বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে মৌলভীবাজারের মনুনদী রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও কমলগঞ্জের ধলাই নদীর মখাবিল নামক এলাকায় বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙনের গঠন ঘটেছে। এর ফলে রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশকয়েকটি গ্রাম ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উজিরপুর গ্রামের লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির বস্তা ব্যবহার করে বাঁধ আটকানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আকস্মিকভাবে পানির চাপের কারণে রাজনগর উপজেলার উজিরপুর এলাকার বাঁধ মুহূর্তে ভেঙে যায়। এর ফলে টেংরা ইউনিয়নের বেশকয়েকটি গ্রামের মানুষ প্লাবিত হয়ে যান।
অন্যদিকে, কমলগঞ্জের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অভাব থাকার কারণে গত ভোর রাত থেকেই বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হতে থাকে। এর ফলে উপজেলার আদমপুর এবং ইসলামপুর ইউনিয়নসহ বেশকিছু গ্রামের মানুষ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে রাস্তাঘাটেরও পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ মনু জানান, ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙনের ঘটনাটি তিনি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসার ফলে জেলার সবকটি নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে মনু ও ধলাই নদী দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে জাল টাকা সহ ১৯ বছরের যুবক শাওন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবারের বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গবড়া এলাকা থেকে এই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাওন ওই এলাকার সুজন মিয়ার পুত্র। এই গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার ৫’শ টাকার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে কুতুবপুর গবড়া এলাকার হারুনুর রশিদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শাওন মিয়াকে গ্রেফতারসহ তার দেহ তল্লাশী করে পকেটে থাকা ৫’শ টাকার ১৫১টি জাল নোট উদ্ধার হয়।
র্যাব কর্মকর্তার মতে, বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওন দীর্ঘকাল ধরে জাল টাকা সংরক্ষণ, বিতরণ ও বাজারজাত করার সাথে জড়িত ছিল। এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরসহ শাওনকে হস্তান্তর করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায়। সেই সাথে র্যাব প্রতিটি এই ধরনের চক্রকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্কে উদ্ধার করে আনা হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ গত এক বছর ধরে বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে রয়েছে। সম্প্রতি অন্য একটি হাতির আক্রমণে হাতিটির দুটি পা ভেঙে যায়। এখন হাতিটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
রাজু বাহাদুর আহত হওয়ার পর থেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশি-বিদেশি চিকিৎসক দলের সদস্যরা নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছেন তাকে সুস্থ করার জন্য। তবে হাতিটির অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় বাঁচার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাতিটি বর্তমানে শুয়ে শুয়ে খাবার গ্রহণ করছে এবং নিয়মিত চিকিৎসার কার্যক্রমও চলছে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাতিটি আগের তুলনায় অনেক কম খাবার খাচ্ছে। প্রাণীটিকে সুস্থ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে এখনো এটি দাঁড়াতে পারছে না।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, গত ২৪ মে অন্য একটি হাতির ধাক্কায় হাতিটি মাটিতে পড়ে যায়। পরে এক্স-রে পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় হাতিটির পা ভেঙে গেছে। ঘটনা পরবর্তীতে ক্রেনের সাহায্যে হাতিটিকে বালুর ওপর স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ওই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিনই একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হাতিটির চিকিৎসা চলছে। থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেকে治疗 দেওয়া হয়েছে। যদিও চিকিৎসক চলে গেছেন, তবে তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট হাতিটি উদ্ধার করে। এই বাজে অবস্থায় হাতিটির মাধ্যমে চাঁদাবাজি করছিলেন আতিকুর রহমান নামক এক ব্যক্তি। সে সময় হাতিটির বয়স ছিল ৯ বছর, বর্তমানে তার বয়স ১০ বছরের বেশি হয়ে গেছে। উদ্ধারের পর থেকে হাতিটিকে সাফারি পার্কের হাতিশালায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ শাহরিয়ার করিম রাসেল নামে এক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে। শাহরিয়ার করিম রাসেলের নাম গোয়েন্দা টপলিস্টে থাকায় তিনি আটক হন। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। আটক করা শাহরিয়ার করিম রাসেল ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর উকিলপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি বর্তমানে কালীগঞ্জের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলার শীর্ষ আসামী হিসেবে কারাগারে আটক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর আপন ভাতিজা। আটক রাসেল বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং ঝিনাইদহে ভাতিজা রাসেল নামেও তিনি পরিচিত।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র জানায়, ভারতগামী যাত্রী হিসাবে শাহরিয়ার করিম রাসেল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গেলে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার নাম শনাক্ত হয়। ইমিগ্রেশন স্টপলিস্টে তার নাম রয়েছে। এরপর তিনি ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, শাহরিয়ার করিম রাসেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬) এর অধীনে ঝিনাইদহ থানার মামলা নং-২০, তারিখ ৮ জুন ২০২৪, ধারা ৮/৯/১০/১১/১২/১৩ অনুযায়ী একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই কারণে তার নাম ইমিগ্রেশন স্টপলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, স্টপলিস্টে নাম থাকায় শাহরিয়ার করিম রাসেলকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ঝিনাইদহ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ এলে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ