রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫১ পি.এম
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের গ্রেফতার করেছে। তবে, এসব বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি বা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হওয়ার কোনো অভিযোগ ছিল না।
আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বসবাস করছিলেন। তাদের সাথে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকেও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ কিছু পাওয়া যায়নি পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দ্বারা। কিন্তু, রাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির চেষ্টায় মরিয়া পলাতক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকায় ঝটিকা মিছিল করছে।
ককটেল বা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে গেছে তারা। অথচ, এ বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য ছিল না দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে। গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে রাজধানীর গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঝটিকা মিছিল করছে পলাতক ফ্যাসিস্টদের দোসররা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঝটিকা মিছিলের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যদিও দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিষ্ক্রিয়।
নির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে সঠিক গোয়েন্দা তথ্য না পাওয়ার কারণে মিছিল শুরুর আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে একযোগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচনা হচ্ছে খোদ সরকারের ভেতর থেকেও।
রোববার পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিছিল হবে এরকম আগাম কোনো তথ্য ছিল না। সাধারণত এনএসআই ও এসবি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া সিআইডি, ডিএমপির নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট এবং থানার সিভিল ইউনিটও আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এর বাইরে ডিজিএফআইও নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত র্যাব ও পুলিশ আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কিন্তু গুলশানে আওয়ামী লীগের এত বড় মিছিলের আগাম কোনো তথ্য ছিল না। ফলে পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখে গুলশান ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ৪৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সবাইকে এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত লিখিত ও ম্যাসেজ আকারে সংস্থাগুলোর সদর দপ্তরে আগাম তথ্য পাঠানো হয়। দপ্তর প্রধানরা সেই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের জানান। আর বাহিনী প্রধানরা সে অনুযায়ী আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। গুলশানের ঘটনায় তেমন কোনো আগাম তথ্য মাঠ থেকে যায়নি। কেন এমনটা হলো তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। সেখানে নানা বিষয় উঠে এলেও গোয়েন্দা ব্যর্থতার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তারা মিছিলের কোনো আগাম তথ্য পায়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট উঠে এসেছে যে, পরিকল্পনাটি হয়েছে গুলশানের বাইরে। বাইরে থেকে এসে তারা গুলশানে জড়ো হয়ে হঠাৎ করেই মিছিল করে পালিয়ে গেছে। যে কারণে মিছিলের আগে কোনো আগাম তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। এদিকে, মিছিলের ঘটনাটি নিছক গোয়েন্দা ব্যর্থতা, নাকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবহেলা, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানামুখী আলোচনা। মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা ইচ্ছা করেই এরকম তথ্য সংগ্রহ করেনি, নাকি তথ্য থাকার পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেনি- তা নিয়েও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে চলছে বিশদ আলোচনা।
আওয়ামী লীগ উঁকি মারছে—এমন মন্তব্য করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন করেন, গোয়েন্দারা কোথায়? তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি হঠাৎ করে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা করছে। এত মানুষ কীভাবে জড়ো হলো, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা জানত না কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। পুলিশ প্রশাসন কী করছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হলেও দলটির কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তার অভিযোগ, আন্দোলনের সময় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আগের সেই ‘জিঘাংসু’ চেহারা নিয়েই ফিরে আসতে চায়, তাহলে দেশের পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষের শঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার পর থেকেই পুলিশের ওপর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তীব্র প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এভাবে একযোগে মিছিল করতে পারল, সে বিষয়ে কড়া জবাব চাওয়া হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল কারণ গোয়েন্দা তথ্যের চরম ঘাটতি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন। তাদের মতে, আগে থেকে সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়িয়ে মিছিল শুরু হওয়ার আগেই তা পণ্ড করে দেওয়া সম্ভব হতো।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ক্ষমতাচ্যুতির পর ঝটিকা মিছিল এবং বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মীদের সক্রিয় রাখার নতুন কৌশল নিয়েছে দলটি। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা রুখতে পুলিশ বাহিনীকে হাই-অ্যালার্টে রেখে গোয়েন্দা সমন্বয় বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে আগেই কঠোর সতর্কবার্তাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কোথায়, কখন এবং কারা সংগঠিত হচ্ছে— এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সময়মতো না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। মিছিল শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
পুলিশের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে এ ধরনের ঝটিকা কর্মসূচি পালন নিঃসন্দেহে বড় উদ্বেগের বিষয়। পুলিশের নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে সব স্থানের আগাম গতিবিধি জানা সম্ভব নয়, তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মাঠপর্যায়ে সময়মতো তথ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুক্রবারের ঘটনাগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু হয়েছে এবং ঠিক কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে জড়ো হয়ে দলীয় স্লোগান ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। কোথাও পুলিশ তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে, আবার কোথাও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের এআইজি এ. এইচ. এম. শাহাদাত হোসাইন ইনকিলাবকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো ঘটনায় গোয়েন্দা ঘাটতি থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদককে বলি না, শিক্ষা ও সৃষ্টিশীলতায় এগিয়ে চলি সর্বদা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের হলরুমে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আ. হালিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক মো. শামসুল আলম ফকির, কলেজের অভিভাবক সদস্য মো. হারুন অর রশীদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহে আলম এবং সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এর প্রভাবে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃষ্টিশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতাও অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাবুগঞ্জ থানার এসআই মো. মাসুদ রানা বলেন, মাদক অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আ. হালিম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কের পাশে ও নোঙর এলাকার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি সাবাড় করার কাজ চলছে। শ্রমিকদের ব্যবহার করে কোনো প্রকার গোপনীয়তা ছাড়াই পাহাড়ের মাটি কেটে ট্রাক ও ঠেলাগাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে পাহাড় ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়ছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এমন কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ছবিতে পাহাড় কাটার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের একটি অংশ কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। কাটা পাহাড়ের মাটি সরানোর জন্য একাধিক ঠেলাগাড়ি ও মাটি কাটার সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল কেটে প্রায় খাড়া করে ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি কাটার ফলে পাহাড়ের ওপরের অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি ও জায়গা সমতল করার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ বুঝে তারা পাহাড়ের মাটি কেটে নেয়। কখনো শ্রমিকদের দিয়ে হাতে-হাতে মাটি সরানো হয়, আবার কখনো বিভিন্ন যানবাহনে করে কাটা মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে ধীরে ধীরে ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।
পাহাড় কাটায় বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকি
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল কেটে ফেলার কারণে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির পানি পাহাড়ের কাটা অংশে প্রবেশ করলে মাটি নরম হয়ে ধসের সৃষ্টি করতে পারে। এতে আশপাশের বসতি, সড়ক ও মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কক্সবাজারে পাহাড়ধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর পরও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ফের শুরু হয় একই তৎপরতা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাইপাস সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপথের পাশে কীভাবে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা সম্ভব হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দিনের বেলায় শ্রমিক লাগিয়ে পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড যদি চলতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কাটার নেপথ্যে শুধু শ্রমিকরা নয়; এর সঙ্গে জমির মালিক, দখলদার, মাটি ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যোগসূত্র থাকতে পারে। তাই শুধু ঘটনাস্থল থেকে শ্রমিক ধরে বা সরঞ্জাম জব্দ করে অভিযান শেষ করলে পাহাড় কাটা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
সচেতন মহলের দাবি, বাইপাস সড়কের পাশে ও নোঙর এলাকায় যেখানে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা হোক। কারা পাহাড় কাটছে, কার মালিকানাধীন বা দখলে থাকা জায়গায় কাটাকাটি চলছে, কাটা মাটি কোথায় যাচ্ছে এবং এর পেছনে কারা অর্থ ও নির্দেশনা দিচ্ছে—এসব বিষয় অনুসন্ধান করা জরুরি।
পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পাহাড়খেকো চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে কাটা পাহাড়ের পরিমাণ নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা হচ্ছে কি না তা যাচাই এবং ভবিষ্যতে যাতে ওই এলাকায় আর পাহাড় কাটা না হয়, সে জন্য স্থায়ী নজরদারির দাবি উঠেছে।
কক্সবাজারের পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি জননিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। পাহাড় কেটে বসতি, স্থাপনা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হলে একসময় এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে।
তাহলে বাইপাস সড়কের পাশে পাহাড় কাটার এ অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে জেলার অন্যান্য এলাকায় অভিযান পরিচালনা, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং পাহাড় কাটার নেপথ্যের মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে, পাহাড় কেটে সাবাড় হওয়ার পর অভিযান নয়—পাহাড় কাটার সময়ই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কক্সবাজারের অবশিষ্ট পাহাড়ও একদিন শুধু ছবিতে দেখা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে সাংবাদিক কাজী আশরাফ (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মাহমুদুল হাসান অনিক নামে একজন আরোহীও আহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপীনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের পুত্র ছিলেন। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের লোহাগড়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের জামাতার সনি চৌধুরী জানান, রোববার সকালে কাজী আশরাফ ও মাহমুদুল হাসান অনিক ব্যক্তিগত কাজে লোহাগড়া থেকে মোটরসাইকেলে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা যখন ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছান, তখন মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়।
এ সময় খুলনাগামী দোলা পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে কাজী আশরাফ ও তার বন্ধু মাহমুদুল হাসান গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কাজী আশরাফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, সকালে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের মনসুরাবাদ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগে বসতঘর হারানো পাঁচটি পরিবার নতুন বাড়ি লাভ করেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে এই বাড়িগুলি নির্মাণ করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিশা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারগুলোর হাতে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়। তারেক রহমানের পক্ষে চাবি হস্তান্তর করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। উল্লেখ্য, তারেক রহমান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনী শহরে হরতালের সমর্থনে বের হওয়া মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ। তার পরিবারের জন্যও একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রেক্ষিতে গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সোনাপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগে পাঁচটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সামগ্রীও হারিয়ে পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়ে।
তারেক রহমানের নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।
চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি, সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ