ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ


ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পাশাপাশি সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও উসকানির দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রকাশ করেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৫০০ পৃষ্ঠার এই রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগে ইনুর দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এসব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি বিপ্লবের ডাক দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়। তবে এই দুই অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দেন।

ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। এ অভিযোগে তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ সদস্য দগ্ধ

সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

এদিকে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তারসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সাধারণ শোক পালন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাশ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষকের সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অপ্রতীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ শোক দিবস উপলক্ষে রোববারের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের সহকর্মীর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। আমরা এতটাই শোকাহত যে স্বাভাবিক কাজ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যাটরিনার ওজন নিয়ে ট্রল, সালমানের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


ক্যাটরিনার ওজন নিয়ে ট্রল, সালমানের কড়া বার্তা

বলিউড অভিনেতা সালমান খান সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিং এবং তারকাদের শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘বিগ বস ২০’-এর সাম্প্রতিক পর্বে তিনি অন্যদের হেয় করে অর্থ উপার্জন করা এবং তারকাদের বয়স ও চেহারা নিয়ে ট্রলিংয়ের সমালোচনা করেন।

চলতি মৌসুমের উপস্থাপক হিসেবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে তিনি এই বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতিযোগী আরিশফা খানকে ঘিরে এক বিরোধের সময় ইউটিউবার স্কাউটওপি তার ইউটিউব ও গেমিং সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ‘খতম কর দো ইসকো’ অর্থাৎ ‘ওকে শেষ করে দাও’ মন্তব্য করেছিলেন। সালমান এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, "কাউকে নিচে নামিয়ে আপনারা টাকা উপার্জন করছেন। কারও চেহারা, ওজন, পরিবার, ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্রমণ করা আসলে ট্রোলারের পারিবারিক শিক্ষা ও মানসিকতারই পরিচয় দেয়।" সালমানের ভাষায়, "আপনি নিজের পারিবারিক শিক্ষাই দেখাচ্ছেন।"

এরপর গর্ভধারণের পর নারীদের শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যটি সম্প্রতি অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে গণপতি উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ক্যাটরিনার চেহারা ও ওজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করা হয়। সম্প্রতি মা হয়েছেন এই অভিনেত্রী। সন্তান জন্মের পর তার শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও কটাক্ষ করেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, "কেউ গর্ভবতী হলে তাকে কেন ট্রোল করবেন? গর্ভধারণের পর সবারই ওজন বাড়ে। গর্ভবতী ছিলেন বলে ওজন বেড়েছে। আবার সিনেমায় ফিরলে ফিট হয়ে যাবেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছেন।"

নিজের বয়স ও চেহারা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গ তোলেন সালমান। তিনি বলেন, "বুড়ো হয়ে গেছে, অবশ্যই ৬০ বছর বয়স হয়েছে।" এরপর তিনি বলেন, "আপনি সব সময় ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’-র মতো থাকতে পারবেন না।"

তারকাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চেহারা নিয়ে কেন এত আলোচনা হয়, সেই প্রশ্নও তোলেন সালমান। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, যারা নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, তারা কেন অন্যের চেহারা ও ওজন নিয়ে মন্তব্য করতে সময় ব্যয় করেন।

সালমান আরও প্রশ্ন করেন, "আপনি কাকে ট্রোল করতে চান এবং কেন ট্রোল করতে চান?" অনলাইনে তারকাদের আক্রমণ করার জন্য কিছু প্রযোজক বা অভিনেতা মানুষকে অর্থ দিতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পর্বটিতে তারকাদের শরীর ও বয়স নিয়ে নিয়মিত মন্তব্যের বিষয়ে সালমানকে বেশ ক্ষুব্ধ দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি নিজের টুপি ও টি-শার্ট খুলে মেকআপ শিল্পী রাজুকে ডাকেন। এরপর নিজের মেকআপ মুছে ফেলেন তিনি। চেহারার পরিবর্তন নিয়ে যারা নিয়মিত মন্তব্য করেন, তাদের উদ্দেশেই তিনি এমনটি করেছেন বলে মনে করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে, যা সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বক্তব্য, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে তাদের মতামত প্রদান করেছে, কিন্তু সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নয়। তাদের দাবি, গণভোটের ফলাফলের পর সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা জনগণের মতামতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই কারণেই তারা বিশেষ কমিটির সঙ্গে নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ, গণভোটের রায় সম্পর্কে তাদের অবস্থান এবং সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে তাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান প্রক্রীর বিরুদ্ধে তাদের আপত্তির বিষয়গুলোও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের দ্বারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত- দাবি পুলিশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত- দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি পুলিশের। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে  সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে পুলিশ।

শনিবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার রাতে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে অপ্রতিমকে আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেছেন, আমরা পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরব। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রতিমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

এদিকে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, এসআরবি। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান অপ্রতিমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একমাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮ কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন এবং আল আমিনের নাম উঠে আসে।

ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদক চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া অপ্রতিমের হাতের মূল্যবান আইফোন ছিনতাইসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার প্রথমে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে তুহিন নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় আনাছ নামের অপর কিশোরসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়। 

সূত্র জানায়, সেখানে কিশোর গ্যাং এর একটি চক্র আগে থেকেই ওঁতপেতে ছিল। তাকে শ্বাসরুদ্ধ এবং মারধর করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তার আইফোন এবং মানিব্যাগ লুটে নেওয়া হয়। পরে ঘাতকরা তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক’-এর পেছনের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিনকে আটক করেছে পুলিশ। 

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কুবি ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। নিহতের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। 

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতিমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

নিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো আমি জানি না। আমি ঘাতকদের বিচার চাই। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%