০৩:৫৮ পি.এম
শেরপুরের ভারতঘেঁষা সীমান্ত বর্তমানে মাদক ও চোরাচালানের অঘোষিত বাজারে পরিণত হয়েছে। জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন দেশে প্রবেশ করছে মাদক, ভারতীয় কসমেটিকস, গরুসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে। আর অর্থের প্রলোভনে কর্মহীন দরিদ্র মানুষকে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিলপাড়, নকশি, রাংটিয়া, লোহার ব্রিজ, গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, তাওয়াকুচা, বালিজুড়ি, কর্ণজোড়া, রাবার বাগান, বারোমারি, খলচান্দা, নাকুগাঁও, বরুয়াজানী, রাধার বাঁধ, পানিহাটা ও শালবাগানসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্ট চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক পাহাড়ি এলাকায় মজুত করে পরে ট্রাক, বাস, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজিবির সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ময়মনসিংহ সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১১৪ জন কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী মিছিল বের করার চেষ্টা, গ্রেফতার
স্থানীয় সমাজকর্মী ছাইফুল ইসলাম মানিক মন্তব্য করেন, বর্তমানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই মাদকের বিস্তার রোধ করা জরুরি।
ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া গ্রামের সমাজকর্মী রবিউল ইসলাম রোমান অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে মাদক কারবারিরা সক্রিয় রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন এবং তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকার পরও মামলাটি অগ্রসর হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, কর্মহীন মানুষকে মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ, হয়ার কারনে প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপি নেতা নিহত,
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের অভাব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা অসহায় মানুষকে ব্যবহার করছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন