ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হত্যার আগে তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিল, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল


হত্যার আগে তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিল, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের চিত্র ধরা পড়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর তিনি হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যান। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দোকানির সঙ্গে কথোপকথন করেন। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে চলে যান। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ এখনও পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ কারণে নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে তাজমিন কোনো অটোরিকশায় উঠেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তাজমীনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে তাজমিন এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে তার বাবা আবদুল আলীম মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন। কিন্তু কল রিসিভ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

এদিকে পুলিশি অনুসন্ধানে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব স্থানে তার সঙ্গে কেউ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর তাজমিন কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না এবং জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, "আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় দুই যমজ ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। ঘটনার তদন্ত হয়ে দোষীদের শাস্তি হোক, সেটাই চাই।"

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, "মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।"

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, "সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে হত্যার বিবরণ জানা যাবে।"

তিনি আরও বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি রেজিস্ট্রেশনকৃত। আমরা সেটির সূত্র ধরে এগুচ্ছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।"

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, "আমরা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ করছি। আশা করি, রহস্য উদঘাটন হবে।

আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবা-মা ও বোনকে হত্যা: এআইয়ের মাধ্যমে যেভাবে ফাঁসলেন প্রেমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩১ পি.এম


বাবা-মা ও বোনকে হত্যা: এআইয়ের মাধ্যমে যেভাবে ফাঁসলেন প্রেমিক

ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রেমিকার বাবা-মা ও বোনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। ২৫ বছর বয়সি প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে হামলা ও আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুন মাসে বেঙ্গালুরুর কেআর পুরা এলাকার সিগেহাল্লিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রেমিকা ও লিভ-ইন সঙ্গী শ্বেতার বাবা-মা এবং বোনকে হত্যার আগে কেনেথ তার ল্যাপটপে একাধিক অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন।

পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে হামলার উপায়, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করে কাউকে অক্ষম করে দেওয়া, একাধিক ব্যক্তিকে কাবু করার কৌশল এবং বাড়িতে ঢুকে পড়া চোরদের মোকাবিলার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য খোঁজা হয়েছিল।

এছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র, ঋণসংক্রান্ত জটিলতা, ব্যাংকের চাপ সামলানোর উপায় এবং দেউলিয়া ঘোষণার নিয়ম সম্পর্কেও অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এসব অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২২ জুন শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়াকে হত্যার আগে এসব তথ্য খোঁজা হয়েছিল।

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কেনেথ নিয়মিত এআইভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতেন এবং সেটিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি কী ধরনের উত্তর পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) সৈদুলু আদাভাত জানান, বোতলটি পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ছিল অর্থনৈতিক বিরোধ ও ঋণের চাপ।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, শ্বেতা গত এক বছরে কেনেথের জন্য প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসায়িক ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা অর্থও ছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার পরিবারের কাছে পৌঁছালে বিষয়টি নিয়ে পরিবারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর কেনেথকে ঋণের অর্থ ও ব্যাংকের নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন করলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, ২২ জুন রাতে সিগেহাল্লির সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে ওই বিরোধ সহিংস রূপ নেয়। সেখানে সোমসুন্দর, মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সোমসুন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হামলাকারীর নাম জানান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াও ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, শ্বেতা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কেনেথকে তার বাবা-মা ও বোনের ওপর হামলা করতে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, কোনো ব্যক্তি অনলাইনে বা এআইয়ের কাছে তথ্য খুঁজেছেন বলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের ভূমিকা ও দায় নির্ধারণে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ফরেনসিক তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনে বাসায় ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী আল আমিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনে বাসায় ফেরা হলো না সৌদি প্রবাসী আল আমিনের

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাসের চাপায় এক সৌদি প্রবাসী আল আমিন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের মৌতাবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আল আমিন শাহরাস্তি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মসজিদ বাড়ির আ. মান্নানের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল আল আমিনের একমাত্র কন্যার জন্মদিন। মেয়ের জন্য জন্মদিনের কেক কিনতে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে হাজীগঞ্জ যান। ফেরার পথে মৌতাবাড়ি এলাকায় একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা হৃদয় (১৯) নামে অপর একজন যুবক গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল আমিনের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে হাজিগঞ্জ থেকে কেক কিনে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ছুটি শেষে রোববার (১১ অক্টোবর) তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

দুর্ঘটনার পর হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ শাহরাস্তি থানা পুলিশের কাছে লাশটি হস্তান্তর করে। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাজমিন হত্যাকাণ্ড: ধানক্ষেতের ধস্তাধস্তির চিহ্ন নিয়ে রহস্য বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


তাজমিন হত্যাকাণ্ড: ধানক্ষেতের ধস্তাধস্তির চিহ্ন নিয়ে রহস্য বাড়ছে

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ক্রমশ গভীর হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এলোমেলো হয়ে পড়া ধানগাছ দেখে স্থানীয়দের ধারণা, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল কিশোরীটি। তবে কী ঘটেছিল, কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং তাজমিন কিভাবে নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। নিহতের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের কাছাকাছি চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা যায়। সড়কের এক পাশে ধানক্ষেতে পড়ে ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তুলে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। সেখানে গিয়ে গাড়িটি থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহটির মাথা কাদায় ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, মেয়েটি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কিভাবে ধানক্ষেতে পড়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। গাড়িটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরো বলেন, জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। গাড়িটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাজমিন চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল।

ঘটনার আগের রাতে বাবার কাছে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর তাজমিন কিভাবে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছাল, কার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিল এবং কেন তাকে হত্যা করা হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা জানিয়েছে পরিবার।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাস গড়া ৩৫২ রানের ইনিংসের পরও হৃদয়ের একাদশে জায়গা হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


ইতিহাস গড়া ৩৫২ রানের ইনিংসের পরও হৃদয়ের একাদশে জায়গা হয়নি

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষ ম্যাচে তাওহীদ হৃদয় একটি অসাধারণ কীর্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে, সেই কীর্তি সত্ত্বেও তার ভাগ্য খুলেনি। আজ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দল খেলতে নেমেছে তার উপস্থিতি ছাড়া।

এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে, তাওহীদ হৃদয় দক্ষিণ আফ্রিকার এ দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এ দলের হয়ে অপরাজিত ৩৫২ রান করেছিলেন। এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের রেকর্ড নয়, বরং দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো সফরকারী ব্যাটারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ স্কোর হিসেবেও গণ্য হয়।

তবে, তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করলে একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হতো। তখন মিডল অর্ডার নতুন করে সাজাতে হতো। এই সিদ্ধান্তটি ছিল চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট নিরাপদ পথ বেছে নিয়েছে। ফলে, তার জায়গা হয়নি দলে। বাংলাদেশ দলের টপ ও মিডল অর্ডার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের মতোই রয়েছে।

বোলিং আক্রমণ গঠিত হয়েছে ৩ স্পিনার ও ২ পেসার নিয়ে। দলে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন নাঈম হাসান।

বাংলাদেশ একাদশ—

সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদি হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, এবাদত হোসাইন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%