বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ পি.এম
কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণি, যা প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, এর সংরক্ষণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কুমিল্লাবাসী প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে যদিও প্রশাসন ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে, যা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ইট ভাটার মাটি সংগ্রহ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য হচ্ছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান এবং জরিমানা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায়, পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ময়নামতি-লালমাই বিষয়ক বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত লালমাই-ময়নামতি পাহাড় শ্রেণির আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়টির সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৫ মিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর উত্তর প্রান্তে রানী ময়নামতির প্রাসাদ এবং দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন চণ্ডীমুড়া মন্দির অবস্থিত।
সদর দক্ষিণ উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লালমাই পাহাড় ও টিলা শ্রেণির ২,১২১ একর ৫০ শতাংশ জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানে ১০৩ একর ২৫ শতাংশ এবং বন বিভাগের পাঁচ নম্বর খতিয়ানে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে কুমিল্লা সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার জন্য ১,৮৫৪ একর ৯৩ শতাংশ জমি হুকুমদখল করা হয়। ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জমিতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রতিষ্ঠিত হয়। কোটবাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তর ও সংরক্ষিত এলাকার জন্য প্রায় ১০০ একর পাহাড়ি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৩ সালে ৫২ একর জমিতে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৬ সালে ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। পরে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে ১৩১ একর পাহাড় ও টিলা শ্রেণির জমি রয়েছে। সেখানে কয়েকটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তিনি মনে করেন, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদন এখনও অনুমোদন পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাহাড়ে ভবন নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম জানান, তিনি চলতি বছরের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় নির্মাণ কাজের শুরুতে পাহাড় কাটা হয়েছিল কি না, তা তার জানা নেই।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি পাহাড়ি জমিতে ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন মডেল কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন, তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন এবং ভবন নির্মাণে পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে না।
সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর, সালমানপুর ও জামমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের চিত্র দেখা গেছে।
বড় ধর্মপুর এলাকায় ২০২১ সালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের সময় পাহাড়ের এক লাখ ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি মাটি কাটার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর এনফোর্সমেন্ট মামলা করে।
একই এলাকায় ‘প্রবাসী পর্যটন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় স্টিলের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
এলাকাটির কাছেই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ দেখা গেছে।
অন্যদিকে ময়নামতি জাদুঘরের পশ্চিমের সড়কের দুই পাশে ‘নীলকুঞ্জ’ ও ‘কাশবন’ নামে দুটি রিসোর্ট রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড় কেটে নির্মিত রিসোর্ট দুটি প্রায় এক যুগ ধরে চলছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ নামে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের কাজ ২০১৯ সালে শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেখানে প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতিসাধন করে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জামমুড়া এলাকায় টিলা কেটে ‘ডাইনোসর পার্ক’ নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় পাহাড় সমতল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। বড় ধর্মপুর চৌধুরী চা প্রকল্পের পাশেও পাহাড় কাটার চিহ্ন রয়েছে।
লালমাই-ময়নামতি পাহাড় প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজার শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রত্নস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া এবং রানী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, পাহাড় জুড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর খননে নতুন নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। অবাধে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক নিদর্শন অনাবিষ্কৃত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকে লালমাই পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় পাহাড়ি এলাকায় ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বুনো লতা ছিল। বন্য শূকর, মেছোবাঘ, বুনো বিড়াল, শিয়াল, হনুমান, সজারু, খরগোশ ও বাদুড়সহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী এবং নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ ছিল। নির্বিচারে পাহাড় কাটা, গাছপালা উজাড় ও বসতি সম্প্রসারণের ফলে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ কমে যাচ্ছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
পাহাড় কাটা বন্ধে ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড় ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) করা রিটের শুনানি শেষে আদালত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসহ কয়েকটি পক্ষের বিষয়ে এ নির্দেশনা দেন।
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুন্নাহার বলেন, লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা তিন একর জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, যদিও অধিকাংশ পাহাড় ব্যক্তিমালিকানাধীন, আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন অভিযান চালায়। তার দাবি, প্রশাসনের অভিযানের কারণে পাহাড় কাটা অনেকটা কমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে আটটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের জন্য নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে থাকা আটটি সিদ্ধান্ত হলো-
১. পুরোনো চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেল: ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল থাকলে, তাদের চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে নতুন বেতন স্কেলের আওতায় বেতন নির্ধারণ করা হবে। এই ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী বেতন কার্যকর হবে। নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে প্রযোজ্য ভাতা তারা পাবেন।
২. নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ: ১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবসরের পূর্বে প্রাপ্য মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে চুক্তিতে নির্ধারিত বেতন কার্যকর হবে।
৩. পেনশন বাদ দিয়ে বেতন নির্ধারণ নয়: চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে নির্ধারিত গ্রস পেনশন—কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, বাদ দেওয়া হবে না।
৪. চুক্তির মেয়াদে ইনক্রিমেন্ট ও অতিরিক্ত সুবিধা নেই: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন প্রদান করা হবে না।
৫. অবসরপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তিদের শর্ত নির্ধারণ: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও গুণাগুণ বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে। এরপর সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হবে।
৬. আগের অসংগতিপূর্ণ নির্দেশনা বাতিল: নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে।
৭. পরবর্তী সরকারি আদেশ কার্যকর হবে: বেতন-ভাতা বিষয়ে এ প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলো প্রযোজ্য হবে।
৮. ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল: অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তগুলো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সংশোধন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর জালেমন বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে (৩২) নরসিংদীর বেলাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে কুড়াল ও রড দিয়ে আঘাত করে জালেমন বেগমকে হত্যা করা হয়। এ সময় তার গলায় থাকা চেইন ও কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর থানায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম। এ সময় মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ও ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ মিঠুর মা জালেমন বেগমকে (বৃদ্ধা) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ওই বাড়িতে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জবানবন্দিতে শাহ আলম দাবি করেন, তিনি সহযোগী সজিবকে সঙ্গে নিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে জালেমন বেগমের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় কুড়াল ও রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার গলায় থাকা চেইন ও কানের দুল নিয়ে তারা পালিয়ে যান।
ঘটনার পর প্রতিদিনের মতো পান খাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী রেজাউলের স্ত্রী জালেমন বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জালেমন বেগমের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে মধুপুর থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আলমকে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার নরসিংদীর বেলাব থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম আরও জানান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং তার ও মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হকের দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ফলে বহু মসজিদ ধ্বংস ও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রায় আট দশক পরে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এগিয়ে এসে সেসব মসজিদ পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় আবারও প্রার্থনার ধ্বনি ফিরছে, এবং সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠছে।
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পাঞ্জাবের একটি অসমাপ্ত ভবনে বসে আছেন গজ্জু খান। তার মুখে হাসি এবং চোখে আশার আলো। ৮৭ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের আশা, মৃত্যুর আগে অন্তত একবার নিজের গ্রামের মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনতে পারবেন। মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সেখানে মুসলিমদের প্রার্থনার আহ্বান আবারও ভেসে উঠবে।
বর্তমানে তিনি যেখানে অবস্থান করছেন, সেখান থেকে খুব বেশি দূরে নয় চণ্ডীগড়ের তিরা মালোয়া গ্রাম। আট বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে সেখানে থাকার সময়ই তিনি শেষবার নিজের এলাকায় আজান শুনেছিলেন।
তবে এবার তার আনন্দের কারণ আরও বিশেষ। পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখিওয়াল গ্রামের যে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তার প্রায় পুরো ব্যয় বহন করছেন গ্রামের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে শিখ প্রতিবেশীরা তাকে ও তার ভাইদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি আজও তার মনে অমলিন। কিন্তু গ্রামের অবশিষ্ট ১৮টি মুসলিম পরিবারের জন্য একদিন অমুসলিম প্রতিবেশীরা মসজিদ পুনর্নির্মাণে এগিয়ে আসবেন, তা কখনো ভাবেননি তিনি।
গজ্জু খান বলেন, ‘এটি ছিল আমার নানাবাড়ি। রক্তপাত থেকে বাঁচাতে মা-বাবা আমাকে ও আমার দুই ভাইকে এখানে পাঠিয়েছিলেন। আমাদের নিজেদের গ্রামে তারা নিহত হন। লাঠি ও জ্বলন্ত মশাল হাতে টহল দেওয়া লোকজনের হাত থেকে শিখেরা আমাদের লুকিয়ে রেখেছিলেন।’
এই উদ্যোগের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৭৭ বছর বয়সী শিখ নারী বিবি রাজিন্দর কৌরের প্রতি। তার পরিবারের কৃষিজমির একটি অংশ মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করতে তিনি নিজের নাতিকে রাজি করিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, গ্রামের অন্য সব ধর্মের মানুষের উপাসনা ও সমবেত হওয়ার জায়গা থাকলেও স্থানীয় মুসলিমদের তেমন কোনো স্থান ছিল না।
রাজিন্দর কৌর বলেন, ‘কাউকে উপাসনার জন্য জায়গা দেওয়ার চেয়ে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না। এ ছাড়া, এই মাটিতে যে রক্তপাত হয়েছে, তার জন্য ঈশ্বরের কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়েছিল। আমাদের গ্রামের মুসলিমদের নামাজ পড়তে অন্য গ্রামে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো।’
ব্রিটিশ ভারত ভাগের সময় পাঞ্জাবের মাঝখান দিয়ে সীমান্ত টেনে অঞ্চলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এর ফলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাযজ্ঞ ও জোরপূর্বক অভিবাসন ঘটে। ভারতের অংশে থাকা পূর্ব পাঞ্জাব থেকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত হয়। এ সময় শত শত গ্রামের মসজিদ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। অনেক মসজিদ ভাঙচুর করা হয়, আবার কোনো কোনোটি গবাদিপশু রাখার ঘর কিংবা মালামাল সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
তবে গত এক দশকে পাঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নীরবে এসব উপাসনালয় পুনরুদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন। এমনকি যেসব গ্রামে কোনো মুসলিম বাসিন্দা নেই, সেখানেও নতুন করে সংস্কার করা মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য আশপাশের জেলার মুসলিম কৃষিশ্রমিক ও ধর্মীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
জাখিওয়াল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার পুনাওয়াল গ্রাম। সেখানকার বাসিন্দা জাসপাল শর্মা হিন্দু পুরোহিতের পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজের জমি দান করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মসজিদটির উদ্বোধন উপলক্ষে পুরো গ্রামের মানুষের জন্য ভোজের আয়োজনও করেন তিনি।
৪৮ বছর বয়সী শর্মা বলেন, জমি দানের পেছনে মূলত প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ববোধ কাজ করেছে। তাদের গ্রামে মোট ৫৫০টি পরিবার রয়েছে, যার মধ্যে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা খুবই কম।
শর্মার বাড়ির ঠিক বিপরীতেই মসজিদটি অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘দিনে পাঁচবার নামাজের ধ্বনি আমাদের চারপাশে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। আমাদের ভালো লাগে। আর শুধু আমরাই নই, গ্রামের সবাই—হিন্দু ও শিখরা মিলে—সাধ্যমতো অবদান রেখেছেন। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ ইট ও সিমেন্ট দিয়েছেন।’
মালেরকোটলার উমরপুরা গ্রামের একটি স্থানীয় উপাসনালয় পুনরুদ্ধারকে নিজের পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কাজ হিসেবে দেখেন সুখজিন্দর সিং পান্ধের ও তাঁর ভাই। তাদের দাদা দেশভাগের সময় পশ্চিম পাঞ্জাব ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন।
সংস্কার করা মসজিদের মেঝেতে বসে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে চা পান করতে করতে পান্ধের বলেন, ‘এখানে কাউকে আলাদা চোখে দেখা হয় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঈদ ও শিখদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব গুরুপরব—দুই সম্প্রদায়ের মানুষই সমান উৎসাহে উদ্যাপন করেন।’
তাঁর কথায়, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করি। দেশের অন্য কোথাও যা-ই ঘটুক না কেন, এখানে ভালোবাসা ও ঐক্যের পরিবেশ বিরাজ করে। জাতপাত কিংবা ধর্ম নির্বিশেষে কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পাঞ্জাবের বিবেক মেনে নিতে পারে না।’
পান্ধের পাঞ্জাবের ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির সমন্বয়ের ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ষোড়শ শতকের সুফি সাধক হজরত মিয়াঁ মীরকে শিখদের পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান অমৃতসরের হরমন্দির সাহিব বা স্বর্ণমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
পাঞ্জাবের সাবেক শাহী বা প্রধান ইমাম মাওলানা হাবিব-উর-রহমান সানি লুধিয়ানভির উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় গত নয় বছরে এ ধরনের ১৬৫টিরও বেশি মসজিদ পুনর্নির্মাণ বা পুনরুদ্ধারে অমুসলিম গ্রামবাসীরা অবদান রেখেছেন।
বর্তমান শাহী ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ উসমান রেহমানি লুধিয়ানভি ২০২১ সালে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি বলেন, ‘দেশভাগ পাঞ্জাবের মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। এই রাজ্য নিজেই একটি বিপ্লবের নাম। অনলাইনে ব্যাপক বিভাজন দেখা গেলেও বাস্তবে আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো একে অপরকে রক্ষা করার পথ বেছে নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রচলিত উদ্যোগ সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কেবল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ধরনের অপপ্রচারকে পূর্বেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষ সাধারণত নিজের পছন্দের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তথ্য শুনতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং নির্দিষ্ট কিছু উৎস সেই তথ্যগুলো সামনে নিয়ে আসে। এই প্রবণতাকে ‘ইকো চেম্বার’ বলা হয়।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার উদাহরণ তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যদি কেউ বিশ্বাস করতে চান যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন এবং এরপর সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পেজ ও উৎস সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা এ ধরনের তথ্য প্রচার করছে।
তিনি বলেন, মানুষ নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তথ্য গ্রহণ করে। তবে, বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা এবং মনগড়া তথ্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে পরিচালিত এক পর্যালোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫০টি পরিকল্পিত অপতথ্য প্রচার অভিযান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।
তথ্য উপদেষ্টা আবারও বলেন, ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ঠেকাতে প্রচলিত উদ্যোগ সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কেবল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না, সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ