মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৫ পি.এম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে আসছিল একটি চক্র। দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তাদের এজেন্টরা চাকরি প্রার্থীদের টার্গেট করে পরিচিতজনদের মাধ্যমে টোপ ফেলতো। শুরুতে বলা হতো মাস্টার রোলে নিয়োগে ৩ মাস চাকরি করতে হবে। এরপর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনেই পূর্ণাঙ্গ সরকারি চাকরি হবে। চাকরির মাধ্যম হিসেবে মধ্যবয়সী একজনকে সাজানো হতো যুগ্ম সচিব। এরপর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ওয়েটিং রুমে ডাকা হতো চাকরি প্রত্যাশীদের। সেখান থেকে ক্যান্টিনে বা আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্টে নিয়ে হাতে দেওয়া হতো চাকরির নিয়োগপত্র।
অনেককে সংশ্লিষ্ট অফিসের সামনে ডেকে হাজিরা নেওয়া হতো। কাউকে কাউকে গ্রেড অনুযায়ী একমাসের বেতন অগ্রিমও দেওয়া হতো। ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে অফিস সহকারী পদের চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া কাগজ ও অভিনব কৌশলে প্রতারণা করা একটি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-মূলহোতা নিশিথ ওরফে রুবেল, তার দুই সহযোগী মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও রিংকু হোসেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ভূমি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাকরির নিয়োগপত্র, নিয়োগের পর কথিত হাজিরা খাতা, প্রজ্ঞাপন এবং পরিচয়পত্র। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে সোমবার পৃথক অভিযানে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। তারা মাত্র ৬ জন চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকেই হাতিয়ে নিয়েছে অর্ধকোটি টাকা।
ডিসি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় এই চক্রের সদস্যরা চাকরি প্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে। এই চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাবেক পুলিশ সদস্যের সন্তান থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও অন্য পেশার সন্তানরা। অনেকে জমিজমা বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিতো এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের কাছে।
প্রতারণার শিকার চাকরি প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, অধিদপ্তরে ডেকে ৭-৮ জনের একটি চক্র এমন অভিনয় করতো মনে হতো তারা ওই অফিসের প্রভাবশালী কেউ। এই চক্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের কেউ জড়িত কিনা সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন বলেন, কেউ যদি বিশেষ সুবিধায় চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিস বা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে যাচাই করা উচিত। তাহলে এই প্রতারণা কমে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের মাতা আমেনা বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
আমেনা বেগম মঙ্গলবার রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স ছিল ১০৩ বছর। তিনি চার পুত্র, পাঁচ কন্যা এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এক শোকবার্তায় জাতীয় সংসদের স্পিকার মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর সড়ক বিভাগাধীন গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী (জেড-৮০৩৩) জেলা মহাসড়কের ৪৪তম (অংশ) কিলোমিটারে কচুয়াকাঠী বেইলী সেতুর স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নতুন সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় উক্ত সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন।
সেতু নির্মাণের সুবিধার্থে কচুয়াকাঠী বেইলী সেতুর উত্তর পার্শ্বে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সওজ সড়ক উপ-বিভাগ, কাউখালীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আল-আমীন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, কচুয়াকাঠী মৌজার (জে এল নং-২৪, বিএস খতিয়ান নং-৩, বিএস দাগ নং-১৬৩) সওজ-এর জমিতে গড়ে তোলা টিনশেড, আধাপাকা বাড়ি ও দোকানঘরসহ সব ধরণের অবৈধ স্থাপনা জরুরি ভিত্তিতে অপসারণ করতে হবে।
নোটিশে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে স্থান খালি না করা হলে "মহাসড়ক আইন, ২০২১ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। জনস্বার্থে ও সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে বিষয়টিকে অতীব জরুরী হিসেবে গণ্য করতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগে ২৭টি বিমান সংস্থা এবং ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইরান সরকার অস্ত্র, জনবল এবং অবৈধ পণ্য পরিবহনের জন্য দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে ব্যবহার করছে।
মার্কিন ট্রেজারি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, ইরানের বিমান চলাচল খাত দেশের সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। এই খাতের মাধ্যমে অস্ত্র, সামরিক বা সংশ্লিষ্ট জনবল এবং নিষিদ্ধ বা অবৈধ পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে।
এই কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
২৭ বিমান সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায়
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২৭টি বিমান সংস্থা রয়েছে। পাশাপাশি বিমান চলাচল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকেও এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন সরকারের অভিযোগ হলো, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সরকারের জন্য এমন আর্থিক ও কার্যক্রমগত সহায়তা প্রদান করছে, যা দেশটির ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছে।
মার্কিন ট্রেজারি বলেছে, ইরান সরকারের জন্য ‘আর্থিক জীবনরেখা’ হিসেবে কাজ করছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটন দিয়েছিল, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা
নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরাসরি সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।
তিনি বলেছেন, “আজ আমরা ইরানের অবশিষ্ট সব বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। ইরানের এসব বিমান সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করা যে কারও জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। আপনারা বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।”
বেসেন্টের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেই থেমে থাকতে চায় না; বরং তৃতীয় কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও ইরানের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত রাখতে চাপ প্রয়োগ করছে।
নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে। নতুন করে আরও ২৭টি বিমান সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন, বিমানের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী, ইরান সরকার বিমান চলাচল অবকাঠামোকে শুধুমাত্র বেসামরিক যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট জনবল স্থানান্তরের কাজেও ব্যবহার করছে। এ কারণেই এই খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে।
নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ