ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইথিওপিয়ায় ড্রোন হামলায় শিশুসহ ১৪ জন নিহত


ইথিওপিয়ায় ড্রোন হামলায় শিশুসহ ১৪ জন নিহত

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে একটি আশ্রয়শিবিরে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর একাধিক ড্রোন হামলার ফলে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু রয়েছে। এই হামলার ঘটনা রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, ইয়াসিন (ছদ্মনাম) নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, ‘পরপর চারটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে আমরা ১৪ জনকে দাফন করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধী: আন্দোলন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের, কর্মসূচি একদিন পেছানো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কায় হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


মক্কায় হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি জোটের

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে যে, মক্কা অঞ্চলের দিকে আসা একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। তাদের বক্তব্য, ড্রোনটি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দ্বারা ছোড়া হয়েছিল। তবে, গোষ্ঠীটি ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি একটি পোস্টে জানান, ‘হুতি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কা অঞ্চলে শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে।’

অন্যদিকে, হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে বলেন, শুক্রবার সৌদি ভূখণ্ডের দিকে তাদের সংগঠন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। তিনি আরও বলেন, মক্কার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার সৌদি শত্রুপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুরুতর অপপ্রচার।

এর আগেই আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছয়টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতিরা। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি দেশটির সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী চালক তৈরির জন্য বিআরটিসির নতুন উদ্যোগ পিংক বাসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


নারী চালক তৈরির জন্য বিআরটিসির নতুন উদ্যোগ পিংক বাসে

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) নারীদের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) পিংক বাস চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই বাসগুলো বিভিন্ন রুটে শিগগিরই চালু হবে, যা নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

নারী চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআরটিসি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (আইসিডব্লিউএস ও প্রশিক্ষণ) প্রকৌশলী ফাতেমা বেগম। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচিত নারী চালকদের জন্য এক থেকে চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ফাতেমা বেগম বলেন, “সরকার নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই বিআরটিসি ইতোমধ্যে নারীদের জন্য নারী চালক পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে। আমরা নারীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইভি পিংক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, পিংক বাস সার্ভিস চালুর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এই সেবা কোনো মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে না; বরং নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে রক্ষণশীল পরিবারের সদস্যরাও তাদের নারীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করছেন, যাতে তারা দক্ষ চালক হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বিআরটিসি বিশেষ করে তরুণদের দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক পদমর্যাদা ও বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) নামে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসি নতুনদের বিনামূল্যে হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এই দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৮ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী হালকা মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং তাদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

ফাতেমা বেগম আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারী চালকরা তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাপ্রধান সমাজে গণপরিবহনে নারী চালক ও সহকারী থাকলে নারী যাত্রীরা বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার পিংক বাস সার্ভিস চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।”

নারী চালকদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিআরটিসির গাজীপুর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউজ্জামান বাসস’কে জানান, হালকা মোটরযানের লাইসেন্সধারী নারী চালকদের ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণের জন্য বিআরটিসি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

প্রশিক্ষণ শেষে তারা ইভি পিংক বাস পরিচালনার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে রোড পারফরম্যান্স টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের করপোরেশনের বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে না।

ভবিষ্যতে বিআরটিসির স্থায়ী চালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব প্রার্থী অগ্রাধিকার পাবেন। বিআরটিসি প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশের ২১ থেকে ৩২ বছর বয়সী এবং কমপক্ষে পাঁচ ফুট উচ্চতার নারী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। তবে অভিজ্ঞ চালকদের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত শিথিলযোগ্য।

আবেদনকারীদের কমপক্ষে এক বছর মেয়াদি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। এ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা ভারী মোটরযান চালনার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে গাজীপুরের বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় (গাড়ি চালনা) অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে।

প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ১৫ নভেম্বর বিকেলে বিআরটিসির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য মহিলা হোস্টেলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখাউড়ায় অ্যালকো-ক্যামব্রিয়ান স্কলারশিপের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


আখাউড়ায় অ্যালকো-ক্যামব্রিয়ান স্কলারশিপের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যালকো-ক্যামব্রিয়ান স্কলারশিপ পরীক্ষার আওতায় বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আখাউড়া ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। আটজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং ৭৬ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হাজারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখার কো-অর্ডিনেটর সোলেমান কবির এবং স্কুল শাখার কো-অর্ডিনেটর সাবিকুন্নাহার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাষক আনোয়ার হোসেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের অ্যালকো-ক্যামব্রিয়ান স্কলারশিপ পরীক্ষায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আশুগঞ্জ ও আখাউড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ১৫টি কেন্দ্রে মোট ৫৪ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭২৩ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বৃত্তি পেয়েছেন ৮১২ জন শিক্ষার্থী। আখাউড়া কেন্দ্রে নিবন্ধন করেন চার হাজার ৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেয় এক হাজার ৭৪৬ জন, যাদের মধ্যে ৯২ জন বৃত্তি অর্জন করেন। শনিবার অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটির জুমিয়ারা পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত, আলোচনা জুম চাষের পদ্ধতি নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


রাঙামাটির জুমিয়ারা পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত, আলোচনা জুম চাষের পদ্ধতি নিয়ে

রাঙামাটি, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ : সোনালি পাকা ধান সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে শোভা পাচ্ছে। জুমের সাথি ফসলের সমাহারও রয়েছে পাকা ধানের সঙ্গে। জুমিয়ারা এখন পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই তিন পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের প্রাচীনতম পেশা হলো জুম চাষ, যার কারণে তাদের জুমিয়া বলা হয়। যুগ যুগ ধরে পাহাড়িরা সনাতন পদ্ধতিতে জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

পাহাড়ের ঢালে ফসল চাষের এই পদ্ধতিকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘জুম’, ত্রিপুরা ভাষায় ‘হুঁ’, মারমা ভাষায় ‘ইয়া’, পাংখোয়া ও লুসাই ভাষায় ‘ইকপ্রা’, খেয়াং ভাষায় ‘লউ’ এবং খুমি ভাষায় ‘ল’ বলা হয়। তবে পাহাড়ে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাড়া অন্য ভাষাভাষীদের কাছে এটি জুম চাষ নামেই পরিচিত।

রাঙামাটির আসাম বস্তি-কাপ্তাই-মোরঘোনা সড়কের পাশের জুম চাষি ননা চাকমা বাসসকে জানান, পাহাড়ের ঢালু এলাকায় প্রথমে চাষের জন্য উপযোগী জমি নির্বাচন করা হয়। পরে নির্ধারিত স্থানে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা হয়। চাষের জমি পরিষ্কার করে চৈত্র মাসে নির্ধারিত জমির জঙ্গল এক মাসের বেশি সময় ধরে রোদে শুকানোর পর তা আগুনে পোড়ানো হয়। এরপর চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখের শুরু পর্যন্ত জমির আগাছা পরিষ্কার করে সেখানে ধানসহ নানা প্রজাতির ফসলের বীজ বপন করা হয়।

রাঙামাটির বরাদম এলাকার জুম চাষি আনন্দ চাকমা বলেন, জুম চাষে ধানের পাশাপাশি পাহাড়ের মাটিতে দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে সাথি ফসল হিসেবে কলা, ভূট্টা, মারফা, মরিচ, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল, আদা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা, তিল, ভুট্টাসহ একসাথে বিভিন্ন প্রজাতির বীজ বপন করা হয়।

পাহাড়ে বিভিন্ন জাতের জুম ধান চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে; হরিণ বিনি, পাধাতটারা, আমেই, কালা কবরক, লঙ লঙ, মেলে (কুকী), কামারাঙ, তোর্গী, বাধেইয়া, কবরক, লেঙদাচিকন, গেলঙ, পাত্তেগী, গুরি, বিনি, কবাবিনি ও লোবাবিনি।

তিনি জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই জুমের ধান পাকা শুরু হয়। ভাদ্র -আশ্বিন মাস থেকেই ঘরে তোলা শুরু হয় জুমের সোনালি ফসল। এ বছর জুমে পোকামাকড়ের উপদ্রব না থাকায় জুমের ফলন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাঙামাটির কাপ্তাই ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ে পাহাড়ে শোভা পাচ্ছে জুমের সোনালি ফসলের রঙিন আভা।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বাসসকে বলেন, চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছে। এতে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার মেট্রিক টন এবং অন্যান্য সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, পাহাড়ের একই জমিতে বারবার জুম চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘনঘন জুম চাষে সামগ্রিক ফলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে জুম চাষের আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%