০৬:১৪ পি.এম
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউপি ভবনে গত রবিবার দুপুর পৌনে ১টায় দেখা যায়, সব কক্ষে তালা মারা রয়েছে। ছবিটি কালের কণ্ঠের প্রকাশনা। ৭০ বছর বয়সী শামসুল হক তার নাতির জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু বুঝতে পারছেন না, কোন দিকে যাবেন। কারণ, ভবনের প্রতিটি কক্ষে তালা। এমনকি দোতলায় যাওয়ার কেসি গেটেও তালা মারা। শামসুল হক খুব অসহায় বোধ করছিলেন। তাই তিনি সেই পথ দিয়ে যাওয়া দুই স্কুলছাত্রকে জিজ্ঞেস করেন, ‘অফিস সব বন্ধ কেরে’। এই ঘটনা গত রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঘটেছে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউপি ভবনের সামনে। বৃদ্ধ শামসুল হক জানান, তার বাড়ি একই ইউনিয়নের আঙ্গরকান্দা গ্রামে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও ইউপি কার্যালয়টি বন্ধ পান শামসুল। তার বাড়ি কার্যালয় থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি দুই দিন গিয়েও কাউকে না পেয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। ইউপি কার্যালয়টি ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া বাজারে অবস্থিত। কার্যালয়ের বাইরে থাকা একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে ইউপি কার্যালয়ের বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করা মোসলেম নামের একজন সেখানে গিয়ে পতাকা টানান এবং এর পরই তিনি বের হয়ে যান। সারা দিন আর কেউ সেখানে যান না। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, পোড়াকান্দুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হকের বাড়ি পোড়াকান্দুলিয়া বাজার থেকে চার কিলোমিটার দূরে দুধনই বাজারের কাছে। দুধনই বাজারে চেয়ারম্যানের রয়েছে ব্যক্তিগত চেম্বার। প্রতিদিন তিনি ওই চেম্বারেই বসেন। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বেসরকারি উদ্যোক্তা ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও চেয়ারম্যানের চেম্বারে গিয়ে বসেন। সেবা পেতে ইউপি কার্যালয়ে যাওয়া মানুষ কার্যালয়ে আসার পর জানতে পারেন, চেয়ারম্যানসহ সবাই দুধনই বাজারে অবস্থিত। তখন তারা আবারও সেখানে গিয়ে নিজেদের প্রয়োজন সারেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকায় অনেকে জেনে গেছে, ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। ফলে অনেকেই এখন কার্যালয়ে না গিয়ে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান। পোড়াকান্দুলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক সেবাই নয়, টিসিবির পণ্য নিতেও আমাদের এলাকার মানুষকে যেতে হয় দুধনই বাজারে। এতে তাদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি টাকা খরচ হয়। স্থানীয়রা আরো জানান, চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হক অন্তত ১৫ বছর ধরে পোড়াকান্দুলিয়ার চেয়ারম্যান। তবে মাঝে একবার নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। তখন সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়। মঞ্জুরুল ওই সময় চেয়ারম্যান না থাকলেও চেয়েছিলেন, কার্যালয়টি তার বাড়ির পাশে দুধনই বাজারে হোক। কিন্তু সেটি না হওয়ায় মনে মনে ক্ষিপ্ত হন তিনি। এ কারণে পরবর্তীতে তিনি আবারও চেয়ারম্যান হওবার পর কার্যালয়ে না গিয়ে নিজের বাড়ির পাশে বসে আছেন। ইউপি কার্যালয়ের কর্মীদের কাছে প্রশ্ন করা হলে, কেন চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বসেন। পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জলিল আকন্দ উত্তর দেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে যেখানে বসে কাজ করতে বলবেন, আমি সেখানেই বসতে বাধ্য। কাজেই এ প্রশ্নের জবাব আমার কাছে নেই।’ রবিবার (১০ আগস্ট) নির্বাহী চেম্বারে গেলে জানা যায়, চেয়ারম্যান কিছুক্ষণ আগে বের হয়ে গেছেন। পরে মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি সপ্তাহের কয়েকদিন ইউপি কার্যালয়ে বসি। বাকি কয়েকদিন ব্যক্তিগত চেম্বারে বসি।' জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন