১২:৫৭ পি.এম
মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। বিরোধী দলের এমপিরা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হন।
নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী, যখন মিছিলে বাধা দেওয়া হয়। এই আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছে বিরোধী জোট। গত সপ্তাহে বৈঠকের পর থেকে বিরোধী নেতারা এই কৌশল ঠিক করতে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছিলেন। সাম্প্রতিক এই বিষয়টি সংবাদপত্রের শিরোনামে আসার পাশাপাশি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’—যাদের প্রতিনিধিত্ব করছে জেন-জি—তাদের সমর্থনও কুড়িয়েছে।
তবে ইন্ডিয়া জোটের আজকের এই মিছিলে অংশ নেয়নি জোটের দুই শরিক দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (আপ)। কংগ্রেস, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত জনদৃষ্টিতে বিষয়টি সচল রাখতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছে। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি উভয়েই চান যে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনায় থাকুক। তবে তাদের বর্তমান কৌশল হলো আগামী সংসদীয় অধিবেশন পর্যন্ত এই আন্দোলন ও গতিশীলতা বজায় রাখা।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির
এই বিষয়গুলো নিয়ে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল চূড়ান্ত করতে কংগ্রেস গত সোমবার এক বৈঠক করে। দলটি এখন নির্বাচন কমিশনকে ‘চিটিং কমিশন’ বা প্রতারক কমিশন বলে অভিহিত করছে। এরপর ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ স্তরে প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের অংশগ্রহণে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ চৌপাল (জনসভা) অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল জনসভার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় দিল্লির চারপাশ থেকে ছয়টি আলাদা র্যালি শুরু হবে। প্রতিটি র্যালির নেতৃত্ব দেবেন ভিন্ন ভিন্ন নেতা। ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে এই সবকটি র্যালি এসে মিলবে দিল্লিতে।
কংগ্রেস ভালো করেই জানে যে ২৬ নভেম্বরের পর সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হবে। তাই সেখানে এই ইস্যুটি জোরালোভাবে তোলার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্টের ওপরও তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিরোধী দলগুলো, যেখানে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছে।
আদালত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত না হলে তা স্থগিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মঙ্গলবারের এই মিছিলের পর বিরোধীরা তাদের কৌশল আরও শাণিত করবে, যাতে অন্য বিরোধী দলগুলোকেও এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা যায়।
আরও পড়ুন: কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, শোকার্ত টালিগঞ্জ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন