প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং ফলবান কলাগাছ কাটার ন্যায্য বিচার দাবি করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর ) দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তার স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন, শাহনেওয়াজ পারভীন, বোন জামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদআলমসহ আরো অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে মো. সারওয়ার জাহান উল্লেখ করেন, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী এবং ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চুরি-ডাকাতির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সোলায়মান মোল্লা গংদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। যারা প্রতিবাদ করতে যান, তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন সোলায়মান মোল্লা গংরা।
সারওয়ার জাহান আরও বলেন, আসামীরা জামিনে বের হয়ে রিংকু, তার নয় বছরের শিশু সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপহরণ, খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়ির মালামাল এবং প্রায় তিন লক্ষ টাকা মূল্যের নীরিহ অবলা প্রাণী ষাড় গরু লুট করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রিংকু ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বৃদ্ধা মা একাই ওই বাড়ি পাহাড়া দিচ্ছেন। আসামীপক্ষ ফ্যাসিস্ট সোলায়মান মোল্লা গংরা প্রতিনিয়ত অপহরণ, হত্যা, গুম, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক একটি প্রভাবশালী মহল আসামীদের পক্ষ নিয়ে গুরুতর এ ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, প্রথমে অভিযোগ দায়েরের জন্য শ্রীবরদী থানায় গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁর নির্দেশে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি গ্রহণ করেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই প্রধান আসামী সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেফতার করেন।
কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দুইজন জামিন পেয়ে যান। পরবর্তীতে প্রধান আসামী সোলায়মান মোল্লা ও অন্যান্য আসামী ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া আদালতে হাজির হলে তাঁদেরকেও জামিন দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম বিলভরট এলাকায় অবস্থিত রিংকুর বাড়ি থেকে ১৫০ ফিট পশ্চিম পার্শ্বে তার ৩০ শতাংশ জমির উপর রোপিত প্রায় ৪ শত কলাগাছ অনৈতিক চাঁদা দাবীর টাকা দিতে না পারায় কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফলবান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী মো. সোলায়মান মোল্লা ও তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স গংরা গভীর রাতে রাম দা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ, বর্শাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলাবাগানে হামলা চালিয়ে ফলবানসহ সকল কলাগাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কলাবাগানে সাথী ফসল হিসেবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন গাছের চারাও নষ্ট করা হয়। পাহারারত অবস্থায় রিংকু, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করা হয়। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে সোলায়মান গংরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন