বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য একটি বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্যের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
হাইকমিশনার মিচেল লি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যদি নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগায়, তবে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি এবং সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কার্যকর হতে পারে। সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়েছে বলেও তিনি জানান।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।" তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন একসঙ্গে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন বাণিজ্যে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দখল করেছিল।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মাত্র ছয় মাস অতিক্রম করেছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে কেউ গুমের শিকার হননি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি। রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হননি কেউ।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং এটি চর্চা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে কখনো কোনো বিষয়ে বঞ্চিত করা হবে না।
আমরা সবাই নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে সাংবিধানিক অধিকারকে নিশ্চিত করব। সেটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখানে সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেছেন। কেউ বলেননি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু। সবাই বাংলাদেশে নাগরিক।
আমাদের সংবিধান তাই স্বীকার করে। এখানে কেউ সংখ্যাগুরু নয়, কেউ সংখ্যালঘু নয়। আমরা সবাই নাগরিক, সবাই সিটিজেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণ-অভুত্থানের পর আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছি। এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব।’
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দখল করেছিল বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘১৯৯৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছিলাম। তখন আমরা ভিজিট করেছিলাম। তখন দেখা গেল, আড়াই একর সম্পত্তি সরকারের হাতে রয়েছে। বাকি সম্পত্তি যে দলের নাম উল্লেখ করতে শরম করে বললেন না সেই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।’
তিনি জানান, যে আড়াই একর পাওয়া গিয়েছিল সেটি ছিল শশ্মান। তা না হলে তাও দখল হয়ে যেত। এখন তা ফেরত কার কাছ থেকে নেওয়া হবে? দশ-বারো হাত বদল হয়ে গেছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি নতুনভাবে নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এদিকে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে।
বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কিছু সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। গত সপ্তাহের ভয়াবহ দুর্যোগের পর ৪ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদামাটি নেমে আসে।
এতে চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। অনেক বসতি ও গ্রাম পানির স্রোত ও ধ্বংসস্তূপে তলিয়ে যায়। বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা
কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
এসব ঘরের কিছু পানির স্রোতে ভেসে গেছে, আবার কিছু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেসব ঘর এখনও দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর অনেকগুলো বসবাসের উপযোগী নয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার ঘর নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরফ, কাদা ও পাথরবাহী প্রবল পানির স্রোত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ঘরবাড়ি, সড়ক ও স্কুল ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
এখনও ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সুড়ঙ্গগুলোতে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে যুক্ত এক সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশায় সুড়ঙ্গগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সব সুড়ঙ্গে তল্লাশি চলছে। ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘জীবিতদের উদ্ধারের সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও উদ্ধার অভিযান চলবে। আর কেউ জীবিত না থাকলেও মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে। দলটির সঙ্গে ড্রোন, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর, শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্র, ভিডিও সরঞ্জাম এবং তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা রয়েছে। দলটি বাতার এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
সেখানেই আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে। ওই সুড়ঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার নয়জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে নেপাল সরকার। দুর্যোগে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়েছেন।
নেপালের জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, ‘মানুষ সবকিছু হারিয়েছে। অনেকের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টও নেই।’ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিশুদের পড়াশোনা আবার চালু করার ওপর। এ জন্য অস্থায়ী স্কুল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বন্যার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরও অন্তত ২২ হাজার শিশুর নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা। নিয়মিত ক্লাস শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পড়ানো যায় কি না, আমরা তা বিবেচনা করছি।’ তবে শিশুদের ক্লাস নেওয়ার জন্য নিরাপদ ভবন খুঁজে পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অনেক স্কুল ভবন বন্যা ও ধ্বংসস্তূপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প জায়গায় পাঠদান চালু করার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভূমিকম্পের আগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি; যাতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা করা সম্ভব হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ভূমিকম্প বিষয়ক প্রশিক্ষণের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখানে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ নিয়মিত আঘাত হানে।
দুর্যোগের প্রভাব কমানোর জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, প্রশিক্ষণ একজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ এবং অভিজ্ঞ করে তোলে। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা সুযোগ পেলে মানবতার সেবায় দ্রুত এগিয়ে আসবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে ১০টি নতুন স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পর্কিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম যখন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, তখন তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
নতুনভাবে গঠিত এসব কমিটিতে বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের সভাপতি ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ফরিদুল কবির তালুকদার, মোহাম্মদ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান চৌধুরী, মোসাম্মৎ শামীমা সুলতানা, মোহাম্মদ গোলাম রসূল, এবং মোহাম্মদ রায়হান সাঈদী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়াকে সভাপতি করে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, মো. জাহাঙ্গীর আলম মিয়া, মোসা. তাহসিনা রুশদী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে রকিবুল ইসলামকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, হাবিবুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমিন দুলাল, মো. শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. মতিয়ার রহমান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে সভাপতি করে।
কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ জসিম উদ্দিন আহমেদ, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, মাছুম মোস্তফা এবং মোহাম্মদ আবু তালিব।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে কলিম উদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যরা হলেন মো. আবুল খায়ের ভূইয়া, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. হারুনুর রশিদ, মোবাশ্বের আলম ভূইয়া, মানসুরা আক্তার, মো. কেরামত আলী, সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে মো. আমানউল্লাহ আমানকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, ইয়াসের খান চৌধুরী, নরসিংদী-৫ আসনের মো. আশরাফ উদ্দিন, জামালপুর-৩ আসনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে মোহাম্মদ জি কে গউছকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সরোয়ার আলমগীর, সুলতানা জেসমিন, মো. মাহবুবুল আলম, মো. আব্দুল আলীম এবং মো. আবুল কালাম আজাদ।
ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে নাসের রহমানকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, সরদার সরফ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, এরশাদুল্লাহ, সুলতানা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং মাহমুদুল্লাহ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম জামালকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যরা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মোহাম্মদ শামীম কায়সার আতাউর রহমান খান, নূরুল আমিন, নিপুণ রায় চৌধুরী, সুবর্ণা সিকদার, মো. নূরুল আমিন, মো. আবুল হাসান এবং মো. আব্দুল খালেক।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে সেলিমা রহমানকে সভাপতি করে। কমিটির সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা, এবং বিলকিস বেগম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ