বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৭ পি.এম
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, "নীতিমালা করে মানুষকে ভালো করা যায় না।" তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নীতিমালা তৈরি করে হয়তো আইনের মধ্যে বিষয়গুলো আনা সম্ভব হবে।
তবে তিনি নৈতিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে একটি হাফ-ট্রুথ (আংশিক সত্য) সংবাদের জন্য যাতে কারো ক্ষতি না হয়। একইভাবে, কারো অতিরিক্ত প্রশংসাও যাতে না হয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে মিডিয়া একদম ফ্রি।" তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা আপনাদের মতো করে কাজ করবেন।" তিনি মনে করেন, মিডিয়া গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা দেখবেন, তাদের কাজগুলো ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ। একই সময়ে, তাদের কলমের লিখনিতে যেন কারো জীবন, ক্যারিয়ার, মান-সম্মান নষ্ট না হয়, সেটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আন্দালিভ রহমান পার্থ আরও বলেন, "আমি সংবাদ মাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করি নাই।" তিনি বলেন, "২০টি টিভি চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চায় আপনি থাকতে পারবেন না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছর আগে দেখা গেছে, সব কিছু আপনার পক্ষে থাকলেও যখন সময় আসে, তখন কেউ আপনার পক্ষে থাকে না। আল্লাহ যখন চাইবেন না, তখন মানুষের মনে আপনার প্রতি ঘৃণা জন্মাবে।
তিনি আরও বলেন, "আমার কখনো আগ্রহ ছিল না যে, আমার পক্ষে ১০ জন সাংবাদিক লিখবে বা না লিখলে আমি ফোন করে তাদের চাকরি নষ্ট করব।" তিনি এই চর্চা থেকে বের হতে চান।
সাইবার বুলিং নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, "সাইবার বুলিং একটা বড় ইস্যু।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সাইবারে এ ধরনের নিউজের জন্য সংবাদের সৃজনশীলতা অনেক কমে গেছে। মানুষ এখন ফেইক নিউজ (ভুয়া সংবাদ) বলেই সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পার্থ বলেন, "আজকে পরিস্থিতি আলাদা, জেনারেশন আলাদা এবং মিডিয়াসহ সব কিছুই আলাদা।" তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "যখন কলম নিবেন, লিখবেন আমাদের সমালোচনা করবেন।" তিনি তাদের জানান, "আমাদের কাজগুলো কোথায় কোথায় ঠিকমতো হচ্ছে সেগুলো দেখবেন।" তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের নিয়ে সংবাদ করবেন আমাদের সাহায্য করার জন্য, যাতে করে আমরা সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি।" তিনি সতর্ক করেন যে, সংবাদে যেন দূষিত কিছু না থাকে এবং ব্যক্তিগত রাগ ও ক্ষোভ থেকে সংবাদ না হয়।
ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিটনের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর জেলার পলিটিক্যাল সেক্রেটারি জিয়া উল মোরশেদ চৌধুরী, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মু. শওকাত হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব-৬। এ সময় একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে, যা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের কামারবাড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারী র্যাব-৬-এর একটি দল ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের অধীনে কাজ করছিল।
আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন, মুকসুদপুর উপজেলার আইকদিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া শেখের ছেলে হাসমত আলী শেখ (৭১)। অপরজন হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কসবা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান (২৫)।
র্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয়। মাইক্রোবাস থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে গাঁজা ও মাইক্রোবাসসহ আটক দুজনকে মুকসুদপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাদের গোপালগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগে নাম লেখানোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সামরিক কৌশলগত দৃষ্টিতে এটি যৌক্তিক মনে হলেও বাস্তবে নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। একটি আধুনিক ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেবল একটি সাধারণ যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি স্বয়ংক্রিয় বা আংশিক স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বা ‘লোয়াল উইংম্যান’, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বমানের স্টিলথ প্রযুক্তি, সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি উড়ন্ত কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তিগুলোর এই দৌড়ে ভারতের আগ্রহ স্বাভাবিক, তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষার বাজেট, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিল্প কাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এই পরিকল্পনা একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একসঙ্গে বহুসংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন মেগা প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া। ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স বা ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে নিজস্ব প্রযুক্তির তেজস মার্ক-টু, নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা আমকা প্রকল্প এবং ১১৪টি যুদ্ধবিমান কেনার জন্য বহুল আলোচিত মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (এমআরএফএ) প্রকল্পের কাজ একযোগে চালিয়ে যাচ্ছে। যদি ইউরোপীয় কোনো দেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হতে হয়, তবে প্রতিটি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ এবং প্রযুক্তিগত বরাদ্দ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যায়।
চীনের জে-টুয়েন্টি কিংবা তুরস্কের কানের মতো পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটের উন্নয়ন ব্যয় যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে আমকা প্রকল্পের গবেষণা ও উন্নয়নের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই বাজেট ভবিষ্যতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, তা সহজেই অনুমেয়। তার ওপর সর্বাধুনিক ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমানে বিপুল বিনিয়োগ করতে গেলে দেশের অন্যান্য প্রতিরক্ষা কেনাকাটা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের বাজেট সংকটে পড়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য পথটি খুব একটা মসৃণ নয়। যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং জাপানের গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম (জিস্যাপ) ইতোমধ্যে বহু বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভারত এখন এই জোটভুক্ত হতে চাইলে কতটুকু প্রযুক্তিগত সুবিধা পাবে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ওপর কতটা স্বত্বাধিকার থাকবে বা তাদের বিমান খাতের শিল্পগুলো কেবল যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী না হয়ে মূল অংশীদার হতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের যৌথ ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম বা এফসিএএস প্রকল্প থেকে কাজের দায়িত্ব ও প্রযুক্তির ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে প্রধান অংশীদাররা সরে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই ব্যর্থতা ভারতের জন্য একটি বড় সতর্কতা বার্তা যে, যৌথ উদ্যোগ মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর নয়।
সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমানের ইঞ্জিন তৈরির জটিলতা। ষষ্ঠ প্রজন্মের মতো উচ্চমানের ফাইটার জেট তৈরি করার পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন তৈরি করা, যা করতে হলে উন্নত মেটালার্জি, থার্মাল ম্যানেজমেন্ট ও নির্ভুল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বহু বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। ভারত এখনও আমকা প্রকল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জিই এফফোরওয়ানফোর ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল এবং পরবর্তীতে ইঞ্জিন তৈরির জন্য ফরাসি কোম্পানি সাফরান বা ব্রিটিশ রোলস-রয়েসের সঙ্গে যৌথ সমঝোতার চেষ্টা করছে। নিজস্ব ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে পুরোপুরি স্বাবলম্বী হওয়ার আগেই ষষ্ঠ প্রজন্মের সার্বভৌম ফাইটার জেটের দাবি বাস্তবে রূপ দেওয়া বেশ কঠিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। তারা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধার অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।"
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি জবাবে বলেন, "বিমানবন্দরে হয়রানি, প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।" তিনি জানান, প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবাব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রবাসী কার্ড চালু করেছে।
রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে দেশে বিনিয়োগের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের তা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন।" তিনি প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রকাশ করেছে যে, অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে, বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন। আইনজীবী জানান, বাদী এবং তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। সানায়া অভিযোগ করেছেন যে, শাড়ি ফেরত চাওয়ার কারণে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর ম্যাসেঞ্জারে মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের ম্যাসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া শাড়ি ফেরত চেয়ে বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং তিনি খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান।
পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোর কারণে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া এবং সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।
তবে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।
শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ