ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন প্রজ্ঞাপন জারি


জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

সরকার জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে আটটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের জন্য নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: রপ্তানি বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগে জাপানের সঙ্গে ইপিএ দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি: দূতাবাস

প্রজ্ঞাপনে থাকা আটটি সিদ্ধান্ত হলো-

১. পুরোনো চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন বেতন স্কেল: ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল থাকলে, তাদের চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে নতুন বেতন স্কেলের আওতায় বেতন নির্ধারণ করা হবে। এই ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী বেতন কার্যকর হবে। নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে প্রযোজ্য ভাতা তারা পাবেন।

২. নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণ: ১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবসরের পূর্বে প্রাপ্য মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে চুক্তিতে নির্ধারিত বেতন কার্যকর হবে।

৩. পেনশন বাদ দিয়ে বেতন নির্ধারণ নয়: চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে নির্ধারিত গ্রস পেনশন—কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, বাদ দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল

৪. চুক্তির মেয়াদে ইনক্রিমেন্ট ও অতিরিক্ত সুবিধা নেই: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন প্রদান করা হবে না।

৫. অবসরপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তিদের শর্ত নির্ধারণ: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও গুণাগুণ বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে। এরপর সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হবে।

৬. আগের অসংগতিপূর্ণ নির্দেশনা বাতিল: নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে।

৭. পরবর্তী সরকারি আদেশ কার্যকর হবে: বেতন-ভাতা বিষয়ে এ প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলো প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন: চীনের হুবেই প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের সাথে সচিবের বৈঠকে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

৮. ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল: অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তগুলো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সংশোধন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে জালেমন বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


মধুপুরে জালেমন বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং,

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর জালেমন বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে (৩২) নরসিংদীর বেলাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে কুড়াল ও রড দিয়ে আঘাত করে জালেমন বেগমকে হত্যা করা হয়। এ সময় তার গলায় থাকা চেইন ও কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর থানায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম। এ সময় মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ও ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ মিঠুর মা জালেমন বেগমকে (বৃদ্ধা) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ওই বাড়িতে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জবানবন্দিতে শাহ আলম দাবি করেন, তিনি সহযোগী সজিবকে সঙ্গে নিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে জালেমন বেগমের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় কুড়াল ও রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার গলায় থাকা চেইন ও কানের দুল নিয়ে তারা পালিয়ে যান।
ঘটনার পর প্রতিদিনের মতো পান খাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী রেজাউলের স্ত্রী জালেমন বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জালেমন বেগমের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে মধুপুর থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আলমকে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার নরসিংদীর বেলাব থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম আরও জানান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং তার ও মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হকের দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঞ্জাবে শিখ-হিন্দু-মুসলিমের সহযোগিতায় মসজিদ পুনর্নির্মাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


পাঞ্জাবে শিখ-হিন্দু-মুসলিমের সহযোগিতায় মসজিদ পুনর্নির্মাণ

১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ফলে বহু মসজিদ ধ্বংস ও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রায় আট দশক পরে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এগিয়ে এসে সেসব মসজিদ পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় আবারও প্রার্থনার ধ্বনি ফিরছে, এবং সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠছে।

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পাঞ্জাবের একটি অসমাপ্ত ভবনে বসে আছেন গজ্জু খান। তার মুখে হাসি এবং চোখে আশার আলো। ৮৭ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের আশা, মৃত্যুর আগে অন্তত একবার নিজের গ্রামের মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনতে পারবেন। মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সেখানে মুসলিমদের প্রার্থনার আহ্বান আবারও ভেসে উঠবে।

বর্তমানে তিনি যেখানে অবস্থান করছেন, সেখান থেকে খুব বেশি দূরে নয় চণ্ডীগড়ের তিরা মালোয়া গ্রাম। আট বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে সেখানে থাকার সময়ই তিনি শেষবার নিজের এলাকায় আজান শুনেছিলেন।

তবে এবার তার আনন্দের কারণ আরও বিশেষ। পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখিওয়াল গ্রামের যে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তার প্রায় পুরো ব্যয় বহন করছেন গ্রামের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে শিখ প্রতিবেশীরা তাকে ও তার ভাইদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি আজও তার মনে অমলিন। কিন্তু গ্রামের অবশিষ্ট ১৮টি মুসলিম পরিবারের জন্য একদিন অমুসলিম প্রতিবেশীরা মসজিদ পুনর্নির্মাণে এগিয়ে আসবেন, তা কখনো ভাবেননি তিনি।

গজ্জু খান বলেন, ‘এটি ছিল আমার নানাবাড়ি। রক্তপাত থেকে বাঁচাতে মা-বাবা আমাকে ও আমার দুই ভাইকে এখানে পাঠিয়েছিলেন। আমাদের নিজেদের গ্রামে তারা নিহত হন। লাঠি ও জ্বলন্ত মশাল হাতে টহল দেওয়া লোকজনের হাত থেকে শিখেরা আমাদের লুকিয়ে রেখেছিলেন।’

এই উদ্যোগের জন্য সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৭৭ বছর বয়সী শিখ নারী বিবি রাজিন্দর কৌরের প্রতি। তার পরিবারের কৃষিজমির একটি অংশ মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করতে তিনি নিজের নাতিকে রাজি করিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, গ্রামের অন্য সব ধর্মের মানুষের উপাসনা ও সমবেত হওয়ার জায়গা থাকলেও স্থানীয় মুসলিমদের তেমন কোনো স্থান ছিল না।

রাজিন্দর কৌর বলেন, ‘কাউকে উপাসনার জন্য জায়গা দেওয়ার চেয়ে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না। এ ছাড়া, এই মাটিতে যে রক্তপাত হয়েছে, তার জন্য ঈশ্বরের কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়েছিল। আমাদের গ্রামের মুসলিমদের নামাজ পড়তে অন্য গ্রামে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো।’

ব্রিটিশ ভারত ভাগের সময় পাঞ্জাবের মাঝখান দিয়ে সীমান্ত টেনে অঞ্চলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। এর ফলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাযজ্ঞ ও জোরপূর্বক অভিবাসন ঘটে। ভারতের অংশে থাকা পূর্ব পাঞ্জাব থেকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত হয়। এ সময় শত শত গ্রামের মসজিদ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। অনেক মসজিদ ভাঙচুর করা হয়, আবার কোনো কোনোটি গবাদিপশু রাখার ঘর কিংবা মালামাল সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

তবে গত এক দশকে পাঞ্জাবের বিভিন্ন গ্রামের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নীরবে এসব উপাসনালয় পুনরুদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন। এমনকি যেসব গ্রামে কোনো মুসলিম বাসিন্দা নেই, সেখানেও নতুন করে সংস্কার করা মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য আশপাশের জেলার মুসলিম কৃষিশ্রমিক ও ধর্মীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

জাখিওয়াল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার পুনাওয়াল গ্রাম। সেখানকার বাসিন্দা জাসপাল শর্মা হিন্দু পুরোহিতের পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজের জমি দান করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মসজিদটির উদ্বোধন উপলক্ষে পুরো গ্রামের মানুষের জন্য ভোজের আয়োজনও করেন তিনি।

৪৮ বছর বয়সী শর্মা বলেন, জমি দানের পেছনে মূলত প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ববোধ কাজ করেছে। তাদের গ্রামে মোট ৫৫০টি পরিবার রয়েছে, যার মধ্যে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা খুবই কম।

শর্মার বাড়ির ঠিক বিপরীতেই মসজিদটি অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘দিনে পাঁচবার নামাজের ধ্বনি আমাদের চারপাশে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। আমাদের ভালো লাগে। আর শুধু আমরাই নই, গ্রামের সবাই—হিন্দু ও শিখরা মিলে—সাধ্যমতো অবদান রেখেছেন। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ ইট ও সিমেন্ট দিয়েছেন।’

মালেরকোটলার উমরপুরা গ্রামের একটি স্থানীয় উপাসনালয় পুনরুদ্ধারকে নিজের পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কাজ হিসেবে দেখেন সুখজিন্দর সিং পান্ধের ও তাঁর ভাই। তাদের দাদা দেশভাগের সময় পশ্চিম পাঞ্জাব ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন।

সংস্কার করা মসজিদের মেঝেতে বসে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে চা পান করতে করতে পান্ধের বলেন, ‘এখানে কাউকে আলাদা চোখে দেখা হয় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঈদ ও শিখদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব গুরুপরব—দুই সম্প্রদায়ের মানুষই সমান উৎসাহে উদ্‌যাপন করেন।’

তাঁর কথায়, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করি। দেশের অন্য কোথাও যা-ই ঘটুক না কেন, এখানে ভালোবাসা ও ঐক্যের পরিবেশ বিরাজ করে। জাতপাত কিংবা ধর্ম নির্বিশেষে কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পাঞ্জাবের বিবেক মেনে নিতে পারে না।’

পান্ধের পাঞ্জাবের ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির সমন্বয়ের ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ষোড়শ শতকের সুফি সাধক হজরত মিয়াঁ মীরকে শিখদের পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান অমৃতসরের হরমন্দির সাহিব বা স্বর্ণমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

পাঞ্জাবের সাবেক শাহী বা প্রধান ইমাম মাওলানা হাবিব-উর-রহমান সানি লুধিয়ানভির উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় গত নয় বছরে এ ধরনের ১৬৫টিরও বেশি মসজিদ পুনর্নির্মাণ বা পুনরুদ্ধারে অমুসলিম গ্রামবাসীরা অবদান রেখেছেন।

বর্তমান শাহী ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ উসমান রেহমানি লুধিয়ানভি ২০২১ সালে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি বলেন, ‘দেশভাগ পাঞ্জাবের মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। এই রাজ্য নিজেই একটি বিপ্লবের নাম। অনলাইনে ব্যাপক বিভাজন দেখা গেলেও বাস্তবে আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো একে অপরকে রক্ষা করার পথ বেছে নিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধ সম্ভব : ডা. জাহেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধ সম্ভব : ডা. জাহেদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রচলিত উদ্যোগ সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কেবল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ধরনের অপপ্রচারকে পূর্বেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষ সাধারণত নিজের পছন্দের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তথ্য শুনতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং নির্দিষ্ট কিছু উৎস সেই তথ্যগুলো সামনে নিয়ে আসে। এই প্রবণতাকে ‘ইকো চেম্বার’ বলা হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার উদাহরণ তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যদি কেউ বিশ্বাস করতে চান যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন এবং এরপর সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পেজ ও উৎস সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা এ ধরনের তথ্য প্রচার করছে।

তিনি বলেন, মানুষ নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তথ্য গ্রহণ করে। তবে, বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা এবং মনগড়া তথ্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে পরিচালিত এক পর্যালোচনায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫০টি পরিকল্পিত অপতথ্য প্রচার অভিযান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

তথ্য উপদেষ্টা আবারও বলেন, ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ঠেকাতে প্রচলিত উদ্যোগ সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কেবল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না, সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের উদ্বেগ, সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারে শাস্তির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


জামায়াতের উদ্বেগ, সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারে শাস্তির দাবি

জামায়াতে ইসলামী গভীর উদ্বেগ ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায়।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই ক্ষোভের কথা জানান। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসাথে, তিনি নিহত তাহসিফ সাউরির রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নদী থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাবেক সামরিক কর্মকর্তার এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশবাসীর মনে গুরুতর প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা ও গাফিলতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব গোয়েন্দা সংস্থা বিমান বাহিনীর মতো একজন সাবেক কর্মকর্তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তারা আবার বিরোধীদলের নেতাদের বিরুদ্ধে আজগুবি, ভুয়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এটি হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না- তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অবহেলা করে কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না। তাহসিফ সাউরির পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%