ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহীতে এলজিইডির পরিচ্ছন্নতা অভিযান


ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহীতে এলজিইডির পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রাজশাহীতে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী এলজিইডি কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা অভিযানের উদ্বোধন করেন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে কার্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার এবং পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন বা ওষুধের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, অফিস ও নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে পানি জমতে না দিলে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তিনি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেড়ামারায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


ভেড়ামারায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে মহামান্য হাইকোর্টের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন কেবল একটি লাল রঙের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি বা নিয়মিত অভিযান না থাকায় প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেড়ামারার সংশ্লিষ্ট এলাকায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশনের (নং ৭০৩০/২০২০) আদেশের বরাত দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও অবৈধ পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই সাইনবোর্ডটি কেবল শোভাবর্ধনকারী বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও ড্রাম ট্রাকে করে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছে প্রভাবশালী বালু দস্যুরা।

অপরিকল্পিত এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং ভারী যানবাহনের চাপে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আকমল হোসেন বলেন, "প্রশাসন কেবল নদীর পাড়ে একটি লাল সাইনবোর্ড টাঙিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করছে। দিনে-দুপুরে চোখের সামনে দিয়ে শত শত ট্রাক ও ট্রলিতে বালু নিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। এটি প্রশাসনের লোক দেখানো কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়।"

কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটার কারণে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি তীব্র নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ভারী গাড়ির চলাচলে এলাকার কাঁচা-পাকা সব রাস্তা ভেঙে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। বারবার অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রশাসনিক অভিযান দেখতে পাননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারী রহিম শেখ বলেন, "সাইনবোর্ডে আইন অমান্য করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলা হলেও বাস্তবে মনে হচ্ছে আইন কেবল সাধারণ মানুষের জন্য, বালু খেকোদের জন্য নয়। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এই অবৈধ কারবার একদিনও চলতে পারত না।" তিনি দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি খালি করলেও নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা আছে যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি খালি করলেও নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা আছে যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কো রুবিও

যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির নিকটবর্তী সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা সম্পর্কে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে। সোমবার মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জানান যে, ওয়াশিংটন বিশ্বজুড়ে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওই বিমানঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান (B-1 bombers) সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পেন্টাগন। মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সামরিক সম্পদকে প্রতিনিয়ত পুনর্বিন্যাস করে থাকে, যখন এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

তবে, যুক্তরাজ্যে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গ্রেপ্তারের ঘটনার তদন্তে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কার্যকর ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অভিযুক্তদের এই হামলার চেষ্টার পেছনে ইরানের হুমকির সংযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন

‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬’ অর্জন করেছেন আবু মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, যিনি সালাহউদ্দীন সুমন নামেও পরিচিত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সালাহউদ্দীন সুমন, অ্যান্টার্কটিকা, আমাজন ও আর্কটিক সহ বিশ্বের বিভিন্ন দুর্গম গন্তব্যে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, অপরিচিত ভূপ্রকৃতি এবং গ্রামবাংলার জীবন-জীবিকা তুলে ধরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, "দেশের পর্যটন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এমন একটি সরকারি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পাওয়া একজন ক্রিয়েটরের জন্য অবশ্যই আনন্দের ও গর্বের। একটি রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এই স্বীকৃতি সত্যিই আমার খুব ভালো লেগেছে।"

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬’ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো এই খাতের উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করা। টেকসই পর্যটন বিকাশ, গুণগত সেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রচারণায় তরুণদের সম্পৃক্ততা দেশীয় পর্যটনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা নাসের আল নোয়াইস এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ হামিদ।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো সামীমুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ ট্রাভেল এবং ট্যুরিজম সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আক্তার।

বর্ষসেরা ট্যুরিজম কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সালাহউদ্দীন সুমন ছাড়াও ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘শাকাওয়াথ’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট ফর ফুড কস্ট’, বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং পর্যটনবিষয়ক সাংবাদিকতায় পুরস্কৃত হয়েছেন নাঈম উল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান-ভারত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


জাপান-ভারত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাজ করছে জাপান। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ভারত সফর করেন, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে দিল্লি-টোকিও সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে। খবর নিপ্পন ডটকম।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন কেবল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকালীন বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে ত্বরান্বিত করেনি, বরং নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

১৬তম জাপান-ভারত বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসারের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা চীন-জাপান ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কোয়াড জোটের আওতায় 'মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা' গড়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দক্ষ মানবসম্পদ আদান-প্রদান এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনযোগাযোগ বাড়াতে দুই পক্ষই ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।

ডিফেন্স ও সিকিউরিটি ক্ষেত্রে এবার অভূতপূর্ব অগ্রগতি দেখা গেছে। ইয়োকোসুকাতে আয়োজিত ‘জাইমেক্স ২৫’ নৌমহড়ার ধারাবাহিকতায় ভারতীয় নৌবাহিনী ও জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। জাপানের মোগামি-ক্লাস ফ্রিগেটে ব্যবহৃত উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি ‘ইউনিকর্ন’ (ইউনিফাইড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা) ভারতে হস্তান্তরের একটি নীতিগত চুক্তিও এই সম্মেলনে সম্পন্ন হয়েছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষার স্বার্থে সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ পদার্থ, আইসিটি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ওষুধ; এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টোকিও ও নতুন দিল্লি। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে এই উদ্যোগ ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অর্থবহ।

১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত বা জাপানের প্রয়াত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের সফরের আগে ভারতে জাপানি ব্যবসার প্রসার ছিল বেশ ধীরগতির। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত মারুতি সুজুকি ছিল এর একমাত্র বড় ব্যতিক্রম। তবে ২০০৫ সালে তৎকালীন জাপানি প্রধানমন্ত্রী কোইজুমি জুনিচিরোর সফরের পর থেকে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের যে প্রচলন শুরু হয়, তা দু'দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেয়। সরকারি সংস্থা জেট্রোর (জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর নাগাদ ভারতে ৫,২০৫টি স্থানে ১,৪৩৪টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজ করছিল। যদিও চীনের ৩০ হাজার স্থানের তুলনায় এই সংখ্যা কম, তবে মহামারী-পরবর্তী সময়ে সুজুকি, ব্রিজস্টোন ও ইউনিচার্মের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় কারখানা স্থাপন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ তরান্বিত করেছে।

আজকের দিনে এই ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কেবল প্রথাগত অটোমোবাইল বা ইলেকট্রনিক্স খাতে সীমাবদ্ধ নেই। ফ্যাশন ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ভারতে পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০টি স্টোর খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ৭-ইলেভেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ভারতে ৬০টিরও বেশি আউটলেট চালাচ্ছে, এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর জায়ান্ট নিতোরি মুম্বাইতে তাদের কার্যক্রম চালু করেছে। অন্যদিকে ভারী শিল্পে নিপ্পন স্টিল আর্সেলরমিত্তালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি বিনিয়োগ করে কারখানা সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি সানটোরি, সুমিতোমো রিয়েলটি, ওসাকা গ্যাস এবং মোনোটারোর মতো বিভিন্ন খাতের নামিদামি প্রতিষ্ঠান তাদের ভারতকেন্দ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে।

গত বছরের আগস্টে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে ঘোষিত আগামী ১০ বছরে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রাকে সচল রাখতে এ বছরের সম্মেলনে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী টাকাইচির উপস্থিতিতে সম্মেলনে বিগত এক বছরে ঘোষিত ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের দীর্ঘ বিবরণ তুলে ধরা হয়, যা নতুন দিল্লিকে গভীরভাবে আশ্বস্ত করেছে। উভয় দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে আয়োজিত জয়েন্ট ইকোনমিক ফোরামে ১৫০টিরও বেশি জাপানি ও ৮০টিরও বেশি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতেও এই সফর নতুন গতি সঞ্চার করেছে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের 'লুপেক্স' মিশন থেকে শুরু করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য অ্যামোনিয়া উৎপাদন, বায়োমিথেন প্রকল্প এবং ইস্পাত কারখানার গ্যাস প্ল্যান্ট পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যোগাযোগ খাতে জাপানের সহায়তায় গড়ে ওঠা দিল্লি মেট্রো; যা বর্তমানে ৪১৬ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে টোকিও সাবওয়ে নেটওয়ার্ককেও ছাড়িয়ে গেছে; ভারতের শহুরে জীবনের চিত্র বদলে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন) ঋণে আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ভারতের প্রথম 'বুলেট ট্রেন' বা শিনকানসেন প্রকল্প, যা ২০২৭ সালের আগস্ট নাগাদ আংশিক চালুর কথা রয়েছে।

জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোপারেশন (জেবিআইসি)-এর জরিপ অনুযায়ী, টানা চতুর্থ বছরের মতো জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে আগামী তিন বছরের ব্যবসা প্রসারের জন্য ভারত ‘সবচেয়ে সম্ভাবনাময়’ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া জেট্রোর তথ্যানুযায়ী, ভারতে ব্যবসারত ৭৫.৫ শতাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠান চলতি অর্থবছরেই মুনাফা অর্জনের আশা করছে। ২০০০ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ৪৮.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

অবশ্য ভারতের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা জাপানের জন্য সবসময় মসৃণ নয়। ভারতের নিজস্ব বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি রয়েছে, যেখানে দেশটি কোনো পরাশক্তির চাপে নতিস্বীকার করে না। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ চাপ উপেক্ষা করা বা রাশিয়ার সঙ্গে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করে জ্বালানি বাণিজ্য বজায় রাখা এবং চীন থেকে শর্তসাপেক্ষে বিনিয়োগ গ্রহণের মতো পদক্ষেপগুলো ভারতের এই স্বাধীন অবস্থানেরই প্রমাণ। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দক্ষ মানবসম্পদের সংকট মোকাবিলায় এবং জনসংখ্যা হ্রাসজনিত চ্যালেঞ্জ উৎরাতে ভারতের বাজার, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞদের ওপর জাপানের আস্থা দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%