ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিয়ামতের মহিমা ও কৃতজ্ঞতার অমর বাণী


নিয়ামতের মহিমা ও কৃতজ্ঞতার অমর বাণী

মানবজীবন মহান আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামতে পরিপূর্ণ। মাটি, পানি, আলো, বাতাস, বিবেক ও জ্ঞান—এসবই মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ। তথাপি, মানুষ অনেক সময় মহান আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যায়। পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রহমান আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত ও তাঁর প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। আর-রহমান শব্দের অর্থ পরম করুণাময়। সুরাটির শুরুতেই মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর করুণার পরিচয় তুলে ধরেছেন।

সুরা আর-রহমান পবিত্র কোরআনের ৫৫তম সুরা। এর আয়াতসংখ্যা ৭৮। পারা ২৭। এই সুরার একটি বিশেষত্ব হলো মহান আল্লাহ তাআলা এখানে একটি আয়াত ৩১ বার পুনরাবৃত্তি করেছেন। আয়াতটির অর্থ হলো, "তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?" বিভিন্ন নিয়ামত ও সৃষ্টির নিদর্শন বর্ণনার পর বারবার এই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিনকে তাঁর অনুগ্রহ স্মরণ করতে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আহবান জানিয়েছেন।

সুরা আর-রহমানের আয়াতগুলোতে ছন্দোময় ভাষা, অন্ত্যমিল ও অপূর্ব বর্ণনাশৈলী লক্ষ্য করা যায়। এর শ্রুতিমধুর উপস্থাপন এবং নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতার গভীর বার্তার কারণে একে নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতার মহাকাব্য হিসেবে অভিহিত করা যায়। সুরাটির ছন্দোময় বর্ণনা পাঠকের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সৃষ্টিজগতের প্রতি উপলব্ধি জাগিয়ে তোলে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "প্রতিটি জিনিসেরই একটি সৌন্দর্য রয়েছে, আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।" (শুআবুল ঈমান, হাদিস ২২৬৫)

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া হাফেজ হীরাকে সংবর্ধনা

এই সুরায় মহান আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতের বিভিন্ন নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সমুদ্রের বিস্ময়কর নিদর্শনের কথাও আছে। সুরাটির ১৯ ও ২০ নম্বর আয়াতে দুটি সমুদ্রের মিলন এবং তাদের মাঝখানে অন্তরালের কথা বলা হয়েছে। অনেকেই এর উদাহরণ হিসেবে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থল অর্থাৎ মরক্কো ও স্পেনের মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালির কথা উল্লেখ করেন। সেখানে পানির লবণাক্ততা, তাপমাত্রা ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন জলস্তরের বৈশিষ্ট্য আলাদা থাকতে পারে। এ ধরনের প্রাকৃতিক নিদর্শন মানুষকে সৃষ্টিজগতের বিস্ময় নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।

সুরা আর-রহমানের ফজিলত সম্পর্কে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে সুরা আর-রহমানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেছিলেন। পরে তিনি জানান, জিনদের সামনেও তিনি এই সুরা তিলাওয়াত করেছিলেন। তখন তারা "তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে"—এই আয়াতের জবাবে বলেছিল, "আমরা আমাদের রবের কোনো নিয়ামতকেই অস্বীকার করি না; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।" (তিরমিজি, হাদিস ৩২৯১)

এই বর্ণনা থেকে আল্লাহর নিয়ামতের স্বীকৃতি এবং তাঁর প্রশংসা করার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। সুরা আর-রহমানের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর অসংখ্য নিয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন এবং একই প্রশ্ন বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে আহবান জানিয়েছেন।

সুরাটি আমাদের শেখায়, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁর দেওয়া নিয়ামত সঠিকভাবে ব্যবহার করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং ন্যায়ের পথে চলাও জরুরি। সৃষ্টিজগতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, সম্পদের অপচয় রোধ এবং অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসাও নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারের অংশ।

আরও পড়ুন: রায়পুরে বিএনপি নেতার আয়োজনে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

পরিশেষে বলা যায়, সুরা আর-রহমান আল্লাহর রহমত, নিয়ামত ও মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়। এর ছন্দোময় বর্ণনা, নিয়ামতের পুনঃ পুনঃ স্মরণ এবং পরকালীন জবাবদিহির বার্তা মানুষকে আত্মসমালোচনার সুযোগ করে দেয়। এর মর্ম উপলব্ধি করে ব্যক্তিজীবন ও সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারলেই কৃতজ্ঞতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইপিএলের আগে চেন্নাই সুপার কিংসে আয়ুশের গুরুতর ইনজুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


আইপিএলের আগে চেন্নাই সুপার কিংসে আয়ুশের গুরুতর ইনজুরি

আগামী মৌসুমের আইপিএল শুরুর পূর্বে চেন্নাই সুপার কিংস বড় ধাক্কা খেয়েছে। দলের তরুণ ক্রিকেটার আয়ুশ মাত্রে আবারও গুরুতর ইনজুরির শিকার হয়েছেন। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পাওয়ার কারণে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ককে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ফলে তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন।

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে আয়ুশের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এই সার্জারি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত চিকিৎসক দিনেশ পারদিওয়ালা। অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং শুক্রবার থেকে ক্রাচে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটার চেষ্টা শুরু করেছেন তিনি। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে তার অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

গত ১১ অক্টোবর রঞ্জি ট্রফিতে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলতে গিয়ে রান নেওয়ার সময় আয়ুশ ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-৪ টিয়ারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা এরপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

এই বছর ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার একের পর এক ইনজুরির সম্মুখীন হচ্ছেন। গত এপ্রিলে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে খেলার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পেয়েছিলেন। সেই ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে তাকে প্রায় তিন মাস পুনর্বাসনে কাটাতে হয়েছিল। মাঠে ফেরার কিছু মাসের মধ্যে আবার নতুন করে ইনজুরিতে পড়লেন তিনি।

আয়ুশের ইনজুরির কারণে রঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের ওপেনিং জুটিতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী ম্যাচে হিমাচল প্রদেশের বিপক্ষে জয়সওয়াল জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার কারণে এবং আয়ুশের ছিটকে যাওয়ায় নতুন ওপেনিং জুটি হিসেবে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী ও দিব্যাংশ সাক্সেনাকে মাঠে নামানো হয়েছে মুম্বাইয়ের পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, তবে তিনি ছিলেন না উপস্থিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, তবে তিনি ছিলেন না উপস্থিত

সংগীতশিল্পী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের গাড়ির দিকে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার ভোরের দিকে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলির সময় আসিফ আকবর গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

এ ধরনের গুলির ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য জানা যায়নি। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কোনো বিরোধ রয়েছে কিনা, সেটাও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে ভাতিজার হাতে চাচি খুন, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


কুড়িগ্রামে ভাতিজার হাতে চাচি খুন, আহত ৩

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে চাচি সোনা বানুকে (৪৫) হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে তার ভাতিজা ফারুক হোসেনের (৩২) বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ফারুকের চাচা খলিল হোসেন (৫০), বোন মমিনা খাতুন (৩৫) এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা বেগম (২৬) আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর বারবান্দা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ফারুককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

নিহত সোনা বানু ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। অভিযুক্ত ফারুক একই গ্রামের মৃত জয়নাল জোদ্দারের ছেলে। তিনি দুবাই প্রবাসী ছিলেন এবং প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফিরেছেন।

স্বজনদের দাবি, দেশে ফেরার পর থেকে ফারুকের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় এবং তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ফারুক তার মা ও ছেলে মাহমুদুলকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। তাদের উদ্ধার করতে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে গেলে ফারুক ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রথমে চাচি সোনা বানুকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে তিনি চাচা, বোন এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত সোনা বানু ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে স্থানীয় লোকজন ফারুককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত তিনজনকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওছার আলী আরটিভি নিউজকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই ভাইয়ের মায়ের জন্য আদালত বসেছিল সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়: সউদীর অমর আইনি লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


দুই ভাইয়ের মায়ের জন্য আদালত বসেছিল সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়: সউদীর অমর আইনি লড়াই

প্রতিদিন পৃথিবীর আদালতে অসংখ্য মামলা উত্থাপিত হয়- সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা, টাকার লোভ, অথবা অধিকার কেড়ে নেওয়ার দ্বন্দ্ব। বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মানুষে মানুষে চলে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করার লড়াই। কিন্তু এমন একটি আদালতকক্ষ কল্পনা করা যায় কি, যেখানে দুই ভাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, চোখের জল ফেলে বিচারকের কাছে প্রার্থনা করছেন- "দয়া করে আমাদের মাকে আমাদের কাছে দিন, মায়ের সেবা করার সৌভাগ্যটুকু থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না!"

বর্তমানের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় যখন বৃদ্ধাশ্রমের ভারী দরজায় বাবা-মায়ের নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস ঝরে, তখন সন্তান নিজের একটু স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মা-বাবাকে বোঝা মনে করে ফেলে- ঠিক তখন সউদী আরবের এই ঘটনা পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এটি ভালোবাসার প্রকৃত সংজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিরল সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট:

সউদী আরবের এই হৃদয়বিদারক ভালোবাসার গল্পটি মূলত এক শতায়ু (প্রায় ১০০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী) বৃদ্ধা মাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। দুই ভাই- বড় ভাই হিজাম আল-গামদি এবং তার ছোট ভাই- দুজনেই মায়ের দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। বড় ভাই হিজাম বছরের পর বছর ধরে নিজের সমস্ত জীবন মায়ের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। বিয়ে পর্যন্ত করেননি, চাকরিও খোঁজেননি, মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকাটাই ছিল তার জীবনের একমাত্র শান্তি ও ধ্যানজ্ঞান।

অন্যদিকে, ছোট ভাইও চুপ করে বসে ছিলেন না। তার যুক্তি ছিল- বড় ভাই বয়সের ভারে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এখন তার নিজের বিশ্রামের প্রয়োজন। তাই মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব যেন তাকে দেওয়া হয়।

যখন কোনোভাবেই দুই ভাইয়ের এই মধুর দ্বন্দ্বের মীমাংসা হচ্ছিল না, তখন বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই ভাইয়ের চোখে ছিল শুধু আকুতি- সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়, মা নামের পরম স্বর্গের অধিকার পাওয়ার আকুতি।

বিচারকের সামনে মায়ের সেই হৃদয়বিদারক উত্তর

বিচারক যখন দেখলেন দুই ভাইয়ের কাউকে বোঝানো যাচ্ছে না, তখন তিনি খোদ সেই শতবর্ষী মাকে এজলাসে হাজির করার নির্দেশ দিলেন। বিচারক সস্নেহে বৃদ্ধা মায়ের কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কার সাথে থাকতে চান-বড় ছেলের কাছে, নাকি ছোট ছেলের কাছে?

মায়ের চোখে তখন জল গড়িয়ে পড়ছে। তিনি বিচারককে উদ্দেশ করে কাঁপাপা কণ্ঠে যে কথাটি বললেন, তা শুনে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারক এবং কাঠগড়ার মানুষগুলোর সবার বুক ফেটে কান্না এল। মা বললেন, "বাবা বিচারক! আমার এক ছেলে আমার ডান চোখ, অন্য ছেলে আমার বাম চোখ। বলো, মানুষ কি কখনো নিজের দুই চোখের মধ্যে একটিকে বাদ দিতে পারে? আমি কাকে ছেড়ে কার কাছে যাব? দুজনেই আমার চোখের মণি!"

মায়ের এই উত্তর পুরো আদালতকক্ষকে স্তব্ধ করে দেয়। কোনো সম্পত্তি বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নয়, এই লড়াই ছিল শুধুই অপরিসীম ভালোবাসা আর মায়ের সেবা পাওয়ার প্রতিযোগিতা।

শেষ পর্যন্ত বিচারক বাস্তবতার খাতিরে রায় দেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে। কারণ ছোট ভাই তুলনামূলক তরুণ এবং তার নিজের পরিবার থাকায় মায়ের সেবায় আরও বেশি শারীরিক শক্তি ও সাহায্য নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। বড় ভাই হিজাম যখন এই রায় শুনলেন, তখন তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল- তবে তা কোনো ক্ষোভ বা হতাশার নয়, বরং মায়ের সেবার সৌভাগ্য হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সীমাহীন বেদনা থেকে। রায় ঘোষণার পর দুই ভাই কোনো বিবাদ নয়, বরং একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদে ফেলেন।

একটি আয়না, আমাদের ভাবনার খোরাক

আজকের আধুনিক সমাজে যেখানে শেকড় ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যাচ্ছে, যেখানে সন্তানরা নিজের ক্যারিয়ার ও দুনিয়াবি সুখে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে- সেখানে এই সউদী ভাইদের ঘটনা আমাদের বিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে যায়।

যে সমাজে হাজারো মা-বাবা অবহেলায় চোখের জল ফেলেন, সেই একই দুনিয়াতে এমন সন্তানও রয়েছে যারা মায়ের একটু ছোঁয়া পাওয়ার জন্য, মায়ের পা দুটি টিপে দেওয়ার জন্য আদালতের কাঠগড়ায় বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

এভাবে বলা যেতে পারে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে, পৃথিবীতে প্রতিটি মা-বাবার কপালে যেন এমন সন্তানই জোটে। আর যে সন্তানরা আজ মা-বাবাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, এই গল্পটি যেন তাদের হৃদয়ের গভীরে গিয়ে আঘাত করে-কারণ মা-বাবা চলে গেলে দুনিয়ার সব আদালত খুঁজেও তাদের আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

উল্লিখিত ঘটনাটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত হয় সউদী আরবে, তবে এই ধরনের আরেকটি ঘটনা সেখানে ২০১২ সালেও ঘটেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%