ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে সৌদি আরামকো


ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে সৌদি আরামকো

নতুন রপ্তানি পথ খুঁজছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি সৌদি আরামকো। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনে দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতিও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন এইচ নাসের বিকল্প রপ্তানি পথ এবং বিদেশে অতিরিক্ত তেল মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালাপানি অবকাঠামোয় হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটকে আরো তীব্র করেছে।" এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুতর প্রভাব পড়েছে।

তবে তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী রয়েছে। তার ভাষ্য, "কর্মীদের নিষ্ঠা, কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা, ব্যবস্থার নমনীয়তা এবং কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা সরবরাহ নেটওয়ার্কের কারণে এ কঠিন সময়েও গ্রাহকদের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।"

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আকাশচুম্বী ‘গরিবের জ্বালানি’ এলপিজির দাম, রিকশাচালকদের দুর্দশা

তিনি আরো বলেন, বিকল্প রপ্তানি পথের মধ্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূলে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নাসের উল্লেখ করেন, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির ওপর ভর করে অগ্রাধিকার পাওয়া প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে সৌদি আরামকো। এর মাধ্যমে বিশ্বের পরিবর্তিত জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মূল্য সৃষ্টি অব্যাহত রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতের কারণে রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ও তেল অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় আরামকোর উৎপাদন কমেছে। বিশেষ করে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি হামলার শিকার হওয়ায় তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে দেশটির পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগর পর্যন্ত তেল পরিবহন করে।

এ পরিস্থিতিতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতির মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে চাইছে সৌদি আরামকো।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলা হতে পারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলফোর ঘোষণা থেকে নাকবা: ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সশস্ত্র তৎপরতা কতটা জানত ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


বেলফোর ঘোষণা থেকে নাকবা: ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সশস্ত্র তৎপরতা কতটা জানত ব্রিটেন

ফিলিস্তিনে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রশাসন বিস্তারিত তথ্য জানত। এমনকি এই কর্মকাণ্ডগুলোকে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তাও প্রদান করেছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্কাইভসে সংরক্ষিত একসময়কার গোপন গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনে হাগানাহ, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাংয়ের মতো ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গ্রাম ধ্বংস, নারী ও শিশু হত্যা এবং ফিলিস্তিনের বাইরে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল।

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ঘোষণা করেন। তবে ওই ঘোষণায় স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের বিদ্যমান অ-ইহুদি জনগণের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না করার শর্তও রাখা হয়েছিল। সে সময় ফিলিস্তিনের জনসংখ্যার বড় অংশই ছিল অ-ইহুদি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইহুদিবাদী আন্দোলন বেলফোর ঘোষণাকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত ছিলেন না। ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর এমআই৫-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের প্রধান জেমস রবার্টসন এক গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বেলফোর ঘোষণা ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনকে বাধ্য করেনি। তার মতে, ইহুদিবাদী আন্দোলন ঘোষণাটির মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিল।

রবার্টসন ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ইহুদিবাদী আন্দোলনের তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন—ব্যাপক প্রচার, অনিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তার এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইহুদিবাদী আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবি ও সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

সন্ত্রাসের নিন্দা করলেও সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহ

ব্রিটিশ নথিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হ্যারল্ড ম্যাকমাইকেল লন্ডনকে জানান, ইহুদি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠন সশস্ত্র হামলার নিন্দা করলেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।

একই বছরের অক্টোবরে ম্যাকমাইকেল পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মূল্যায়ন ছিল, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ইহুদি জনগণের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহানুভূতি বাড়ছিল। তবে তার এই পর্যবেক্ষণ থেকে ইহুদি সম্প্রদায়ের সবাই হামলাকারীদের সমর্থন করতেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ব্রিটিশ গোয়েন্দা নথিতে ইরগুনের প্রচারপত্রের কথাও রয়েছে। এসব প্রচারপত্রে ফিলিস্তিনে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা বাড়ে যে, ফিলিস্তিন থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থামবে না।

ইহুদি এজেন্সির কার্যালয়ে বোমা হামলা নিয়ে প্রশ্ন

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ জেরুজালেমে ইহুদি এজেন্সির সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ব্রিটিশ আর্কাইভের নথিতে উঠে এসেছে। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। নিহত সবাই ছিলেন ইহুদি। এ ছাড়া ৩৩ জন গুরুতর আহত এবং ৫১ জন সামান্য আহত হন।

ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ হাইকমিশনার স্যার অ্যালান কানিংহামের একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে মার্কিন কনস্যুলেটের একটি গাড়ি ইহুদি এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করেছিল। গাড়িটির চালক ছিলেন মার্কিন কনস্যুলেটে কর্মরত ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান আন্তন কামিলো দাউদ। তিনি গাড়িটি চত্বরে রেখে ট্যাক্সিতে করে চলে যান।

ইহুদি এজেন্সির একজন নিরাপত্তাকর্মী গাড়িটি ও চালককে চিনতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে জানান। পরে ওই ট্যাক্সিচালক তদন্তকারীদের বলেন, দাউদ তাঁকে জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িটি সেখানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।

ব্রিটিশ তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, ইহুদি এজেন্সি তদন্তে সহযোগিতা করেনি। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাগানাহর সদস্যরা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করতে বাধা দেন। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নথিতে উত্থাপিত এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে ব্রিটিশ উদ্বেগ

১৯৪৮ সালের মার্চে এমআই৫-এর পরিচালক পার্সি সিলিটো দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের টনটনে এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, ইহুদি এজেন্সি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে তাদের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ভবিষ্যতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে এসব প্রতিনিধি কূটনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন, যা বিদেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করতেন, নতুন রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা কাঠামো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটেনের কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ১৯৪৮ সালের একটি গোয়েন্দা নথিতে ইহুদি এজেন্সিকে সম্ভাব্য ইহুদি সরকারের মতো একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সেখানে নিজস্ব সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হাগানাহর নজরদারির কথাও উল্লেখ ছিল।

ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা ও বাস্তুচ্যুতির তথ্য ছিল ব্রিটিশদের কাছে

১৯৪৮ সালের এপ্রিল নাগাদ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গ্রামে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার বিস্তারিত তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে থাকে। ৯ এপ্রিল জেরুজালেমের কাছাকাছি আল-কাস্তাল গ্রামে হামলার বিবরণ দিয়ে একটি বার্তা পাঠান হাইকমিশনার কানিংহাম। এতে বলা হয়, ইহুদিবাদী যোদ্ধারা মর্টার ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে গ্রামটির বাড়িঘরে হামলা চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

পরবর্তী একটি ব্রিটিশ বার্তায় এক ইহুদি মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ওই হামলায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরো ২০০ জন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

ওই মুখপাত্র আরো স্বীকার করেন, আল-কাস্তালে হামলার বিষয়ে হাগানাহর আগে থেকেই জানা ছিল। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বাইরেও তৎকালীন ট্রান্সজর্ডান পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিটিশ নথিতে তিবেরিয়াস হ্রদের কাছে নাসর আল-দিন গ্রামে প্রায় ২০০ ইহুদিবাদী যোদ্ধার হামলার তথ্যও রয়েছে। ওই ঘটনায় নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। একই বছরের ১৪ এপ্রিল তিবেরিয়াসের একটি ফিলিস্তিনি বাজারে মর্টার ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনটি বাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়।

ইহুদি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আরব লিজিয়নের ভূমিকা

ব্রিটিশ আর্কাইভে সংরক্ষিত ১৯৪৮ সালের ২৮ মে তারিখের আরেকটি নথিতে জেরুজালেমের ইহুদি কোয়ার্টারের আত্মসমর্পণের পর সেখানকার ইহুদি বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিদের সঙ্গে জর্ডানের আরব লিজিয়নের আচরণের বিবরণ রয়েছে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর জর্ডানের বাহিনীর কাছে ওই এলাকার আত্মসমর্পণের সময় লিজিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ আল-তাল।

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন স্পেনের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি পাবলো দে আজকারাতে। তার বিবরণ অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের পর ইহুদি বন্দি ও বেসামরিক নাগরিকদের হয়রানি করা হয়নি। আরব সেনারা বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের সহায়তা করেছিলেন। বিচ্ছিন্নভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটলে আরব লিজিয়ন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

আল-তালের ভূমিকার প্রশংসা করে আজকারাতে বলেন, তার নেতৃত্বে পুরো অভিযানে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তার এই সাক্ষ্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। পরে ব্রিটিশ ও মার্কিন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেরুজালেমে ব্রিটিশ মিশনের পাঠানো এক বার্তায় মার্কিন কনস্যুলেটকে আরব লিজিয়নের আচরণ সম্পর্কে জানানোর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, এ বিবরণ মার্কিন সাংবাদিকদের কাছেও পৌঁছাবে।

নথিতে উঠে আসা ব্রিটিশদের জানা তথ্য

ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিক তথ্য ছিল। ব্যালফোর ঘোষণার ব্যাখ্যা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আপত্তি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ—সবই এসব নথিতে উঠে এসেছে।

১৯৪৮ সালের নাকবার আগে ফিলিস্তিনে কী ধরনের সহিংসতা চলছিল এবং সে সম্পর্কে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কতটা অবগত ছিল, তা বুঝতে এসব দলিল গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


৭ নভেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬ ঘণ্টা টোল ফ্রি

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য ছয় ঘণ্টা টোল মওকুফ করা হয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের জন্য ওই দিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো টোল দিতে হবে না।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টোল ফ্রি সুবিধা কার্যকর থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে, ২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রবীণ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে, যেখানে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা তরুণদের তুলনায় বেশি থাকবে।

এই তথ্যটি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উঠে আসে।

সেমিনারে বক্তারা যুবসমাজের সঠিক ব্যবহার, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রবীণদের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে প্রবীণপ্রধান সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে কেয়ার ইকোনমি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক গিগ ইকোনমির কর্মীদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা খুবই জরুরি।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, সরকার শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবায় দক্ষ জনবল তৈরিতে কেয়ার ইকোনমির প্রসার ঘটাচ্ছে।

তিনি সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং কেয়ার ইকোনমি প্রসারে বিশেষ প্রশিক্ষণ চালুর কথাও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি ২০৫০ সালের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি শিক্ষাব্যবস্থা সর্বজনীন ও বিশ্ববাজারের উপযোগী করার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা এবং চাইল্ড কেয়ার ব্যবস্থার গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জনসংখ্যাগত সুবিধার দুই দশক সময় পার হওয়ার আগেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রবীণদের টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট

চট্টগ্রামের কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাশের রেললাইনেও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধের কার্যক্রম চালান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করতে শুরু করেন।

নিহত শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন ছাত্রী আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুটি লরি প্রতিযোগিতার মতো চলছিল। এক লরি অপর লরিকে চাপ দিলে সেটি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে বাসটি উল্টে যায় এবং নিহত মাইশা সেটির নিচে চাপা পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফুল হক বলেন, "দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পথচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো সাড়া দেয়নি। তাই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ ও পথচারী-সেতুর দাবিতে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।"

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজন লরি দুটি আটক করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি দুটি ও মিনিবাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা মুনির চৌধুরী জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিষয়টি দেখভাল করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%