শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪১ পি.এম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, যা দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত, তা আরও নিরাপদ, আধুনিক ও যানজটমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই মহাসড়কের চেহারা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচলে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ঘটনা ও যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করার জন্য গত ১৮ আগস্ট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণস্বরূপ। এই মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শুধু সড়ক প্রশস্ত করাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এআই ক্যামেরা ও অটো ফাইন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে চলাচল, বিপজ্জনক ওভারটেকিংসহ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
এআই ক্যামেরাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে। এ তথ্য থেকেই বোঝা যায়, মহাসড়কে উচ্চগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মামলা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে। এর ফলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন গতি এসেছে, তেমনি চালকদের মধ্যেও আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেছেন, প্রথমদিকে এআই ক্যামেরায় বেশি সংখ্যক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বারবার আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একজন চালক বা গাড়ির মালিককে হয়রানি না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় জনগণের আস্থাও বাড়বে।
শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়াতেও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এর আওতায় আরও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। মহাসড়কের যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। দেশের প্রধান দুই বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ যানজটপ্রবণ এলাকা। এখানে যানজট নিরসনে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পদুয়াবাজার এলাকার যানজট নিরসনে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান বাজেট সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার পুরোটাই এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েতে রূপান্তর করার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে এরই মধ্যে আমরা ডিজাইন সম্পন্ন করেছি। আশা করি অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমরা ডিপিপি প্রণয়ন করব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে শহর ও গ্রামে প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে নয়জন সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন জেনারেলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ১৩ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পূর্বে সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকা ও জনবসতিতে ব্যাপক গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলা চালিয়ে আসছিল। এরপর দেশটিতে বর্তমান ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসে।
সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়ায় একাধিক অভিযান পরিচালনার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী নয়জন সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেফতার করে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, গ্রেফতারকৃতরা ‘সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে’ এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় জড়িত ছিলেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিন জেনারেল রয়েছেন—মেনহেল আনোয়ার সালেহ, সামি ইব্রাহিম মাহমুদ এবং গিয়াথ আলি রেহিয়ে।
সানা জানায়, তাদের পরিচালিত হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছেন। পাশাপাশি শহর ও গ্রামগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। এসব ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় গত এপ্রিল মাসে।
সোমবার সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সাবেক এক জেনারেলকেও গ্রেফতার করেছে। ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানে এবং ১৯৮২ সালের হামা হত্যাকাণ্ডে ওই জেনারেল জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ওই বিক্ষোভ থেকেই পরে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
গত আগস্টে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও পাঁচ সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নতুন সরকারের আমলে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম রায়।
ক্ষমতা হারানোর পর বাশার আল-আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি রাশিয়ায় বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান যেন খাদের কিনার থেকে সরে আসতে পারছে না। তাদের পারফর্ম্যান্স তিন বিভাগেই অত্যন্ত ম্লান। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে ব্যাটিং। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা এখন শুধুমাত্র ম্যাচের ফলাফলের বিষয় নয়, বরং ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে। তাদের ব্যাটিং বিপর্যয় এবার ১১৯ বছরের পুরোনো এক লজ্জার রেকর্ডের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
তিনটি টেস্টে পাকিস্তান একবারও ২০০ রান করতে পারেনি! টেস্ট ক্রিকেটে সর্বশেষ এমন ব্যাটিং দুর্দশা দেখা গিয়েছিল ১১৯ বছর আগে। সেই বিরল লজ্জার রেকর্ডের সামনে এখন পাকিস্তান।
তিন টেস্টের সিরিজে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কোনো সম্পূর্ণ ইনিংসে ২০০ রান করতে সক্ষম হয়নি। তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ থেমেছে মাত্র ১৩৩ রানে। প্রথম দুই টেস্টেও তারা বড় সংগ্রহের দেখা পায়নি।
এতে সামনে এসেছে একটি বিরল পরিসংখ্যান। টেস্ট ইতিহাসে সর্বশেষ কোনো দল তিন বা তার বেশি টেস্টের একটি সিরিজে কোনো সম্পূর্ণ ইনিংসে ২০০ রান করতে পারেনি ১৯০৭ সালে। সেই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংও ছিল অত্যন্ত বিবর্ণ। তাদের সর্বোচ্চ সম্পূর্ণ ইনিংস ছিল ১৭৮ রান।
অর্থাৎ, যদি পাকিস্তানের তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ২০০ রান না আসে, তাহলে ১১৯ বছর পর আবারও কোনো তিন টেস্টের সিরিজে একটি দল ২০০ রানের গণ্ডি ছুঁতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা দেখা যাবে।
তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তান এখন নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করছে, স্কোরবোর্ডে ৫২ রান নিয়ে, ইতোমধ্যে ২ উইকেট হারিয়েছে। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে তাদের এখন চাই ২৬৮ রান। তবে আপাতত তাদের লক্ষ্য ১৪৮ রান। সেটি হলেই কেবল পাকিস্তান এই লজ্জার রেকর্ড থেকে মুক্তি পাবে।
পাকিস্তানের সামনে তাই এখন শুধুমাত্র ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই নয়, বরং ইতিহাস এড়ানোর লড়াইটাও রয়েছে। এখন তাদের সামনে প্রশ্ন একটাই—শেষ ইনিংসে কি তারা ২০০ রান ছুঁতে পারবে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হওয়ার পর জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা এবং পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই কৃতজ্ঞতা জানান।
অভিনেত্রী তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, "জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন সবসময় মনে রাখবেন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে।"
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঁধন লিখেছেন, "কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা, যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত; ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।"
তিনি তার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বাঁধন লেখেন, "যখন আমার সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল।"
এছাড়া, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢালিউডের এই অভিনেত্রী।
সবাইকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি শেষ করেন, "আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।"
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী-সমর্থক তার ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।
ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন তার পাশে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে অসংখ্য মানুষ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার লালবাগে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার রুমের পাশের বারান্দায় মাটি খুঁড়ে পুলিশ একটি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় একজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনির (৪৩) নামে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লালবাগ থানা পুলিশ মো. মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করেছে এই ঘটনায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তিন লাখ টাকা সুদে নেওয়ার কারণে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসিম রনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আটক মাসুম চৌধুরী ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবনের পাশে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা ছিল।
মাসুমের দুলাভাইয়ের দাবি, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসিম রনির সঙ্গে মাসুমের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পাওনা টাকা চাইতে ওয়াসিম রনি মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। সেখানে টাকা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান বলেও জানান তিনি।
মাসুমের দুলাভাই আরও জানান, পরে পুলিশের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। ওই স্থানেই মাটি দিয়ে মরদেহটি চাপা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। শুক্রবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওয়াসিমের যোগাযোগ হয়। ওই দিন তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি চেক দেওয়ার কথা ছিল বলে তারা জানতে পারেন। তার বড় বোনের স্বামীর সঙ্গে ওয়াসিমের ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তাদের ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়টিও তিনি জানতেন বলে জানান মুরাদ।
মুরাদ হোসেন বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে শুরু করেন। একই সঙ্গে ওয়াসিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। মাসুমের স্ত্রী ওয়াসিমের বিষয়ে কোনো খোঁজ জানেন না বলে জানান। তিনি শুধু বলেন, ওয়াসিম বাসায় এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন।
কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে ওয়াসিম নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নভাবে ওয়াসিমের সন্ধান চালানো হয়।
মুরাদ হোসেন জানান, একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, ওয়াসিমকে হত্যা করে একটি ভবনের নিচতলার পাশের মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। পরে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, ওয়াসিমের মরদেহ লুকিয়ে রাখতে আট বস্তা মাটি এনে বাসার পাশে তাকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, তার বোনের স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এখন তার বোন ও পরিবারের কী হবে—এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। তার ভাষ্য, তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, ওয়াসিমকে হত্যার পর তার হাত-পা বেঁধে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার শরীরে আঘাতের ধরন, মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডিসি তালেবুর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ