১২:৩১ পি.এম
রাশিয়ার হামলার তীব্রতা বাড়ার মধ্যে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় মিত্ররা সোমবার কিয়েভে বৈঠকে বসেছে। বৈঠকে আলোচনা হবে ইউক্রেনের জন্য জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বাড়ানো এবং মস্কোর ওপর আরও চাপ তৈরির বিষয়ে, এ ব্যাপারে আশা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমানে ২০২২ সালের যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত এই জোটের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা।
আরও পড়ুন: ইরাকের আল-ফাও উপকূলে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর এই হচ্ছে তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফর, যেখানে তিনি কিয়েভে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, বেশ কিছু দেশের নেতা অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেবেন বলেও জানা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাও বৈঠকটি সফল করতে কিয়েভে যাচ্ছেন।
এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় আবাসিক ভবনগুলোর ধ্বংস হয়েছে এবং রাজধানীতে বহু লোক নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার হামলার তীব্রতার কারণে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার হিসাব হবে ৩ নভেম্বর
প্রায় প্রতিটি হামলার পর কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন বেসমেন্ট ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদের সংখ্যা বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রকাশ্যে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
সোমবার ইউক্রেন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে, যা ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সাড়ে চার বছরের পূর্তি দিবসও।
কিয়েভে যাওয়ার আগে একটি বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রাশিয়ার কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছিয়ে যাব না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ইউক্রেনের ব্যাপক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া, যা কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত
রাশিয়ার শর্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে, যা ইউক্রেনের মতে আত্মসমর্পণের সমান এবং এর ফলে রাশিয়া ভবিষ্যতে আবারও হামলা চালানোর সুযোগ পাবে।
এদিকে, শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনকে তার আকাশ রক্ষা এবং এই আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
রাশিয়া যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে, সেগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং অনেক উঁচু পথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। ফলে এগুলোকে মাঝপথে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
ইউক্রেনের নিজস্ব অস্ত্র ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর সক্ষমতা রাখছে না। তাই আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য দেশটি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলো ‘অর্ণব’, আঘাত হানবে বুধবার?
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ইউক্রেন পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন