ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী


আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিক ব্যবসার জন্য ব্যবহার করেছে। বর্তমানে, আরেকটি দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যবসা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে আগ্রহী নয়। বরং, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সকলের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আজ দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রত্যেককে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই দলটির প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জানমাল ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গত নির্বাচনে তাকে সহযোগিতা করেছেন এবং এমনকি তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময়ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকলকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে

তিনি বলেন, আট মাসে এতগুলো উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সবার কাছে দোয়া চান, যাতে আল্লাহ তাঁকে সব ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ধর্মমন্ত্রী জানান, মুরাদনগরের পরীক্ষার ফলাফল তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই থেকে তিনবার খারাপ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন।

তিনি বলেন, সরকার থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হবে, অথচ শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হবে না— এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিভাবকরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। তাদের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের ফলাফলে থাকতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, তিনি প্রতিভা স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার পরিবেশে অভিভূত হয়েছেন। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টির উন্নয়নে প্রয়োজন হলে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: সরকার পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মুরাদনগরের মানুষের টানে এলাকায় এসেছেন উল্লেখ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, হিপ রিপ্লেসমেন্ট ও চোখের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করেই তিনি এখানে এসেছেন। চিকিৎসার জন্য ছুটি দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুরাদনগরের জনগণ তাকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কায়কোবাদ যতক্ষণ বেঁচে আছে, ততক্ষণ আপনাদের পাশে থাকবে।’

উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুরাদনগরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, আল্লাহর রহমতে সেগুলো সম্পন্ন হলে আগামী পাঁচ বছরে এখানে আর উন্নয়নকাজের প্রয়োজন হবে না।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ লাখ টাকা, মোট ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে সারের আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর

এছাড়া মুরাদনগর উপজেলায় ১ লাখের বেশি গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৭ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য অর্থ দেওয়া নয়, বরং বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে একটি উপজেলায় ১ লাখের বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগে অংশ নেওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন এবং তাদের উৎসাহ দিতে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়টিকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি এর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদবিরোধীদের ঐক্য অটুট বলছেন নেতারা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রিসভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ এম


মন্ত্রিসভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : মন্ত্রিসভা বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করেছে। একই সাথে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়া, হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, "দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।" সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে এটি এখন ক্যাবিনেটে পাস হয়ে বিল আকারে সংসদে যাবে।

সংসদ না থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ দিয়ে কার্যক্রম চালানো গেলেও, সংসদ চালু হলে প্রথম দিনেই তা বিল আকারে পেশ করে পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০২৬ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এ এ পর্যন্ত মোট ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে।" সর্বশেষ সংশোধনটি গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে করা হয়।

নতুন সংশোধনে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগ-বঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সভায় ২০২৭ সালের জন্য মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ছুটির মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন- যার মধ্যে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (২টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে।

নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন- যার মধ্যে ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (১টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে। ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে। সাপ্তাহিক ছুটির ৭ দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যত সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।

বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এই চুক্তির ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধী আটক ও অন্যান্য আইনি সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডা. হাদী ছিলেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য দূরদর্শী: ডা. জাহিদ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ এম


ডা. হাদী ছিলেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য দূরদর্শী: ডা. জাহিদ হোসেন

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে যদি কোনো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের নাম স্মরণ করা হয়, তবে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর নাম সর্বপ্রথম উচ্চারিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ডা. হাদী শুধুমাত্র চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে তিনি যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত আলোচনা ও স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই মন্তব্য করেন।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এবং ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, "দেশটা আমাদের সকলের, এ দেশের মানুষকে সেবা করার দায়িত্বও আমাদের সকলের।"

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিএমইউতে রেফার করা রোগীদের জন্য বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।

চিকিৎসকদের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা বৃদ্ধির বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

সভায় আলোচক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর কর্মময় জীবন, কঠোর সময়ানুবর্তিতা, চিকিৎসাসেবায় তার ঐতিহাসিক ভূমিকা, রোগীদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদানের বিষয়গুলো গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের বিরুদ্ধে সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ এম


দুদকের বিরুদ্ধে সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমদানি-রপ্তানির নামে ঋণ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকটির ঢাকার স্থানীয় শাখা থেকে এসব ঋণ নিয়ে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

মামলাগুলো মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ দায়ের করা হবে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা বাদী হয়ে মামলাগুলো দাখিল করবেন। সোমবার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

দুদক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবসৃষ্ট স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হবে। দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমানসহ ২২ জনকে আসামি করা হবে। তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে।

দুদক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এসব ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন। স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস নামে কথিত একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ দেখানো হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার কথা উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানটির পূর্বে কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(ক) ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর (সংশোধিত ২০১৫) ৪(২) ও ৪(৩) ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান, পরিচালক ইকবাল আহমেদ, গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ ও শামসুদ্দোহা।

এছাড়া আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল উদ্দিন ও পরিচালক সাহিদা রহমান, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীরের নামও মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছে। সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং সোহেল এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানও আসামি হচ্ছেন।

জনতা ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন, স্থানীয় শাখার সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান ও মো. মমতাজুল ইসলাম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যবস্থাপক মো. সালেহ আহম্মেদ এবং এলসি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামও মামলার আসামি হচ্ছেন।

সালমান এফ রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহমেদ অনি ও রুমান উদ্দিন।

দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও তিনটি মামলা করা হয়েছে। নতুন তিনটি মামলা দায়ের হলে সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১৬টিতে পৌঁছাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একই দিনে দুইবার সড়ক উদ্বোধন, সকালে জামায়াত এমপি, বিকেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ এম


একই দিনে দুইবার সড়ক উদ্বোধন, সকালে জামায়াত এমপি, বিকেলে জেলা পরিষদের প্রশাসক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী একটি সড়ক একই দিনে দুইবার উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ আবারও সড়কটি উদ্বোধন করেন। এই ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এমন পাল্টাপাল্টি উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, কোনোটিই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়।

সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ৫৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের কাজ এলজিইডি শুরু করেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয় দিন আগে নির্মাণকাজ শুরু হলেও রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সড়কটি নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল ও নজরদারি সহজ হবে। পাশাপাশি পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্ত এলাকার মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে সড়কটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। একই দিন বিকেলে সড়কটি পুনরায় উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ।

সকাল ও বিকেলের দুই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যকে একে অপরের সমালোচনা করতে দেখা যায়। সকালে এমপি বুলবুলের উদ্বোধনের সময় এলজিইডির নামসংবলিত ব্যানার থাকলেও বিকেলে হারুনুর রশীদের উদ্বোধনের সময় তা ছিল না। সাবেক এমপি ফিতা কেটে সড়কটির উদ্বোধন করেন। তবে দুই অনুষ্ঠানেই এলজিইডির কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উদ্বোধন শেষে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আপনি (হারুনুর রশীদ) যদি চান চাঁপাইনবাবগঞ্জে যত ভালো কাজ হবে, এর উদ্বোধনে আমার সাথে থাকতে চান, ওয়েলকাম, আপনি থাকবেন আমার সাথে। কারণ আমি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে জেলাকে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে চাই। সুতরাং, আমি যেই কাজ উদ্বোধন করব, আপনি আমার সাথে থাকেন কোনো অসুবিধা নাই। আপনি জেলা পরিষদের প্রশাসক, সেই বরাদ্দ নিয়ে থাকেন। আপনার যে বরাদ্দ আসবে, কী বাজেট আসছে আপনি কোন খাতে খরচ করছেন এবং করবেন, সেটি জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে খোঁজ-খবর নেয়ার দায়িত্ব এমপির আছে। এটি শুধু আমার একার নয়, সারা বাংলাদেশের সকল এমপির আছে। সুতরাং আপনার তদারকি করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু আমার কোনো কাজের দিকে তাঁকানো আপনার দায়িত্ব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে যা কাজ হবে, তার সব কাজের দায়িত্ব হচ্ছে এমপির। যেটা এমপির কাজ, এমপিকে করতে দিবেন। ৬২ হাজার ৬১৯ ভোট বেশি পেয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি, এতগুলো মানুষ আমাকে আপনার থেকে বেশি সমর্থন দিয়েছে। আপনার ভোট আপনি কিভাবে পেয়েছেন, সেটি জনগণ জানে। জনগণের কোনো অধিকার নিয়ে আপনি (সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ) হউন আর যেই হউন ছিনিমিনি খেললে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করব। এখানে এলজিইডির কাজ হবে, আর আপনি উদ্বোধন করবেন। আমার কাজ, আর আপনি উদ্বোধন করবেন। এই এখতিয়ার আপনাকে কে দিয়েছে, জনগণ দেয়নি।’

একই সড়ক বারবার উদ্বোধনের কারণ জানতে চাইলে সাবেক এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এনিয়ে এমপি বুলবুলকে প্রশ্ন করুন। তিনিই বলতে পারবেন। আমি নিজে এসব রাস্তা-ঘাটের বরাদ্দ নিয়ে আসছি, আর তিনি (এমপি বুলবুল) গিয়ে উদ্বোধন করছে। বরাদ্দ-প্রকল্প আমি নিয়ে আসছি, আর ব্যানার টাঙিয়ে গিয়ে উদ্বোধন বললেই হলো? এত ছ্যাচড়ামি করার কোন দরকার নাই। একজন এমপির প্রটোকল তাকে বুঝতে হবে। বরাদ্দ নিয়ে আসার সুবাদে আমি সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে পরিদর্শন বা উদ্বোধন করতেই পারি।’

এর আগে উদ্বোধন-পরবর্তী আলোচনা সভায় হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এমপিকে (নুরুল ইসলাম বুলবুল) বলব, বহু কাঁচা রাস্তা আছে ভাই, তুমি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসে কাজ করো, তোমার বরাদ্দ আনার ক্ষমতা আমরা দেখতে চাই। মানুষ চাই, এখানে আরও কাজ হোক, উন্নয়ন হোক, কোন অসুবিধা নাই। কথাবার্তা বলার সময় খুব সাবধানে বলবা, উল্টাপাল্টা কথা বললে, জনগণ কিন্তু সেব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এরকম ছ্যাচড়া এমপি আমি দেখিনি। এত ছ্যাচড়া এমপি বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। সড়কটি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ ছিল, বাস্তবায়নেও আমার অনেক সহযোগিতা ছিল।

সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘বর্তমান ও সাবেক এমপি উদ্বোধনের দুই সময়ই তিনি উপস্থিত ছিলেন।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম জানান, এলজিইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। এটি হলে ফলক বসানো হতো। কিন্তু তা করা হয়নি। বর্তমান ও সাবেক এমপি দুজনই তদারকির কাজে গিয়েছিলেন। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন বা তদারকিতে গেলে তাঁরা সেখানে উপস্থিত থাকেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%