শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০১ এম
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কমিটি অনুমোদন করেছে দলটি। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সাবেক রুকন সদস্য আবদুল মান্নানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনসিপির নোয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে ২৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়। এই কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক, খন্দকার দিদারুল আলমকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ ফারুককে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
জামায়াতের সাবেক রুকন সদস্য আবদুল মান্নান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
উপজেলা জামায়াতের আমির জামাল উদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "৫ আগস্টের পর শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আবদুল মান্নানের রুকনিয়ত সদস্য বাতিল করা হয়। দীর্ঘ এক বছর তার পদ স্থগিত ছিল। পরে তিনি নিজের ইচ্ছায় এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।"
এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কমিটি অনুমোদনের পর রাত ১১টা ২৭ মিনিটে খন্দকার দিদারুল আলম নিজের ফেসবুক আইডিতে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
দিদারুল আলমের দাবি, সুবর্ণচরে এনসিপির কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের নেতারা অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করেছেন এবং এ বিষয়ে আগে থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি।
তবে দিদারুল আলমের অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির নোয়াখালী জেলা আহ্বায়ক কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর জানান, "উপজেলা সংগঠকদের কাছ থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। পদপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "খন্দকার দিদারুল আলম সাক্ষাৎকার দেননি এবং তার জীবনবৃত্তান্তও জমা দেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অব্যাহতির ঘোষণা দিলেও জেলা কমিটির কাছে দিদারুল আলমের কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি। ফলে জেলা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানে না বলে জানান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক।
নবগঠিত সুবর্ণচর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান বলেন, "আমরা স্থানীয়ভাবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে জেলা কমিটির কাছে তালিকা পাঠিয়েছিলাম। জেলা কমিটি যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই আহ্বায়ক করেছে। এ নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই।"
দিদারুল আলমের পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান আরও দাবি করেন, "দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে জেলা কমিটির কাছে কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ থাকায় তাকে আহ্বায়ক করা হয়নি। এরপরও আমাদের অনুরোধে তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এখন তিনি পদত্যাগ করতে চাইলে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ককপিটে কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দিয়েছে।
জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৩ মিনিট) উড়োজাহাজটি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ জানিয়েছেন, বিমানে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ার পর প্রকৌশলীরা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের কাজ শুরু করেন। পরে বিমানের ইঞ্জিনিয়ার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল সফলভাবে ফ্লাইটটির ত্রুটি সারাতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের নিয়ে বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিং শেষে বিমানটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। তবে রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটে ‘স্পয়লার’ সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিসংকেত দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উড়োজাহাজটিকে নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামে নামে যমে টানে বলে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে। তবে যমে না টানলেও আলাস্কায় নাম বিভ্রাটের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলাস্কার দুই প্রার্থীর নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বর্তমানে আলাস্কার সিনেটর রিপাবলিকান। ডেমোক্র্যাটরা এই আসনটি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই আসনটি দখল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে নাম নিয়ে বিতর্ক।
আলাস্কার বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটরের নাম ড্যান এস. সুলিভান। তবে এবারের ব্যালটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র নামের আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি কোনো দলের প্রার্থী নন। তবে বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যে আগে থেকেই হৈচৈ শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, একই নামের দুই প্রার্থী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কিন্তু গত জুন মাসে আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে দ্বিতীয় ড্যান সুলিভানের প্রার্থিতা বৈধ এবং তার নাম ব্যালটে থাকবে। যে কোনো নির্বাচনকে আগে থেকেই বিতর্কিত করে রাখতে ট্রাম্প শিবিরের জুড়ি নেই। হারলে যাতে অজুহাত তৈরি থাকে, সেজন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আলাস্কায় তো অজুহাত তৈরি হচ্ছে।
গত ২২ অক্টোবর মার্কিন বিচার বিভাগ আলাস্কার ফেডারেল আদালতে একটি নজিরবিহীন মামলা করেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, যদি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে যান, তবে আলাস্কা রাজ্য সরকার যেন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল শংসাপত্র জারি করতে না পারে। পরদিন অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তিনি নিজেই বিচার বিভাগকে এই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে আলাস্কার নির্বাচন কর্মকর্তারা এবং রাজ্যটির আইন বিভাগ এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি হলো, আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের নির্বাচন কিভাবে পরিচালিত হবে বা ব্যালটে কে থাকবে—তা সম্পূর্ণ রাজ্য আইনের বিষয়, এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
মুখপাত্র স্যাম কার্টিস বলেন, ‘ব্যালটে প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা রাজ্য আইনের বিষয়, কোনো ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় আইন নয়।’ কিন্তু আইনের চেয়ে রাজনীতিতে মানুষের ধারণাই সব সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে নিউইয়র্ক টাইমস এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। গত ২৮ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেক্সট মেসেজ ও নথির বরাত দিয়ে উন্মোচন করা হয়, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচার শিবির ও জাতীয় ডেমোক্র্যাটিক দল পরিকল্পিতভাবে আলাস্কার ভোটার তালিকা ঘেঁটে ‘ড্যান সুলিভান’ নামের লোকদের খুঁজে বের করেছিল।
উদ্দেশ্য ছিল— একই নামের ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং বর্তমান সিনেটরের ভোট কেটে পেলটোলাকে জেতানো। তবে মেরি পেলটোলার প্রচার শিবির এই নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা একে ‘নোংরা রাজনীতি’ ও ’কারচুপি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এভাবে ছায়া প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন নয় এবং এটি আইনিভাবে নিষিদ্ধ বা অবৈধও নয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি ট্রাম্পের শোচনীয় জনপ্রিয়তার রেটিং, উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম এবং অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল আলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি বিরল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তবে চাইলেও আলাস্কার ভোটারদের বিভ্রান্ত করা অত সহজ নয়। নাম নিয়ে বিতর্কের কারণে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে আলাস্কার নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপারে বড় ধরনের পার্থক্য করে দিয়েছে। বর্তমান সিনেটরের নামের পাশে স্পষ্ট করে লেখা থাকবে— ড্যান এস সুলিভান (রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান, বর্তমান পদাধিকারী)।
অপর প্রার্থীর নাম লেখা থাকবে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র এবং তার পাশে কোনো দলীয় প্রতীক বা রাজনৈতিক দলের নাম থাকবে না। তাছাড়া আলাস্কায় ‘র্যাংকড-চয়েস’ ভোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্রমানুসারে (১ম পছন্দ, ২য় পছন্দ) ভোট দিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাপক প্রচার ও কড়াকড়ির কারণে সাধারণ ভোটাররা এখন সতর্ক, যার ফলে এই ডামি প্রার্থীর কারণে ভোটের ফলাফলে খুব বড় পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা কম। ভোটাররা বিভ্রান্ত হোন আর না হোন, রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেলে যে ভবিষ্যতে এ বিতর্ক অনেকদূর যাবে, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানাটির পরিদর্শনে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারটি ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, কারখানায় পৌঁছানোর পর টয়োটা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে গাড়িতে ওঠার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে গাড়িটিতে ওঠেন।
১৯৩৫ সালে টয়োটা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ ‘টয়োটা মডেল এ-ওয়ান’ তৈরি করা হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৩৬ সালে টয়োটার প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী গাড়ি ‘টয়োটা মডেল এএ’ নির্মিত হয়। বর্তমানে জাপানের টয়োটা সংগ্রহশালায় গাড়িটির প্রতিরূপ সংরক্ষিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার আগে এই ব্যয়ের হিসাব প্রকাশিত হলো। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হাতে আগামী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
বুধবার পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া তহবিলের ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এ কর ও ব্যয়ের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। এই আইনটি চলতি বছরের শুরুর দিকে কার্যকর হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের ব্যয় অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের কাছে পেন্টাগনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বোমা, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের জন্য ৭৬০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। নৌবাহিনীর প্রায় দুই ডজন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সেনাদের কার্যক্রম সচল রাখতে স্থলবাহিনীর ব্যয় হয়েছে ২১০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাঁরা বড় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন ছোট অগ্রবর্তী অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ৬১০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী সেনাদের পরিবহন ও সহায়তায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং মার্কিন সেনাদের চিকিৎসাসেবায় আড়াই কোটি ডলারের কাছাকাছি ব্যয় হয়েছে।
কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন কমান্ডের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার। সাইবার সহায়তা কার্যক্রমে সাইবার কমান্ড ব্যয় করেছে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
তবে এই হিসাবের বাইরে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয়। যুদ্ধজাহাজ ও উড়োজাহাজ চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক বোঝা আরও বাড়তে পারে।
যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট ছয়জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ২২। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮৬৫ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ