শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২০ পি.এম
জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংক থেকে অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির বৈঠকে সারা দেশে বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্মাণকাজে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, মো. আব্দুল মান্নান এবং সুলতানা জেসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের ফলে পরিবেশের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। পরিবেশ দূষণ কমাতে নির্মাণকাজে প্রচলিত পোড়ামাটির ইটের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থায়ন না হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হবে। এই উদ্দেশ্যে কমিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে কতগুলো বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা তৈরির মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে কমিটি মনে করছে।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ১০১টি প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। গত ১৬ বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার ও বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, বিরোধী দল দেশকে দাসত্বের মধ্যে রাখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের আন্দোলনের পেছনে কী কারণ এবং কী দাবি রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে বলেন, "আমাদের বয়স ৬ মাস, ৭ মাস চলছে। এর মধ্যে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সমস্যা। আমরা মাত্র ঘরে ঢুকেছি। ঘরে কাঠ মিস্ত্রি লাগবে, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি লাগবে, টাইলস মিস্ত্রি লাগবে, ঠিকঠাক করতে সময় লাগে। এখনই লংমার্চ শুরু করে দিয়েছে, আমাদের সময় বেশি দেওয়া যাবে না, আজব ব্যাপার।"
তিনি আরো বলেন, "তাদের কি দাবি, আমরাও বুঝি না। কী কারণে কি দাবি করে আন্দোলনে নেমেছে সেটাও বুঝতে পারছি না। এদের মূল বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের কিছু ব্যাপার আছে, তারা এখান থেকে সিদ্ধান্ত নেয় না, বাহির থেকে সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা আজীবন এ দেশকে দাসত্বের মধ্যে রাখতে চায়।"
এ সংসদ সদস্য বলেন, "বিগত দিনে দেশে অনিয়ম, নিয়মে পরিণত হয়েছে। এখন আমলাদের সাইজ করে নিয়মে আনতে সময় লাগছে। এরপরও অনেকে বোধগম্য হয়নি যে, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত যে সকল কাজ করা প্রয়োজন, সেটা সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। অনেক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে, অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এভাবে মানুষের মধ্যেও আগের মতো ক্ষোভ রয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ কমে আসবে এবং পরিসমাপ্তি ঘটবে।"
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মহসিন কবির স্বপনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ননী গোপাল ঘোষ, আবুল মোবারক ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রব শামীম এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আদনান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে অ্যাস্টন ভিলার হার অবশেষে গোল খরা কাটানোর ম্যাচে ঘটলো। চলতি মৌসুমের প্রথম ৪ ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারা স্পার্সরা শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পেল। তবে, নিজেদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার কাছে তারা ৩-২ গোলে পরাজিত হলো। এর ফলে ক্লাবটি পুরো ৩ পয়েন্ট হারালো।
ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের স্ট্রাইকাররা পাল্টা আক্রমণে ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৪ মিনিটে) জোহান মানজাম্বির গোলে অ্যাস্টন ভিলা লিড নেয়। এরপর, দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসন এবং ৭৮ মিনিটে বুয়েন্দিয়া গোল করলে টটেনহ্যাম ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খবর ইএসপিএন।
অবশেষে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে কনর গ্যালাগার গোল করে টটেনহ্যামের দীর্ঘ গোল খরা দূর করেন। এরপর, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯০+৮ মিনিটে) জান পল ভ্যান হেক আরেকটি গোল করলেও এটি কেবল ব্যবধান কমিয়েছে (৩-২)।
কোচ রবার্তো ডি জার্বির অধীনে এই হারের পর টটেনহ্যাম ৫ ম্যাচ শেষে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৮ নম্বরে (রেলিগেশন জোন) অবস্থান করছে। অন্যদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে ভিলা এই মৌসুমে তাদের প্রথম জয় অর্জন করলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্সের গণনা চতুর্থবারের মতো সম্পন্ন হয়েছে। ৩৪ দিন পর দানবাক্সটি খুলে পাওয়া গেছে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে স্বর্ণ এবং ১৫টি দেশের মুদ্রাও। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (সিসিক) আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বাক্সে পাওয়া দানের হিসাব ঘোষণা করেন।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহে বসানো ৩টি দানবাক্স ও ৩টি ডেগ থেকে টাকা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগের সিলগালা খুলে টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী মিলে দিনভর সেগুলো গণনা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম প্রাপ্ত দানের হিসাব ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, এবার দান হিসেবে মিলেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ, ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় রূপি ৩ হাজার ৯৫৪, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯.২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৫৭.২৫ দেহরাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১.৫০ রিয়াল, ৩০.১০ ইউরো, বাহরাইনের দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ টিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রূপিয়াহ পাওয়া গেছে। এছাড়া দান হিসেবে ৬টি গরু ও ১১টি ছাগলও পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য জবাই করা হয়েছে ৫টি গরু ও ৬টি ছাগল। ৪টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার স্টাফদের মজুরি প্রদান করা হয়েছে এবং একটি করে গরু ও ছাগল গরিব দুই মেয়ের বিয়েতে দান করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ আগস্ট ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ