ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেরানীগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হত্যা মামলায় সাবেক স্বামী গ্রেপ্তার


কেরানীগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হত্যা মামলায় সাবেক স্বামী গ্রেপ্তার

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সুমা আক্তারকে (২৪) হত্যা মামলায় স্বামী সাইফুল হাওলাদারকে (৩০) চট্টগ্রাম পতেঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা থানাধীন চরপাড়া লাইটারঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি-১০ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি তপন সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ঝালকাঠির নলছিটির গোপালপুর এলাকার কালাম হাওলাদারের ছেলে।

এএসপি তপন সরকার জানান, সুমা আক্তারের সঙ্গে সাইফুল হাওলাদারের প্রায় ৫ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই সাইফুল তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৯ জুলাই তিনি সুমাকে তালাক দেন। এরপর ভুক্তভোগী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন নাজিরের বাগ এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করে একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

তিনি আরো জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর মোবাইল থেকে তার পরিবারকে সাইফুল জানায়, তিনি সুমাকে হত্যা করে মরদেহ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন নাজিরের বাগ এলাকায় ভুক্তভোগীর ভাড়াবাসায় রেখে গেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় রিহতের মা সাইফুল হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এএসপি তপন সরকার আরো জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১০, সিপিএসসি, লালবাগ, ঢাকা এবং এসআরবি-৭ একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুতুবদিয়া পর্যন্ত জলদস্যু-ডাকাত ঠেকাতে সাগরে কোস্টগার্ডের তৎপরতা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


কুতুবদিয়া পর্যন্ত জলদস্যু-ডাকাত ঠেকাতে সাগরে কোস্টগার্ডের তৎপরতা জোরদার

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া পর্যন্ত উপকূলীয় সমুদ্রসীমায় জলদস্যু-ডাকাত দমন এবং চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মাছ ধরার নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য, চোরাচালানি সিমেন্ট এবং সারও।

কোস্টগার্ডের সূত্র জানায়, টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, মাতারবাড়ী এবং কুতুবদিয়া উপকূল ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। ডাকাতি, জলদস্যুতা, মাদক এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচারের ঝুঁকি বিবেচনায় সন্দেহজনক নৌযানের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

গত ৫ অক্টোবর, কোস্টগার্ড বেস চট্টগ্রামের অধীন কোস্টগার্ড জাহাজ ‘সবুজ বাংলা’ এবং স্টেশন কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়ার দায়িত্বপূর্ণ সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের সময় সমুদ্রে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরার নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহজনক নৌযান ও ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযানে উপকূলীয় ও সমুদ্রপথে পাচারের সময় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিবহন করা সিমেন্ট ও সারও জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে সন্দেহজনক নৌযানে তল্লাশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কোস্টগার্ডের সূত্র আরও জানায়, আধুনিক সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ও উচ্চগতির স্পিডবোটের মাধ্যমে উপকূল ও সমুদ্র এলাকায় টহল দেওয়া হচ্ছে। রাডার, জিপিএস এবং আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে বিভিন্ন নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো নৌযান শনাক্ত হলে তা থামিয়ে তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে টেকনাফ উপকূল ও নাফ নদীসংলগ্ন এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে মাদক ও বিভিন্ন পণ্য পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। কক্সবাজারের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যু ও ডাকাতির ঝুঁকি মোকাবিলায় টহল অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনাফ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল ও অভিযান একদিকে জেলেদের নিরাপত্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সমুদ্রপথে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখছে।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যু-ডাকাতি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় এলাকায় আরও জোরদার করা হবে অভিযান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ২০ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ২০ জন আহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ১৩ জনের নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—তারিফ (২০), সালমান (৪), বায়েজিদ (১১), তারিন (১৬), আশরাফুল (১২), তসিবা (৯), রবিউল্লাহ (৪০), জামাল (৪৫), আব্দুল বাসার (৭০), নুর আলম (৪০), ইয়াসমিন (৩৫), তোফাজ্জল (১৭) ও সাফিয়া (৩২)। আহতরা চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল এলাকায় একটি কুকুর পথচারীদের কামড়াতে শুরু করে। পরে কুকুরটি আশপাশের আরও কয়েকজনকে কামড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পরে কুকুরটিকে পিটিয়ে মারে।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের সরবরাহ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাৎসি স্যালুটের ভিডিও প্রকাশ, ক্ষমা চাইলেন সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


নাৎসি স্যালুটের ভিডিও প্রকাশ, ক্ষমা চাইলেন সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী

পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে নাৎসি স্যালুট দিয়ে ‘হেইল হিটলার’ বলার একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী লাউলিয়ালেমালিয়েতোয়া লেউয়াতেয়া শ্মিট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ২০০৭ সালের জুলাই মাসে ধারণ করা সাত সেকেন্ডের ভিডিওতে শ্মিটকে প্রায় এক ডজন মানুষের সঙ্গে নাৎসি স্যালুট দিতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বলেন, ‘ডান হাত ওপরে তুলুন, হেইল হিটলার!’ পরবর্তীতে সাড়া দেওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সোমবার ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শ্মিট জানান, তার ওই বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি ‘অনুপযুক্ত ছিল’ এবং যদি এতে কেউ কষ্ট বা অপমানিত হয়ে থাকেন তবে তিনি দুঃখিত। তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি প্রকাশ্যে দেখানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়নি।

শ্মিট আরো বলেন, তিনি নাৎসিবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ, বর্ণবাদ এবং সকল ধরনের রাজনৈতিক চরমপন্থার বিরুদ্ধে।

রবিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সামোয়া অবজারভার প্রথম ভিডিওটির খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শ্মিট পরিবারের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় শ্মিট দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবারের এক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অনুষ্ঠানে তিনি সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন।

প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার মানুষের দ্বীপরাষ্ট্র সামোয়া নিউজিল্যান্ড ও হাওয়াইয়ের মাঝামাঝি অবস্থান করছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সামোয়া জার্মানির নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনার পর দেশটিতে জার্মান ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে।

জার্মান বংশোদ্ভূত শ্মিট ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামোয়ার অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি ইহুদিদের প্রার্থনার চাদর পরিধান করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ইসরায়েলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

শ্মিট বলেছিলেন, সামোয়া ‘ইসরায়েলের পাশে রয়েছে’। তিনি আরো বলেন, যদি বিশ্ববাসী এতে খুশি না হন, তবে সেটি তাদের বিষয়। সামোয়া ‘ঈশ্বরের ভূমির পাশে’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে ১৮টি অনুমোদনহীন রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


সুন্দরবনে ১৮টি অনুমোদনহীন রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ

পরিবেশ অধিদপ্তর সুন্দরবন সংলগ্ন গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খুলনার দাকোপে অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্ট ও ইকো কটেজের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার (৪ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের লিখিতভাবে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নিয়মিত মামলা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টিকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং ৮টিকে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপ এলাকায় গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রহীন। তিনি বলেন, "ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও সংশ্লিষ্টরা তা নেননি। এ কারণেই বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "সুন্দরবনের ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুযোগ নেই। ইসিএ বিধিমালায় সেখানে বেশকিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব মানছে কিনা, তা পরিবেশ অধিদপ্তর পর্যবেক্ষণ করবে।"

হারুন-অর-রশীদ জানান, খুলনা অংশে ১৮টি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, আবার কিছু নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অংশেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পুরো সুন্দরবন এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিভাগীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রিসোর্ট মালিকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শাওন জানান, তাঁরা এখনও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো চিঠি পাননি। তিনি বলেন, "জাতীয় পর্যটন নীতিমালা-২০১০-এ সুন্দরবনসহ দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকাগুলোতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে টেকসই ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পর্যটন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নের কথাও নীতিমালায় রয়েছে।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশীদের বক্তব্য, জাতীয় পর্যটন নীতিমালায় পর্যটন উন্নয়নের কথা থাকলেও পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ার। তিনি বলেন, "পরিবেশের নিয়ম না মানলে অধিদপ্তর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্টগুলোর ক্ষেত্রে সেটিই করা হয়েছে।"

এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের নথিতে খুলনা অংশে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বাস্তবে কার্যকর রিসোর্টের সংখ্যা ১৫টি। কেওড়াবন, লা সিলভা ও অরণ্যছায়া নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু সাইনবোর্ড রয়েছে- এমন দাবিও পাওয়া গেছে।

অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।

ফলে প্রশ্ন উঠছে- কোনগুলো বাস্তবে চালু, কোনগুলো নির্মীয়মাণ এবং কোনগুলো শুধু নাম বা সাইনবোর্ডসর্বস্ব- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও মাঠপর্যায়ের যাচাই কতটা হয়েছে- তা নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় রিসোর্ট ও ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। এক পক্ষ পর্যটকদের সুন্দরবনের ভেতর লঞ্চে নিয়ে গিয়ে পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করছে। অন্যদিকে আরেক পক্ষ সুন্দরবনের কাছাকাছি লোকালয়ে রিসোর্ট গড়ে তুলে পর্যটকদের থাকা, খাওয়া ও বিনোদনের ব্যবস্থা করছে।

কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, পর্যটন বাজারের অংশীদারত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যবসায়িক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পরিবেশগত সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক তৎপরতার ওপর পড়ছে কিনা- সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, তাদের অভিযান বা নোটিশের সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের সম্পর্ক নেই। ছাড়পত্র না থাকা এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ না মানার অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রিসোর্ট মালিকদের বক্তব্য, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ফলে সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে নিয়ম মেনে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%