০১:০২ এম
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে অবস্থিত একটি অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি রয়েছে। এই স্থানটি দেখলে মনে হয় যেন হারিয়ে যাই এর অপরূপ সৌন্দর্যে। যেখানে ঝর্ণার বুকে জেগে ওঠা চরের বালু চকচক করছে। এর পাশেই উঁচু টিলা রয়েছে। টিলার কোল ঘেঁষে সাজানো রয়েছে নানা কারুকার্য। এই গ্রামের নাম ‘হারিয়াকোনা’।
হারিয়াকোনা, গারো পাহাড়ের নিঝুম অরণ্য গ্রাম। উপজাতিদের বসবাসের কারণে এই গ্রামে সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখানে পা রাখলে যে কারোরই মন চাইবে হারিয়ে যেতে। ঝর্ণার দুই পাশে সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত অসংখ্য উচুনিচু পাহাড় রয়েছে। গভীর মমতা ও ভালোবাসায় গড়া উপজাতিদের বর্ণিল জীবনধারা এখানে বিদ্যমান। গারো পাহাড়ের শেষ গ্রাম হিসেবে হারিয়াকোনা আজও আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে মুক্ত। এখানে ঘরবাড়িগুলো পাহাড়ি টিলার ওপর অবস্থিত। দূর থেকে দেখা গেলে মনে হবে যেন আকাশছোঁয়া কুটির। তাদের জীবনযাত্রা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় প্রকৃতির সঙ্গে তাদের লেনদেন যেন বহুদিনের। ভারত থেকে নেমে আসা বন্য হাতির তাণ্ডবে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন-জীবিকা। প্রকৃতির নিয়মে গারো পাহাড়ের এই গ্রামটি প্রাকৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময়।
শ্রীবরদী শহর থেকে হারিয়াকোনার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা এবং পাঁচ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এর মধ্যে আড়াই কিলোমিটার দুই পায়ের পাহাড়ি পথ রয়েছে। এখানে কোনো যানবাহন চলে না। প্রচলিত আছে যে, গ্রামটিতে কেউ একবার যে পথে এসেছে, সে পথে আর ফিরে যেতে পারেনি। এ কারণে এ গ্রামের নাম হয়েছে হারিয়াকোনা।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
এই গ্রামের উত্তর ও পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া অবস্থিত। দুই দেশের সীমানা পিলার নম্বর ১০৯৩-১০৯৪। পশ্চিমে দিঘলাকোনা এবং দক্ষিণে বাবেলাকোনা রয়েছে। আড়াই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গ্রামটিতে প্রায় অর্ধশত টিলাভূমি রয়েছে। টিলার ওপর বসতবাড়ি রয়েছে ১৫০টি উপজাতি পরিবারের। এদের মধ্যে বেশির ভাগ গারো, কোচ, হাজংসহ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। গ্রামের মাঝখানে একটি গির্জা, একটি জিবিসি পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফুটবল খেলার মাঠ ও কয়েকটি মুদি দোকানসহ রয়েছে চায়ের দোকান। প্রতি রবিবার এখানে একত্রিত হন গ্রামবাসীরা। উপাসনা ও ধর্মীয় কাজ সেরে তারা নানা আলোচনায় মেতে ওঠেন। এদিন যেন উপজাতিদের মিলনমেলা। পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত গ্রামের মাঝে সড়কটির দুই পাশে প্রাকৃতিকভাবেই গাছের লতাপাতায় ছাওয়া। গ্রামে প্রবেশ করতেই মনে হয় প্রকৃতি যেন ভ্রমণপিপাসুদের স্বাগত জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন