১১:০৭ এম
ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়া কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
এটি কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, সোমবার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এর এক দিন আগে, অর্থাৎ রোববার, উত্তর কোরিয়া গুচ্ছবোমার ওয়ারহেডের (ক্লাস্টার বোমা) পরীক্ষা চালিয়েছিল।
আরও পড়ুন: জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না: মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে।
মঙ্গলবার কেসিএনএ জানায়, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত মাঝারি আকারের গুচ্ছবোমা বা ডিসপারসিবল ওয়ারহেডটি সর্বোচ্চ বিস্ফোরণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৫ থেকে ৬ হেক্টর আয়তনের একটি লক্ষ্যবস্তু এলাকাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির শেষ পর্যায়ের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে, যাতে লক্ষ্যবস্তুতে ওপর থেকে সরাসরি আঘাত হানার ক্ষমতা আরও নিখুঁত হয়। লক্ষ্যবস্তু এলাকার প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করেই এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে কেসিএনএ জানায়, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখার স্বার্থে এই পরীক্ষা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেলফোর ঘোষণা থেকে নাকবা: ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সশস্ত্র তৎপরতা কতটা জানত
দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, এ ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রব্যবস্থার বিভিন্ন যুদ্ধ সক্ষমতা সম্ভাব্য বহিরাগত হুমকি থেকে উত্তর কোরিয়াকে সুরক্ষা দিতে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
এদিকে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক ড্রোন, নতুন প্রযুক্তির নির্ভুল লক্ষ্যভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।
তবে সোমবারের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। এর আগের দিন রোববার উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়েও তারা প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ওপর, উত্তর কোরিয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ওই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন নয়। ফলে এই ধরনের পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশটির ওপর নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
আরও পড়ুন: ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে সৌদি আরামকো
রোববারের পরীক্ষার বিষয়ে সোমবার জানতে চাইলে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জ্যাং ডো-ইয়ং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য ও কারিগরি সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া থেকে উৎক্ষেপণ করা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র বা উড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সব সময় প্রকাশ্যে তথ্য জানায় না।
জ্যাং ডো-ইয়ং বলেন, নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম এবং সক্ষমতার সুরক্ষা, সামরিক অভিযানের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিক সামরিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে কোনো উৎক্ষেপণের তথ্য প্রকাশ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জাপানে প্রকাশ্য পতিতাবৃত্তির বৃদ্ধি, ক্রেতাদের শাস্তির দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন