০৩:৫৩ পি.এম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আমলের অবহেলিত স্বাস্থ্য খাত এবং চিকিৎসা পদ্ধতিকে বদলে দেওয়া হবে।
তিনি রবিবার সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। ওই সময়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৯ তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিণত করা হবে। তিন ধাপে, দেশের সকল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
তিনি জানান, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের চিকিৎসা খাত মারাত্মকভাবে অবহেলা হয়েছে। সকল খাতে লুটপাটের পাশাপাশি চিকিৎসা খাতেও ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। দায়বদ্ধতার অভাবের কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ, অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন, অ্যান্টি স্নেক ভেনমসহ জরুরি ইনজেকশন হাসপাতালের বাইরে বিক্রি করা হতো। রোগীদের ওষুধ দেওয়া হতো না, এবং রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকরা খারাপ আচরণ করতেন। অনেক স্থানে চিকিৎসকরা নিয়মিত হাসপাতালে আসতেন না। ডাক্তার-নার্সরা রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এই ধরনের অভিযোগের নোট পেয়েছি।
তিনি আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্য খাতকে নতুন শৃঙ্খলার মধ্যে চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সংকট এবং রোগীদের সেবা সহজীকরণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামীতে ১৫১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর পরে এই হাসপাতালগুলোতে প্রসূতি নারীদের জন্য ২৫ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড এবং শিশুদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড রাখা হবে। এছাড়া, কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্য খাত ও চিকিৎসা সেবার পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটবে।
আরও পড়ুন: চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮২টি খেলার মাঠ গড়ার উদ্যোগ : প্রশাসক
এর আগে সকালে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময়, তিনি হাসপাতাল সেবা নিতে আসা রোগীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান ও খাবারের মান নিয়েও রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।
এ সময়, সরকারি বিভিন্ন দফতর ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন