ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বার্সেলোনার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছে রিয়াল, উয়েফার হাতে বিশাল নথি


বার্সেলোনার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছে রিয়াল, উয়েফার হাতে বিশাল নথি

দীর্ঘকাল ধরে চলমান নেগ্রেইরা কাণ্ড ইউরোপে নতুন একটি মোড় নিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃক জমা দেওয়া কাগজপত্র বর্তমানে যাচাই করছে উয়েফা। স্প্যানিশ ক্লাবটি বার্সেলোনাকে আরও কড়া নজরে আনতে চাপ সৃষ্টি করছে।

বৃহস্পতিবার উয়েফা জানায়, তারা রিয়ালের কাছ থেকে ‘প্রচুর নথি’ পেয়েছে। এই নথিগুলো বার্সেলোনা ও হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে নিয়ে চলমান তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট। নেগ্রেইরা ছিলেন স্পেনের রেফারি কারিগরি কমিটির সাবেক উপপ্রধান। গোল ডটকমের মাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

উয়েফার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা পরিদর্শকেরা এই কাগজপত্র গ্রহণ করেছেন। চলমান পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তারা এগুলো পর্যালোচনা করবেন। তবে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে উয়েফা কোনো ঘোষণা দেয়নি।

আরও পড়ুন: জিম্বাবুয়েকে বোলিং-ব্যাটিংয়ে পিষ্ট করল আফগানিস্তান

স্পেনে মামলার গতি নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ হতাশ। এজন্য তারা বিষয়টি ইউরোপীয় পর্যায়ে জিইয়ে রাখতে চায়। স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কার খবর অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ক্লাবটি উয়েফা ও ইউরোপের অন্যান্য ফুটবল প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তারা তদন্তের প্রভাব নিয়ে এসব সংস্থাকে অবহিত করছে।

সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে জুন মাসে রিয়াল একটি চিঠি উয়েফাকে প্রদান করে। ওই চিঠিতে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার দাবি জানানো হয়। ইউরোপীয় সংস্থা আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। রিয়াল দাবি করেছে, তারা এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেছে যা নেগ্রেইরাকে দেওয়া বার্সেলোনার অর্থ নিয়ে উদ্বেগকে আরও জোরালো করে। ক্লাবটির মতে, এটি প্রতিযোগিতার সততার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

২০২৩ সালের মার্চে উয়েফা প্রথম তদন্ত শুরু করে। বার্সেলোনা নেগ্রেইরা কাণ্ডে নিজেদের নিয়ম ভেঙেছে কি না, তা দেখতে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার মূল বিষয় কী

আরও পড়ুন: জ্বরের কারণে প্রথম ম্যাচে না খেলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ফিরছেন মিরাজ

মামলার কেন্দ্রে রয়েছে নেগ্রেইরা ও তার সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে বার্সেলোনার দেওয়া অর্থ। বছরের পর বছর ধরে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে। তদন্তের নথি অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মোট অঙ্ক ৭৫ লাখ ইউরোর বেশি। বার্সেলোনা জানায়, রেফারিং সংক্রান্ত কারিগরি প্রতিবেদন ও পরামর্শ সেবার জন্য এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে। পুরো তদন্তে ক্লাবটি কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে আসছে।

মামলাটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে কারণ নেগ্রেইরার পদ। তিনি স্পেনের রেফারিং ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেই ক্লাব থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন। তবে তদন্তকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি ম্যাচের ফল প্রভাবিত করতে রেফারিদের অর্থ দিয়েছেন।

রিয়াল বলছে, বিষয়টি স্পেনের বাইরেও খতিয়ে দেখা উচিত। একই সাথে ক্লাবটি উয়েফার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নেগ্রেইরা বিষয়ক তাদের অবস্থান অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে উয়েফার সর্বশেষ বিবৃতিতে একটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে। রিয়ালের প্রমাণ এখন সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে রয়েছে। এটি বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নতুন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আসবে, তার নিশ্চয়তাও এতে নেই। তবে উয়েফা নথিগুলো যাচাই করছে। ফলে ইউরোপের মঞ্চে নতুন অগ্রগতির সুযোগ খোলা থাকছে।

আরও পড়ুন: শোচনীয় পরাজয়ের পর জরিমানাও গুনছে বাংলাদেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদনের সময় বাড়লো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদনের সময় বাড়লো

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের গেজেট শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে গণবিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। স্মারকটিতে উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষর করেন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নতুন করে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

মন্ত্রণালয় জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য পূর্বে বিভিন্ন সময়ে আবেদন গ্রহণ এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আবেদনকারীদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গেজেটভুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের বিধান রয়েছে।

নতুন করে গেজেটভুক্তির সুযোগ ও আবেদনের সময়সীমা নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রণালয় আবেদন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন দাখিল এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণের জন্য আগ্রহীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইল সদরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে ১৪ বছরের বাল্যবিবাহ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


টাঙ্গাইল সদরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে ১৪ বছরের বাল্যবিবাহ বন্ধ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের আউলটিয়া ঋষিপাড়া কালী মন্দির এলাকায় ১৪ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বাল্যবিবাহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়ার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের লগ্ন সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নির্ধারিত ছিল। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিক ইউএনও শাহীন মিয়াকে অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পর ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার শাম্মীকে দায়িত্ব দিয়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পাঠান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় কিশোরীর বাবা লিখিত মুচলেকা প্রদান করে অঙ্গীকার করেন যে, তিনি মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তার বিয়ে দেবেন না।

বাল্যবিবাহ বন্ধের সময় টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মাহবুব এবং স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সুজন উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বাল্যবিবাহ বন্ধ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে: হুইপ নিজান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে: হুইপ নিজান

॥ মোশতাক আহমদ ॥

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মন্তব্য করেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর, টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। এই সাফল্য কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়; এটি সরকারের, বিরোধী দলের এবং জনগণের সম্মিলিত অর্জন। সুতরাং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হলে সকলেরই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

হুইপ বলেন, সরকারকে তার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং বিরোধী দলকেও চেষ্টা করতে হবে।

"আমরা এমন কোনো কাজ করব না, যাতে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।"

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। তবে যদি কোনো কর্মসূচি দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক বিশৃঙ্খলা বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। যদি সরকারের পদক্ষেপ মাত্রাতিরিক্ত দমনমূলক হয়ে ওঠে, তাহলেও গণতন্ত্রের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তাই উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে, যেন সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, গণতন্ত্রের বর্তমান যাত্রাকে একটি নবজাতক শিশুর সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই শিশুকে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই এমনভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষের আচরণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান, সেগুলো একদিনে কিংবা একটি সংসদের মেয়াদে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তবে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়ন করা গেলে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং জুলাই চার্টারের বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যেখানে ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব, সেখানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অক্ষরে অক্ষরে সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও বড় বড় জায়গাগুলোতে ঐকমত্য তৈরি করে এগিয়ে যেতে হবে।

হুইপ বলেন, জুলাই চার্টারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেসব মতামত দিয়েছে বা যেসব বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছে, সেগুলোকে সম্মান করেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার কারণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ শুধুমাত্র স্লোগান বা বক্তৃতার বিষয় নয়; একজন রাজনৈতিক কর্মীর চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এর প্রতিফলন ঘটতে হয়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে মিল সম্পর্কে তিনি জাতীয়তাবাদ, দেশের স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক সততার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, তা হলো দেশের স্বার্থ ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে দৃঢ়তা। একই ধরনের দৃঢ়তা তিনি তারেক রহমানের মধ্যেও দেখতে পান বলে জানান।

হুইপ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অন্ধ আনুগত্য পছন্দ করতেন না। একজন রাজনৈতিক কর্মীর নিজের নেতার ভুল ধরিয়ে দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার কর্মী, আমার কলিগ আমাকে বলবে- আপনার এই বিষয়টি মনে হয় ঠিক হচ্ছে না। যদি ঠিক না হয়, আমি সংশোধন করে নেব। একজন নেতা তার কর্মীদের এ ধরনের মতামত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করবেন-এটাই নেতৃত্বের শক্তি।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে হুইপ বলেন, অল্প সময়ের পর্যবেক্ষণেই তিনি তাঁর মধ্যে সংসদের প্রতি আগ্রহ, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ লক্ষ্য করেছেন।

তিনি বলেন, সংসদে একজন নেতার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও অন্যরা নানা সমস্যা নিয়ে দেখা করতে আসেন। ব্যস্ততার মধ্যেও সংসদ নেতা বিরক্তি প্রকাশ করেন না, এটি একটি অসাধারণ গুণ।

হুইপ নিজান বলেন, সংসদ সদস্যদেরও সময় ও পরিস্থিতি বুঝে নেতার সঙ্গে দেখা করা উচিত। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, স্পিকার বা বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আলোচনা চলাকালে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দেখা করতে না যাওয়াই সংসদীয় শিষ্টাচারের অংশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংসদে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে শুধু নিয়ম রক্ষা করাই যথেষ্ট নয়; সংসদের প্রতি আন্তরিক আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রয়োজন। সংসদ নেতা তারেক রহমান পার্লামেন্টকে ভালোবেসে ফেলেছেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি শুভ যাত্রা।

রাজনৈতিক নৈতিকতা প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় অনেক রাজনৈতিক কর্মী ত্যাগ শিকার করেন। কিন্তু আন্দোলন সফল হওয়ার পর ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সেখানেই একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হয়।

তিনি বলেন, কেউ যদি ক্ষমতা বা প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব আচরণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। দখল, কালোবাজারি, মাদক বা মানব পাচারের মতো কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক দলের ঘোষিত আদর্শের অংশ হতে পারে না। দলের নেতাকর্মীদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে।

হুইপ নিজান বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেই হবে না; পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে। নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক।

কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, নির্বাচন হবে, সরকার ও বিরোধী দল থাকবে-এটাই গণতন্ত্র। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের আচরণের মাধ্যমে সততা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একজন রাজনৈতিক নেতা অন্যদের সৎ থাকার নির্দেশ দিয়ে নিজে অনৈতিক সুবিধা নিলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের স্বার্থে পরিচালনা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিক সমাজ—সবাইকে নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যেহেতু স্টিয়ারিং সিটে আছি, আমরা যেহেতু সরকারে আছি, কমান্ডে আছি, পাইলট হিসেবে আছি, আমাদের কোরবানি এখানে সবচেয়ে বেশি থাকতে হবে।

হুইপ বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব শুধু সরকার বা সংসদের নয়। বিরোধী দল, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষেরও ভূমিকা রয়েছে। সরকারকে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে, যা জনজীবন বিপর্যস্ত করে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, সংসদীয় শিষ্টাচার, রাজনৈতিক সংযম এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বর্তমান সংসদের সামনে বড় দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে হুইপ নিজান বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু একবারে হবে না। কিন্তু এবার যদি আমরা বড় বড় জায়গায় অগ্রগতি করতে পারি, যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে সেটিই হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান আন্তর্জাতিক সকল ধরনের বাধ্যবাধকতা ও নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে তার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে বারবার অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ তেহরানের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেন।

বৈঠকে মাইক ওয়াল্টজ স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, ইরান নিয়ম ভঙ্গ করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, তেহরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতে, কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক বা শান্তিকামী উদ্দেশ্য’ নেই। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ এবং তাদের স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতিও বারবার নাকচ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই মার্কিন কূটনীতিক।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের ধারাবাহিক নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরস বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও ইরানের আলোচকেরা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি ইরান বরাবরের মতো এক বাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর শর্তাবলী অনুসারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের নিজস্ব ও বৈধ অধিকার।

একই সাথে, আইএইএ-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। জাতিসংঘের এই পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার সাম্প্রতিক গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাবকে তারা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%