১১:১৩ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিড়ালের মরদেহ, যা গলা কাটা অবস্থায় ছিল। এই ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একইসাথে, ক্যাম্পাসে প্রাণীদের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) সকালে মোকাররম ভবনের ফার্মেসি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে একটি কর্মচারী বিড়ালটির মরদেহ দেখতে পান।
এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিড়ালটির মরদেহ ভবনের পেছনের ল্যাবের কাছে সিঁড়িতে পড়ে ছিল। এরপর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেটিকে পলিথিনে মুড়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করার চেষ্টা চললেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সিঁড়ির মাঝামাঝি স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা বেশকিছু দিন ধরে অকার্যকর। এছাড়াও, ভবনের কিছু অংশ ক্যামেরার আওতার বাইরে মিশে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মরদেহের আশেপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, বিড়ালটিকে অন্য কোথাও হত্যা করে পরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর, ভবনের নিচতলাসহ ওই আশপাশে রক্তের দাগ বা অন্য কোনো আলামত খুঁজা হলেও কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব আসিক বলেন, "একটি নিরীহ প্রাণীর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কীভাবে কেউ করতে পারে, তা ভাবতেই কষ্ট হয়। এটি মানসিক বিকারের পরিচয় বহন করে।" তিনি বলেন, ঘটনার স্থলে কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগের বিষয়।
প্রাণীদের চিকিৎসা এবং কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংগঠন ‘কেয়ার ডিইউ’র প্রধান নির্বাহী মো. সাদিক মুনওয়ার বলেন, "এর আগেও আমরা ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানুষের, প্রাণীর এবং প্রকৃতির সহাবস্থানের একটি নিরাপদ এবং মানবিক ক্যাম্পাস হিসেবে তৈরি হোক।"
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে জানান, বিড়ালটির প্রতি সহিংসতার ঘটনাটি তার জানা ছিল না।
ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যেকোনো দৃষ্টিকটু ও অবিবেচনাপ্রসূত ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়।" তিনি বলেন, "যদি এমন ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকে, তা জানালে কিংবা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।"
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন