০৯:৪৮ পি.এম
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে প্রথমে সোমবার (২৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোর ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে, দুপুর ১টার দিকে তাকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে দীপু মনিকে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে আনা হয়েছিল। তিনি অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছিলেন এবং রবিবার রাত থেকে অসুস্থ বোধ করলে ভোরে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
ডিএমসিতে পাঠানোর পর তাকে ভর্তি করানো হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার কারণে আবার মুন্সীগঞ্জের কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীপু মনিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলু জানান, মুন্সীগঞ্জ কারাগারে ৬১ বছর বয়সী ডা. দীপু মনিকে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দীপু মনির কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত রোগ রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা বিপজ্জনক না হলেও চিকিৎসকরা মনে করেছেন তার আরও একটু ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন, তাই ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ আরও জানান, দীপু মনি আগে থেকেই এসব রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং প্রায়ই চেকআপ ও চিকিৎসা করতে হয়।
দীপু মনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আগে দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি রয়েছেন। অনেকেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন