ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’ ধসে পড়েছে


৫৫০ বছরের পুরোনো ‘হোলে সি আর্চ’ ধসে পড়েছে

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে প্রায় ৫৫০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা হাওয়াইয়ের বিখ্যাত প্রাকৃতিক খিলান ‘হোলে সি আর্চ’ অবশেষে ধসে পড়েছে। এই প্রাকৃতিক স্থাপনা, যা আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি হয়ে প্রায় ৯০ ফুট উঁচু ছিল, সমুদ্রের ঢেউ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের কারণে ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খিলানটি অক্ষত ছিল। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে সেটি ধসে পড়ে।

হাওয়াই দ্বীপের হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কের চেইন অব ক্রেটার্স রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান ছিল। বহু বছর ধরে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করতেন, এবং খিলানটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ছিল তাদের অন্যতম আকর্ষণ।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে নিয়ে উদ্বেগ-হতাশায় ৭১% মার্কিন নাগরিক: জরিপ

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলোর প্রভাবে পার্কের বিভিন্ন এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পার্কের বেশিরভাগ অংশ খুলে দেওয়া হয়। তখনই জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচিত হোলে সি আর্চ আর নেই। তবে এটি ঠিক কখন ধসে পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রায় ৫৫০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি পাথরের স্তরে প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খিলানটির সৃষ্টি হয়েছিল। নরম ও শক্ত পাথরের অংশ সমানভাবে ক্ষয় না হওয়ায় সমুদ্রের ঢেউ ধীরে ধীরে পাথর কেটে খিলানের আকৃতি তৈরি করে। ভূতত্ত্বে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিফারেনশিয়াল ইরোশন’। বছরের পর বছর ঢেউ, বাতাস ও আবহাওয়ার প্রভাবে কাঠামোটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট অংশটুকুও ভেঙে সমুদ্রে পড়ে যায়।

খিলানটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বহু বছর ধরেই ছিল। ২০১৮ সালে কিলাউয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও সংশ্লিষ্ট ভূমিকম্পের ফলে আশপাশের পাথুরে এলাকায় ফাটল সৃষ্টি হয় এবং উপকূলের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে ফাটল ও অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরোনো পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই বছরের মার্চে খিলান থেকে দূরে একটি নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা তৈরি করা হয়।

২০২০ সালের পর ট্রপিক্যাল স্টর্ম ডার্বির সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে খিলানটির নিচের অংশ থেকে বড় একটি পাথরের খণ্ড ভেঙে পড়ে। তখনই কাঠামোটির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসও সতর্ক করেছিল, প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে একদিন খিলানটি ধসে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পক্ষে গেলে হবে ঐতিহাসিক ভুল : জেলেনস্কি

‘হোলে সি আর্চ’ নামটির পেছনেও রয়েছে স্থানীয় প্রকৃতির ইতিহাস। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘হোলে’ স্থানীয় একটি উদ্ভিদের নাম, যার বৈজ্ঞানিক পরিচয় ওক্রোসিয়া। সেই উদ্ভিদের নাম থেকেই খিলানটির নামকরণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সমুদ্রের ঢেউয়ে লাভার পাথর ক্ষয় হয়ে খিলানের মতো আকৃতি তৈরি হওয়ায় এর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘সি আর্চ’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের খিলান দেখতে শক্ত ও স্থায়ী মনে হলেও এগুলো প্রকৃতপক্ষে ক্ষয়শীল ভূপ্রাকৃতিক কাঠামো। সময়ের সঙ্গে খিলান ভেঙে পাথরের স্তূপ বা বিচ্ছিন্ন সমুদ্র-স্তম্ভ তৈরি হতে পারে। একই উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন খিলানও সৃষ্টি হতে পারে।

হোলে সি আর্চ ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জায়গাটির পুরোনো ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে পরিচিত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য এখন ইতিহাসের অংশ। প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী ধরে প্রকৃতির নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা খিলানটির পতন আবারও মনে করিয়ে দিল প্রকৃতির সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়; অবিরাম ক্ষয়ের কাছে একসময় হার মানতে হয় পাথরের তৈরি বিস্ময়কেও।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেল ও ডিজেলের দাম এত বাড়ছে কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


তেল ও ডিজেলের দাম এত বাড়ছে কেন?

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহের অভাবের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৯ লিটার) ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তেল শিল্প ও বাজারবিষয়ক বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসনের মতে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর আগে ইউরোপ সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত।

দ্বিতীয়ত, রাশিয়া বর্তমানে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির ডিজেল রপ্তানি কমে গেছে বলে জানান অ্যাটকিনসন।

তৃতীয়ত, চীনও ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, সরবরাহ কমলেও ডিজেলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য কাটার মৌসুম চলমান থাকায় এই চাহিদা কিছুদিন বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন অ্যাটকিনসন।

সরবরাহের অভাব এবং চাহিদার উচ্চতা এই চাপই বর্তমানে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

এই সংবর্ধনা শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সদর) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমতাজুর রহমান, বিজিবিএমএস, সিপিএমএস, এনডিইউ, পিএসসি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল ড. মো. তাজুল ইসলাম, এমফিল, শ্রীউন্নতি, এইচএসসি।

অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে প্রধান অতিথি তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলা মাধ্যমের দুইজন এবং ইংরেজি ভার্সনের দুইজন কৃতী শিক্ষার্থী তাঁদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমতাজুর রহমান কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "ভালো ফলাফল শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।" অর্জিত সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়ম-শৃঙ্খলা, সততা, পরিশ্রম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল ড. মো. তাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "জিপিএ-৫ অর্জন একটি মাইলফলক। তবে জীবনের প্রকৃত সাফল্যের জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ।"

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে কলেজের শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। বিশেষ আকর্ষণ ছিল লালনগীতি ও নৃত্য পরিবেশনা। এসব পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আনন্দিত করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবিতে দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চালু হলো ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


রাবিতে দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চালু হলো ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’

পরীক্ষার হলে খাতা-কলমের অনুপস্থিতি এবং প্রশ্নপত্রের স্তূপ নেই। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সহযোগিতায় সরাসরি ডিজিটাল প্লাটফর্মে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষার ব্যবস্থার যাত্রা শুরু করেছে, যা কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির এই সিস্টেম তৈরি করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’-এ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্লাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল, ভুল উত্তরের সঠিক উত্তর এবং ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন।

উদ্ভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, সিস্টেমটিতে একটি সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক রয়েছে, যা শিক্ষকরা সহজেই প্রশ্ন তৈরি ও একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময় কমে আসবে, ফলাফল দ্রুত প্রকাশিত হবে এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

এছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার, সময়ের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে।

আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শনের বিষয়টি আমার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ‘ই-এক্সাম আমাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। ফলে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী।’

পদ্ধতিটির তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পরীক্ষা পদ্ধতির দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন ও আধুনিক পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন, ফলাফল প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অধিকতর সহজ ও সুবিধাজনক ব্যবস্থাপনা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আইসিই বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় চেষ্টা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর শিক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণে ২৪ জনকে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


হবিগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণে ২৪ জনকে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ

হবিগঞ্জ, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় হবিগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ২৪ জন ভূমি মালিকের জন্য ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

আজ রোববার বেলা ১১টায় বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২৪ জন ভূমি মালিকের হাতে ২৪ টি চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ।

জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চেক প্রদান অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক ও বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারী ভূমির মালিকরাও তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, প্রকল্পের আওতায় হবিগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১৪৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের প্রায় ১৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ আরও বলেন, প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম আইনানুগভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়কের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%