শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ অক্টোবর রাজশাহী সফরে আসছেন। তার আগমনের প্রস্তুতি হিসেবে রাজশাহী শহরে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ স্থানীয় এমপি শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ বিএনপি নগর ও জেলার নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে একের পর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজশাহী এসেছিলেন। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় তিনি নির্বাচিত হলে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের কৃষকের সুখ-দুঃখ নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি এই অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল ইক্ষু চাষের উন্নয়নে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
রাজশাহী চিনিকল, গোপালপুর চিনিকল ও নাটোর চিনিকল বর্তমানে আখের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আখচাষের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। আখের সুদিন ফিরিয়ে আনতে এবং প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলে প্রাণ ফেরাতে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সফরের দিন তিনি রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে ইক্ষু চাষীদের মাঝে দ্বিগুণ অর্থপ্রণোদনা প্রদান করবেন। এই সমাবেশে ইক্ষু চাষীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করবে।
এছাড়া, সফরকালে তিনি রাজশাহীর একটি মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহের কারণে পরিবেশের ওপর যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে আরও গুরুতর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানের এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাত ও আগ্রাসনের ফলে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি একে 'ইকোসাইড' বা পরিবেশগত গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কেবল মানবজীবন ও অবকাঠামো ধ্বংস করে না, বরং এটি বনভূমি জ্বালিয়ে দেয়, জলাভূমি ধ্বংস করে, এবং মাটি ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে যায় বহু বছর ধরে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃতি যেন কোনো অবস্থাতেই সশস্ত্র সংঘাতে 'নীরব ও পরাধীন শিকার' না হয়, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে কেবল রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং পরিবেশগত সুরক্ষা এবং শান্তি কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যুদ্ধের প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ। তিনি গত ডিসেম্বর মাসে পেন্টাগনের বার্ষিক বিশ্বব্যাপী বাহিনী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রের বড় ধরনের ঘাটতি বিদ্যমান এবং এই সংকট কাটতে অন্তত পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের পূর্বে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সময় মার্কিন থাড (THAAD) ও প্যাট্রিয়ট (Patriot) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা নীতির ত্রুটি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের উৎপাদন ধীরগতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন পেন্টাগনের নির্দেশে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীন ও অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে ভবিষ্যতের যেকোনো বড় সংঘাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান উৎপাদন হার বজায় থাকলেও পুরোনো মজুত পুনরুদ্ধারে আগামী দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে মৌলিক অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচার বিভাগ ও শিক্ষা খাতে দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার দেখানো পথেই চলছে। গণভোটের রায় অস্বীকার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এই সরকারের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীর শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, বিগত নির্বাচনের পূর্বে একটি দল বলেছিল, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামী ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু বর্তমান সরকার বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আগের মতোই দলীয়করণ অব্যাহত রয়েছে। লুটপাট ও উন্নয়নকাজে ভাগ বসানোর প্রবণতা বন্ধ হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা চলে গেছে। এই অবস্থায় দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীর দিকে আশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, মাওলানা শাহজাহান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ড. খলিলুর রহমান মাদানী, সাবেক জেলা আমির আবুল হাশেম খান, জেলা আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর নায়েবে আমির খায়রুল হাসান, সেক্রেটারি আ স ম ফারুক এবং জেলা মহিলা সেক্রেটারি আমেনা বেগমসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
রুকনদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের প্রবৃত্তি, পরিবার ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে শুধু শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সফলতা আসেনি; মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, নৈতিকতা ও উত্তম আচরণে আকৃষ্ট হয়েই মানুষ ইসলামের পথে এসেছে। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামে সুদের কোনো স্থান নেই; সুদ সর্বাবস্থায় হারাম।
গাজীপুরকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত হলেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এতে দেশে কার্যত দুই ধরনের শাসনব্যবস্থা তৈরি হয়েছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি ক্ষমতাসীন দলের পছন্দ অনুযায়ী।
তিনি অভিযোগ করেন, পছন্দের লোকদের বসিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে জনগণ জামায়াতে ইসলামীর দিকে তাকিয়ে আছে। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়েও দেশে আল-কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের শুরুতে দারসুল কোরআন উপস্থাপন করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। পরে দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীরা ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পরিচয় ছিল তাঁর। বলের পর বল সীমানাছাড়া করে প্রতিপক্ষের বোলারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা সেই ব্যাটার ছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। আগ্রাসী ব্যাটিং যেন বিনোদনের এক অপরূপ রূপ। এবার, ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের ছেলে আর্যবীর শেবাগের কাছ থেকে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দেখা মিলল।
রক্তের টানে! ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে আর্যবীর ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। বাবার মতোই ওপেনিংয়ে নেমে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে ১৪৩ বলের ইনিংসটি উপহার দেন ১৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার। দিল্লির হয়ে বিধ্বংসী ইনিংসটি ১৯ চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো। দিল্লির মোট রানের ৫৯.৮৬ শতাংশ এসেছে তার ব্যাট থেকে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করে দিল্লি।
ছেলের ব্যাটিং নিয়ে আগেই নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন শেবাগ। তার পরামর্শ ছিল, বড় রানের চিন্তা না করে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে। শেবাগ বলেছিলেন, ‘আর্যবীরকে বলেছি, চাপ থাকবেই। কিন্তু মাঠে গিয়ে স্বাধীনভাবে খেলবে। নিজের সামর্থ্য প্রকাশ করবে। বড় রান করার চিন্তা করো না। নিজের খেলাটা খেললে বড় রান এমনিতেই আসবে।’
সেটারই প্রতিফলন যেন দেখালেন আর্যবীর। সম্প্রতি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক ঘটে তার। সেখানে তিন ম্যাচে তিনি করেন ১০৯ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৪৭ রানের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ