০২:৪৪ এম
পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন কমার নামই নিচ্ছে না। জেলায় একই পরিবারের নয় সদস্যের মধ্যে সাতজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি মৌসুমে এই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধীরগতির কারণে রোগীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার তিন বছরের শিশু মুনতাহা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন ধরে জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার মা, যিনি মেয়ের পাশে থাকার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তিনিও একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মুনতাহা ও তার মায়ের মতো, নয় সদস্যের পরিবারের সাতজনই বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
রোগীদের অভিযোগ, ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অত্যাবশ্যক হলেও সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত ও প্লাটিলেট পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি
শিশু মুনতাহার বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সাতজনের রক্ত পরীক্ষা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। হাসপাতালে যদি দ্রুত রক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যেত, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হতো।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিনশরও বেশি। তীব্র শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বেড না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।
শুধু শিশু মুনতাহার পরিবারই নয়, জেলা হাসপাতালে এখন এমন অনেক রোগী রয়েছেন, যারা পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়ে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৪ জনে পৌঁছেছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসকদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে হাসপাতালের চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে, সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আরও পড়ুন: বীরগঞ্জে আদিবাসীদের মিলনমেলায় বাঁশি-দোতারার সুরে শত বছরের ঐতিহ্য উদযাপন
একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় ও ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি হাসপাতালেও তৈরি হয়েছে শয্যা সংকট। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও কার্যকর জনসচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন