মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রংপুর জেলার আটটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্দেশ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে মোট ৭৬টি সার ডিলার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রংপুর সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচ জন, কাউনিয়ার ছয়টি ইউনিয়নে ছয় জন, গংগাচড়ার নয়টি ইউনিয়নে নয় জন, মিঠাপুকুরের ১৭টি ইউনিয়নে ১৭ জন, পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নে ১৫ জন, পীরগাছার নয়টি ইউনিয়নে নয় জন, বদরগঞ্জের ১০টি ইউনিয়নে ১০ জন এবং তারাগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচ জন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব সনদ দাখিল করতে হবে।
ডিলার হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে নিজ মালিকানায় অথবা ভাড়ায় ন্যূনতম ২৫ টন ধারণক্ষমতার গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক।
এছাড়া আবেদনকারীর কাছে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার ব্যাংক সচ্ছলতার সনদ, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রদত্ত হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স এবং টিআইএন থাকতে হবে।
আবেদনকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। তদুপরি, তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং চলাচলে সক্ষম হতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু অযোগ্যতার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সার ডিলারশিপ বাতিল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।
একইভাবে, ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ ছাড়া আবেদন করতে পারবেন না। তবে সাজা ভোগের দুই বছর পর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আবেদনকারীদের ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’-এর পরিশিষ্ট-১-এ বর্ণিত নির্ধারিত নমুনা ফরম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিপরীতে নীতিমালায় বর্ণিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
নতুন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় সময়ে সার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলার রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা প্রদর্শন করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনে কেন্দ্রটি প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি উল্লিখিত সময়ে গড়ে এক হাজার ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে, যা বর্তমান চাহিদার নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে জুন মাসে কেন্দ্রটি ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল, যা গড়ে ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য। মূলত উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখার এ ধারা জাতীয় গ্রিডের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে সরাসরি সহায়তা করছে এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপারেশনাল কার্যক্রমের গভীর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করাই বর্তমানে কেন্দ্রটির মূল চ্যালেঞ্জ।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক খাঁন নোমান শিবলী বাসসকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যেখানে পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে, তবে রামপালের এ ধারাবাহিক উৎপাদন সেই আস্থার জায়গাটি পুনর্গঠন করছে।
বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি কেন্দ্রটি একইভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলোতে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। রুট ডাইনামিক্স এবং জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত যাতে কোনোভাবেই উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বর্তমানে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
কেন্দ্রটির মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বাসসকে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের দক্ষ হাতে পরিচালিত হচ্ছে। আগে ভারতীয় প্রকৌশলীরা যে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিলেন, তা এখন দেশীয় প্রকৌশলীরা আত্মস্থ করেছেন এবং তারা দক্ষতার সাথে কেন্দ্রটির অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী আশ্বস্ত করেছেন যে, জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে এবং পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখে আগামী দিনেও কেন্দ্রটি তার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, যাতে জাতীয় গ্রিডে কোনো যান্ত্রিক বা লজিস্টিক বিঘ্ন না ঘটে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এ সফল পরিচালনা কেবল বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেই সহায়ক নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতা ও দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হলে বড় ধরনের জাতীয় সংকটেও সমাধান বের করা সম্ভব।
আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে এ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া আরও আধুনিকায়ন করা জরুরি। যদি রামপাল একইভাবে জাতীয় গ্রিডে শক্তির জোগান দিয়ে যায়, তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখা সহজতর হবে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কেনিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম দুই দিন অচল করে দেওয়া ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন দেশটির বিমান চলাচল খাতের কর্মীরা। মঙ্গলবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার ও সোমবার কর্মীরা ধীরগতিতে কাজ করার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করায় রাজধানী নাইরোবিসহ পূর্ব আফ্রিকার দেশটির অন্যান্য বিমানবন্দরে কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। নাইরোবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
নতুন যৌথ দরকষাকষি চুক্তি এবং স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ব্যবহারের অবসানের দাবিতে বিমান চলাচল খাতের ইউনিয়নগুলোর ধারাবাহিক ধর্মঘট ও কার্যক্রম বন্ধের হুমকির মধ্যে এটি ছিল সর্বশেষ ধর্মঘট।
কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌথ দরকষাকষি চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। শিল্প বিরোধের কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত কারণে কর্মীদের ‘হয়রানি না করার’ বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেকেআইএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র। কেনিয়ার পর্যটন ব্যবসার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন, যারা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শোভাযাত্রায় যোগ দেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এ শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন বখত চত্বর (বক পয়েন্ট) এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গণতন্ত্রের নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’তিনি আরো বলেন, গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না; ছিল হত্যা ও গুমের রাজনীতি। সেই ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আজ দেশ মুক্ত। ইনশাআল্লাহ, এই গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমেই দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধিত হবে।শোভাযাত্রা ও সমাবেশে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইন্দোনেশিয়ার সংসদ মঙ্গলবার ডেস্ট্রি দামায়ান্তিকে দেশের নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে অনুমোদন প্রদান করেছে। পেরি ওয়ারজিও হঠাৎ করে পদত্যাগ করার পর গত জুলাইয়ে তাকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে খবর প্রদান করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো ডেস্ট্রিকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনিই একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন। পেরি পদত্যাগের পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রবোওর মনোনয়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। তার ভাতিজা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থমাস জিওয়ান্দোনোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা করা হয়েছিল।
পেরি হঠাৎ পদত্যাগের আগে ৬২ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ ডেস্ট্রি ২০১৯ সাল থেকে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার (বিআই) ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংস জানিয়েছে, ডেস্ট্রির মনোনয়ন থেকে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।
গত সপ্তাহে সংসদে অনুষ্ঠিত নিয়োগসংক্রান্ত শুনানিতে ডেস্ট্রি বলেছেন, তিনি এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবেন, যা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাসঙ্গিক থাকবে, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
প্রেসিডেন্ট প্রবোও ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেরির পদত্যাগ ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকের দ্বিতীয় পদত্যাগের ঘটনা। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসসহ কয়েকটি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান মনে করছে, সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমুখী নীতিকে আরও বেশি সমর্থন করার জন্য পেরির ওপর চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে এ পদত্যাগের পর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুনে একটি আইন পাস হয়, যা সংসদকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দায়িত্বও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর দেওয়া হয়—যা প্রেসিডেন্ট প্রবোওর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পেরির পদত্যাগ এমন একটি কঠিন সময়ে ঘটে, যখন ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহর বড় ধরনের দরপতন এবং শেয়ারবাজারে মন্দাভাব দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও কয়েকজন ডেপুটি গভর্নর নিয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দেশটির মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে এবং সুদের হার ঠিক করে।
জুলাইয়ে পেরির শেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদহার ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখে। চলতি বছরে এর আগে সুদহার মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের মতে, সুদহার বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ সরকারকে সম্ভবত হতাশ করেছে।
গত মাসের বৈঠকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অপরিবর্তিত রাখে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ