে হতে হবে প্রমাণনির্ভর।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো কিশোর যখন অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে আশ্রয় খোঁজে, তখন সে হয়তো বুঝতেই পারে না যে একদিন সেই আশ্রয়ই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে উঠবে।

ঘরে ফিরেও যে শিশু একা

সব কিশোরের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ এক নয়। পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সংকট, অবহেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপমান, বন্ধুমহলে গ্রহণযোগ্যতার অভাব কিংবা দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা—বিভিন্ন পরিস্থিতি ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এসবের কোনোটি একা অপরাধের অবধারিত কারণ নয়।

কখনো একটি শিশু ঘরে ফিরে দেখে, বাবা-মা নিজেদের সংকট নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে তার মনের কথা শোনার সময় নেই। কখনো সে স্কুলে ব্যর্থ হয়, অথচ ব্যর্থতার কারণ বোঝার আগে তাকে শুনতে হয় তিরস্কার। কখনো বন্ধুদের কাছে নিজেকে ছোট মনে হয়। কখনো তার ভেতরে জমতে থাকে অপমান, ক্ষোভ ও একাকিত্ব।

আমরা হয়তো জিজ্ঞেস করি, ‘পরীক্ষায় কত পেয়েছ?’ কিন্তু খুব কম সময় জিজ্ঞেস করি, ‘তোমার মন খারাপ কেন?’

আমরা হয়তো বলি, ‘এত রাত করে ফিরলে কেন?’ কিন্তু সব সময় জানতে চাই না, ‘কোনো বিপদে পড়েছিলে কি?’

এই ছোট ছোট প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্কের গভীরতা। একটি শিশু যখন বিশ্বাস করে যে ভুল করলেও তার কথা শোনার মানুষ আছে, তখন সে বিপদের কথা প্রকাশ করার সাহস পায়। বিপরীতে, ভয় ও অপমানের কারণে যখন সে নিজের সমস্যার কথা গোপন করে, তখন ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কোনো দল যদি তাকে বলে, ‘তুই আমাদের লোক, তোকে কেউ কিছু করতে পারবে না’, তাহলে সে হয়তো প্রথমবারের মতো নিজেকে শক্তিশালী মনে করে। কিন্তু সে বুঝতে পারে না, এই কথার আড়ালে তাকে এমন এক পথে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে সামান্য বিরোধও রক্তপাতের কারণ হতে পারে।

সন্তানকে ভালোবাসা মানে তার প্রতিটি ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। বরং ভুলের দায় বুঝিয়ে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। শাসনের পাশাপাশি স্নেহ, নজরদারির পাশাপাশি বিশ্বাস এবং নিয়মের পাশাপাশি সংলাপ—এই ভারসাম্যটুকুই পরিবারকে সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় করে তুলতে পারে।

পর্দার আড়ালে বাহাদুরির মিথ্যা আলো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে ছবি, প্রতিপক্ষকে হুমকি কিংবা সংঘর্ষের ভিডিও কখনো কখনো কিছু কিশোরের কাছে পরিচিতি অর্জনের উপায় হয়ে উঠছে। কয়েকটি মন্তব্য, কিছু বাহবা কিংবা মানুষের ভয়ের চোখ তাদের মনে সাময়িক শক্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

কিন্তু পর্দায় যে দৃশ্য কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, তার বাস্তব পরিণতি কখনো সারাজীবন ধরে বয়ে বেড়াতে হয়। একটি ভিডিওর পেছনে থাকতে পারে আহত কোনো মানুষ, আতঙ্কিত পরিবার, আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা কিংবা কারও জীবনের শেষ অধ্যায়।

যে কিশোর আজ অস্ত্র হাতে ছবি তুলে নিজেকে সাহসী ভাবছে, সে কি জানে তার একটি সিদ্ধান্তে তার মায়ের জীবন কীভাবে বদলে যেতে পারে? যে বন্ধুরা আজ তাকে বাহবা দিচ্ছে, বিপদের দিনে তাদের কতজন পাশে থাকবে?

ডিজিটাল জগৎকে দোষ দিয়ে দায় শেষ করা যাবে না। কিশোরদের শেখাতে হবে, জনপ্রিয়তা আর সম্মান এক নয়; ভয় সৃষ্টি করা আর সাহসী হওয়া এক নয়। সহিংসতার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বদলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিভাবক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে উৎসাহিত করতে হবে।

শাস্তির পাশাপাশি ফিরে আসার পথ

অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু কিশোর অপরাধের প্রতিকার শুধু গ্রেপ্তার ও শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

শিশু আইন, ২০১৩-তে শিশুদের জন্য পৃথক বিচারব্যবস্থা ও সুরক্ষার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী দায় নির্ধারণের পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ বিবেচনা করা জরুরি।

যে কিশোর স্কুল ছেড়ে দিয়েছে, তাকে আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। যে শিশু পারিবারিক সংকটে রয়েছে, তার জন্য সহায়তা দরকার। যে কিশোর অপরাধী গোষ্ঠীর চাপে রয়েছে, তাকে নিরাপদে সেই প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে। আর যে কিশোর অপরাধ করেছে, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সংশোধনের উপযুক্ত সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলা, পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পরিবার, শিক্ষক, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কারণ একটি শিশুকে বিপথে যাওয়ার পর শাস্তি দেওয়া যতটা জরুরি, বিপথে যাওয়ার আগেই তার পাশে দাঁড়ানোও ততটাই জরুরি।

একটি মায়ের অপেক্ষা যেন বৃথা না হয়

রাত গভীর হলে কোনো মা হয়তো এখনো সন্তানের ঘরের দরজা খোলা রাখেন। টেবিলে রাখা বইটি সরিয়ে রাখেন না। মনে মনে ভাবেন, ছেলে ফিরলে সকালে পড়তে বসবে। কোনো বাবা হয়তো দিনের ক্লান্তি ভুলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। অথচ তাঁদের অজান্তেই কোনো কিশোরের জীবনে তৈরি হচ্ছে বিপজ্জনক বন্ধুত্ব, জমছে বিরোধ, কিংবা জন্ম নিচ্ছে সহিংসতার আকাঙ্ক্ষা।

আমাদের দায় সেই অন্ধকারকে আগে থেকে চিনতে শেখা।

অপ্রতিমের পরিবার তার সন্তানকে আর ফিরে পাবে না। হৃদয়ের বাবা আর ছেলেকে পাশে নিয়ে সবজি বিক্রি করতে পারবেন না। তাঁদের শোকের কোনো সহজ সান্ত্বনা নেই। কোনো বিচারিক রায়ই সেই অনুপস্থিতিকে মুছে দিতে পারবে না। তবু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপরাধের দায় নির্ধারিত হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিরোধের পথ তৈরি হয়।

একই সঙ্গে যে কিশোর আজ ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে, তার জন্যও দরজাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায় না। তার অপরাধের বিচার হবে, কিন্তু তার সংশোধনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হবে। মানবিকতা মানে অপরাধকে ক্ষমা করে দেওয়া নয়; মানবিকতা মানে ন্যায়বিচারের পাশাপাশি মানুষকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া।

আমরা কি পারি না প্রতিটি পাড়ায় এমন একটি জায়গা তৈরি করতে, যেখানে কিশোরেরা নিরাপদে নিজেদের কথা বলতে পারবে? প্রতিটি পরিবারে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে, যেখানে সন্তান ভয় না পেয়ে তার বিপদের কথা জানাতে পারবে? প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে দুর্বল শিক্ষার্থী উপহাস নয়, সহযোগিতা পাবে?

আমরা চাই, সন্ধ্যা হলে প্রতিটি মা নিশ্চিন্তে জানালার পর্দা সরিয়ে সন্তানের ফেরার পথ দেখুন। কোনো বাবাকে যেন হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে সন্তানের প্রাণভিক্ষা চাইতে না হয়। কোনো পরিবারকে যেন সন্তানের পুরোনো ছবিতে হাত বুলিয়ে প্রশ্ন করতে না হয়—সে আর ফিরল না কেন?

শৈশবের হাতে বই থাকুক, মাঠে ফিরুক কিশোরের হাসি। যে হাত রাগে অস্ত্র ধরতে চায়, সেই হাতকে কেউ ভালোবাসা, শিক্ষা ও বিবেকের শক্তিতে থামিয়ে দিক। যে চোখে আজ প্রতিশোধের আগুন, সেখানে আবার জেগে উঠুক ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

একটি শিশুকে হারিয়ে যাওয়ার পর খুঁজে বেড়ানোর চেয়ে, হারিয়ে যাওয়ার আগেই তার পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি জরুরি। কারণ প্রতিটি কিশোরের ভেতরে একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বেঁচে থাকে। সেই ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা শুধু তার পরিবারের নয়—আমাদের সবার মানবিক দায়। শৈশব যেন অপরাধের সংবাদ হয়ে না ফেরে; শৈশব ফিরে আসুক জীবনের গল্প হয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ইসি সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "শান্তি পূর্ণ পরিবেশে সবার সহযোগিতায় নির্বাচন ভালো হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট।"

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনকে "আপনাদের জন্য পরীক্ষা" বলে মন্তব্য করা হয়। এ বিষয়ে "আপনারা কি পাস করেছেন?" এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা পাস না করলে কি ব্রিফ করছি? নির্বাচন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।"

ইসি সচিব তিনজনকে আটক করার বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, "ওরা ভোটার নন। কৌতুহলবশত কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডলারের দাম আবারো বাড়ছে, ব্যাংক ও খোলা বাজারে বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


ডলারের দাম আবারো বাড়ছে, ব্যাংক ও খোলা বাজারে বৃদ্ধি

ডলারের দাম আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাংক এবং খোলা বাজার— উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশি মুদ্রাটির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার সরবরাহ করেছে ব্যাংকগুলোতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে গড়ে ডলারের দাম প্রায় ১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে এই দাম ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রতি ডলার ১২৪ থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে, গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বিক্রি করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইলট তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক প্রতিফলন: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


পাইলট তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক প্রতিফলন: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম তাহসিফ সৌরির অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, দলটি তাহসিফের রূহের মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।

আজ বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন এই ঘটনা ঘটার ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রকৃত কারণ উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত দূর হবে না।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার বা অন্য কোনো বিষয়ের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। তাই অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

তারা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুন, অপহরণ, ছিনতাই, সন্ত্রাস ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাহসিফের অস্বাভাবিক মৃত্যু সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়।

নেজামে ইসলাম পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, তাহসিফের মৃত্যু দুর্ঘটনা, স্বাভাবিক কারণে, নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে। তদন্তের আগেই কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা প্রকৃত সত্য আড়াল করার প্রচেষ্টা জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করবে। ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের পরিচয় ও অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ, তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগের ও পরের ঘটনাপ্রবাহ এবং তাঁর সর্বশেষ যোগাযোগ ও চলাচল যথাযথভাবে অনুসন্ধান, প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি, তদন্তের অগ্রগতিসম্পর্কে দেশবাসীকে নিয়মিত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। ভারপ্রাপ্ত আমীর ও মহাসচিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাক্সক্ষা ছিল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে এবং অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

অথচ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশেও নাগরিক যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং একের পর এক রহস্যজনক ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও অবিশ্বাস বাড়তে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। নেতৃদ্বয় বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে সরকারকে এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ধসঢ়;‌ঘাটনে কোনো গড়িমসি করা চলবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ধসঢ়;‌ঘাটন এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এড়াতে পারবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে নরওয়ের ডেপুটি মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাৎ, গ্রিন ও ক্লিন সিটির প্রশংসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে নরওয়ের ডেপুটি মেয়রের সৌজন্য সাক্ষাৎ, গ্রিন ও ক্লিন সিটির প্রশংসা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির ডেপুটি মেয়র মিস শার্লট বেকম্যান ফিনস্ট্যাড (Ms. Charlotte Beckmann Finnestad)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নগর ভবনের প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তরকক্ষে একটি অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে, তাঁরা রাজশাহী ও ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কল্যানে কাজ করা, তথ্য ও প্রযুক্তি, এআই ভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নগর উন্নয়ন এবং দুই শহরের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দুই শহরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির ডেপুটি মেয়র রাজশাহী নগরীকে গ্রিন ও ক্লিন সিটি হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎকালে ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির ডেপুটি মেয়র ও রাজশাহী সিটি প্রশাসক পরস্পর শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির ডেপুটি মেয়রের অ্যাডভাইজর ওডা ওলাইন ওমডাল ((Oda Oline Omadal)), ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড রাজশাহী ফ্রেন্ডশিপ কমিটির সভাপতি ড্যাগ কিউলফভিগে (Dag Qyulfvige), ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটি স্কুলের সিনিয়র অ্যাডভাইজর জন আইনার কোভাম (ঔড়যহ ঊরহধৎ কাধস), স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজর কিয়ালস্টেইন মেলহুস ভেনাস (Qystein Melhus Venas), স্ট্রমী ফাউন্ডেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজর ও এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্রিস্টিয়ান নিউম্যান (ঈযৎরংঃরধহ ঘবঁসধহহ), স্ট্রমী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, রাজশাহী ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ কমিটির সভাপতি ড. শিখা বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমান।

এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%