বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৩২ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিপক্ষে নন। বরং তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বলেছেন, মার্কিন হামলার মাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ইরানকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে যখন মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি বাড়ছে, তখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মার্কিন জনগণ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, একটি নতুন জরিপে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে যে আমেরিকানরা জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও তারা যুদ্ধের বিরোধিতা করছে না। তবে প্রেসিডেন্ট জোটি জরিপের কথা উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
এদিকে, পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন মতামত জরিপ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের ওপর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া হামলার পরে মার্কিন জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়তে দেখা গেছে।
কিন্তু জরিপের সেই বাস্তব চিত্র পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, হামলায় ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের এই আগ্রাসনের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে টিসিবির ডিলারের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু ঘটেছে।এটি ঘটে বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে, উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের হাটবাকইল বাজারে।
ঘটনার পর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু গুদামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নয়ন (১৮) নামে এক যুবকের ঝলসে যাওয়া মরদেহ। নিহত নয়ন আব্বাসের ছেলে, যিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা মতে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ডাল, তেল, চিনি ও টিসিবির অন্যান্য পণ্য পুড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিদ্ধিরগঞ্জে নারায়ণগঞ্জের একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে সামান্য সংঘর্ষের কারণে রফিক (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার জন্য অভিযুক্ত প্রাইভেটকার চালক নাদিম (৫০) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বুধবার রাত ১১টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে শিমরাইল-আদমজী-চাষাড়া সড়কের সিদ্ধিরগঞ্জপুর এলাকায় রায়হান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রফিক মাকসুদ পরিবহনের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। ঘটনার সময় তার অটোরিকশায় একজন নারী যাত্রীও ছিলেন। একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে সামান্য সংঘর্ষের পর দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রাইভেটকার চালক নাদিম রফিককে ঘুষি মারলে তিনি সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রফিকের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার গেরাখালী এলাকায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অভিযুক্ত নাদিম সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারীপট্টি এলাকার বাসিন্দা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, অটোরিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাইভেটকার চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিপাইনে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের যে দাবি, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তেহরানের ব্যাখ্যাকেও ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসিয়ান সম্মেলনের এই বক্তব্যের পর কাতারস্থ জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থানের বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, 'রুবিওর বক্তব্যটি ছিল অত্যন্ত বাকপটু, তবে তা কিছুটা গতানুগতিক বা নিস্তেজ শোনাক না কেন—এর কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক।' কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এড়াতে জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান শান্তি আলোচনাকে কঠিন করে তুলছে।
পল মাসগ্রেভ উল্লেখ করেন, 'সবাই চায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি সফল হোক এবং শান্তি ফিরে আসুক।' তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য হলো—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আস্থা নেই। মার্কিন প্রশাসন মনে করে, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি হলেও শেষ পর্যন্ত তারা তা মেনে চলবে কিংবা চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া অসম্ভব।
তিনি আরও যোগ করেন, একদিকে বিশ্ব সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা যখন কূটনীতির পথ সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, অন্য দিকে ওয়াশিংটন থেকে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য ও বানোয়াট অভিযোগ ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মাসগ্রেভ জানান যে, আন্তর্জাতিক এসব জটিল ইস্যুতে সাধারণত তিনি খুব একটা আশাবাদী হতে পারেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এমন বক্তব্যের পর বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে তার সংশয় ও আশঙ্কাই যেন আরও ঘনীভূত হলো।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় ও হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়ে বলেছেন, উপজেলায় জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই।
তাদের দাবি, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় চলছে। গুজবের কারণেই এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার(২২ জুলাই) সন্ধ্যায় আক্কেলপুর ফিলিং স্টেশনে ছবি তুলে দেখা মেলে, স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় সেখানে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি।
অনেক চালক একসঙ্গে তেল নিতে এসে অপেক্ষা করছেন এবং কেউ কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণ তেল কিনে রাখার চেষ্টা করছেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য স্টেশনটিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য উপজেলার তিলকপুরের তুষার ফিলিং স্টেশন ও রায়কালীর সরদার ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল চালকদের হুড়োহুড়ির সংবাদ পাওয়া গেছে।
আক্কেলপুর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাছে ৭ হাজার লিটার পেট্রল, ৬ হাজার ২০০ লিটার অকটেন এবং ২১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে। নিয়মিতভাবেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানিয়েছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পরিচিতদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থানে তেল সংকটের খবর শুনে তারা দ্রুত ফিলিং স্টেশনে আসেন। তারা পরে এসে জানতে পারেন যে প্রকৃতপক্ষে কোন সংকট নেই।
মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী মন্তব্য করেন, “পরিচিত কয়েকজনের কাছ থেকে শুনলাম তেলের সংকট হতে পারে। তা ছাড়া বিষয়টি ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তাই আমি ঝুঁকি না নিয়ে তেল নিতে চলে এসেছি। কিন্তু পাম্পে এসে জানতে পারলাম পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। আসলে গুজবের কারণেই এত ভিড় হয়েছে।”
আক্কেলপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। গুজবের কারণে হঠাৎ অনেক মানুষ একসঙ্গে তেল নিতে আসায় ভিড় হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
ফিলিং স্টেশনের মালিক বজলুর রশিদ মন্টু কবিরাজ উল্লেখ করেন, “জ্বালানি তেলের সংকটের কোনো তথ্য নেই। আমরা ডিপো থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান জানান, “উপজেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে। গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ