মোঃ শরীফ উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৯:৫২ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার পর মাত্র ১০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয়রা তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনেকে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, "সারাদেশে বিদ্যুতের যন্ত্রণা সহ্য করার মতো নাসিরনগরবাসীর মতো এত ধৈর্যশীল আর কেউ আছে বলে মনে হয় না—১৮ ঘণ্টা পর ১০ মিনিট!"
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পর স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ আসায় তাদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে নাসিরনগরের মানুষের মধ্যে ক্রমাগত ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাপ্তাই বাঁধের সব জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে।
পানি ছাড়ার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
হ্রদের পানির উচ্চতা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত মাসেও কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল।
বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।
এছাড়াও স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে আরো প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। ফলে কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি সরকার গুমের জন্য এমন আইন আনতে চায় যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। আমরা গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায়। যারা অপরাধী তারা সাজা পাবে। কিন্তু গুম কমিশনে এগুলো ছিল না। আমরা চেয়েছি যারা গুমের শিকার তারা যেন সরাসরি আদালতে যেতে পারে। এ ধরনের আইন আমরা সংসদে প্লেস করেছি৷
তিনি বলেন, কোন ধরনের গুমে কী সাজা সেগুলো অ্যাড্রেস করেছি। তদন্ত কারা করবে, কীভাবে করবে সেগুলো ঠিক করেছি। গুমের শিকার কাউকে পাওয়া না গেলে তার ওয়ারিশগণ যেন তার সম্পদ পান সে বিধান করেছি। যারা গুম করেছে তারা যদি শেষ অবধি ক্ষতিপূরণ দিতে নাও পারে তবুও রাষ্ট্র যেন সেটা দিতে পারে সেই বিধান করেছি।
এভাবেই গুম প্রতিকার আইন-২০২৬ নিয়ে এসেছি আমরা। এই আইনে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এটা তো সংশোধন করা যাবে। আমরা সেই আইনটাই করেছি। এটা দরকার ছিল।
মন্ত্রী বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার। আমি কি চাইব না যে, একটি শক্তিশালী আইন হোক গুম নিয়ে? এখানে কি আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে? আমরা আজ সরকারে আছি, আগামীতে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। ফলে গুমের শিকার যেই হোন, তারা বিচার পাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাদের নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা যারা গুম হয়েছি তাদের মধ্যে আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম কাদের বেঁচে আছেন। আমরা কী জানতাম আমরা বেঁচে থাকবো? আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মন্তব্য করেছেন যে, উদীয়মান নতুন আঞ্চলিক চুক্তি ও সমঝোতা একটি ‘নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এতে মুসলিম প্রতিবেশী দেশগুলো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখবে।
এছাড়া, তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।
গালিবাফ বিদেশি শক্তির বিষয়ে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদেশি শক্তিগুলো এই অঞ্চলের জন্য দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয় এবং তারা এ বিষয়ে আগ্রহীও নয়।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক ভূখণ্ডের বাইরের শক্তিগুলোর উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল নিরাপত্তাব্যবস্থা ‘ভঙ্গুর ও পরনির্ভরশীল’ হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, গালিবাফ উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নিরাপত্তাব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রসঙ্গেও আলোচনা করেন। গালিবাফ বলেন, দেশটিতে ‘শিয়া-সুন্নি ঐক্য’ একটি আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়; বরং এটি জাতীয় শক্তির অন্যতম ভিত্তি এবং দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চয়ন মোল্লা (২৩) নামের এক সৌদি প্রবাসী। দুর্ঘটনার সময় তার দুই বন্ধু সিয়াম (২৩) ও নয়ন (২১) আহত হয়েছেন।
আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত চয়ন মোল্লা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের হাসনহাটি গ্রামের দলিল উদ্দিন মন্ডলের বড় ছেলে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চালক চয়ন মোল্লা তার দুই বন্ধু সিয়াম ও নয়নকে নিয়ে ভাঙ্গায় ঘুরতে এসেছিলেন।
ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক চয়ন মোল্লা মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত চয়ন মোল্লার চাচা আসির উদ্দিন জানান, চয়ন বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
সন্ধ্যার পর তার মৃত্যুর খবর পাই। তিনি জানান, চয়ন সৌদি আরবে বসবাস করতেন। গত কোরবানির ঈদে বাড়ি এসেছিল চয়ন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সাজ্জাদুর রহমান জানান, অজ্ঞাত গাড়িটির সন্ধান চলছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ