শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৭ পি.এম
রাশিয়া থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নেওয়া রাজনৈতিক শরণার্থীর সন্তান মিশেল আর্কহানগেলস্কি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে বড় শিরোপা অর্জন করেছেন।
২১ বছর বয়সী এই সাঁতারু বৃহস্পতিবার টোকিও অ্যাকোয়াটিকস সেন্টারে ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে সোনা জিতেছেন, এশিয়ান রেকর্ড ২২.৯১ সেকেন্ডে, যা গত জুনে ফ্রান্সেও একই টাইমিংয়ে করেছিলেন তিনি।
রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই, কারণ তার পরিবার রাজনৈতিক বিরোধী হওয়ায় সেখানে গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্সে ১৬ বছর বসবাস করলেও নাগরিকত্ব না থাকায় তিনি দেশটির হয়ে খেলার সুযোগ পাননি। হতাশার মধ্যে বাহরাইন তাকে স্বাগত জানিয়েছে, যেমন তারা বিদেশে জন্ম নেওয়া অনেক ক্রীড়াবিদকে গ্রহণ করেছে।
আর্কহানগেলস্কি বাহরাইনকে এনে দিয়েছেন তাদের প্রথম এশিয়ান গেমস সাঁতারের সোনা।
তিনি বলেন, “আমার জন্য সবকিছুই এখানে প্রস্তুত। সেরা পরিবেশ পেয়েছি, আর তার ফলই এই সোনার পদক।”
স্পন্সরশিপের বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, বাহরাইন সাঁতারে বিনিয়োগ করছে এবং তাকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করছে।
বাহরাইনের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও অনেক বিদেশি জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়। কেনিয়ান বংশোদ্ভূত উইনফ্রেড ইয়াভি ইতিমধ্যেই অলিম্পিক ৩,০০০ মিটার স্টিপলচেজ চ্যাম্পিয়ন। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত এমএমএ ফাইটার ডায়ানা পোগোসিয়ান এশিয়ান গেমসে ৫৪ কেজি বিভাগে রৌপ্য জিতেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয় এবং সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদের বিচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তাদের এড়িয়ে চলে যান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন। বৃহস্পতিবার, যখন শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রবেশ করছিলেন, তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনারা কবে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। পরে, জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে বের হওয়ার সময় আবারও তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনারা কবে লস্কর-ই-তৈয়বা প্রধান হাফিজ সাইদকে বিচারের মুখোমুখি করবেন?’ কিন্তু শাহবাজ শরিফ এবারও উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।
হাফিজ মুহাম্মদ সাইদ, যিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোদার বাসিন্দা, একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অন্যতম আসামি।
সম্প্রতি, ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা অভিযোগ করেছে যে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানের মাটিতে থাকা নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। এই হামলার সম্পূরক চার্জশিটে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাফিজ মুহাম্মদ সাইদকে ৮ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এই হামলার পেছনের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে তার জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একদিন আগে, ভারত জাতিসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, ইসলামাবাদের উচিত তাদের ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করা বা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করার পরিবর্তে বিদেশি আর্থিক সাহায্য নিয়ে টিকে থাকা ঋণগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নিজেদের শক্তি নিয়োগ করা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উত্তর দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের নজর ঘোরানোর কৌশলগুলো নস্যাৎ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পাকিস্তানের এই শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান তাদের ভেঙে পড়া আর্থিক ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে কোনো কাজে আসবে না।
ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের অগ্রাধিকারগুলো যে মৌলিকভাবে ভুল জায়গায় রয়েছে তা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, ‘অন্যের ভূখণ্ডের লোভ করা কিংবা সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করার চেয়ে উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করলে পাকিস্তান তাদের জনগণের আরো ভালো সেবা করতে পারত।
কারণ এসব কর্মকাণ্ড বা কাউন্সিলে তাদের এই নাটকীয়তা—কোনোটিই সেই ঋণ পরিশোধে সাহায্য করবে না, যার ওপর ভর করে তাদের অর্থনীতি টিকে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে দেশটি। স্থায়ী আবাসন বা পারমানেন্ট রেসিডেন্সির (PR) জন্য শর্তাবলী আরও কঠোর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে টোকিও। এর ফলে, জাপানে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসকারী বিদেশি পেশাজীবী এবং অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন।
আল জাজিরায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই নিয়ম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে শুরু করবে।
নতুন নিয়মে কী কী থাকছে?
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির নতুন নির্দেশনার আওতায়, স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে:
১. নির্দিষ্ট আয়ের বাধ্যবাধকতা: আবেদনকারীর পরিবারের বাৎসরিক আয় জাপানের গড় আয়ের তুলনায় বেশি হতে হবে, যা চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জমা হওয়া আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
২. ভাষাগত দক্ষতা: আবেদনকারীদের জাপানি ভাষায় প্রয়োজনীয় পারদর্শিতার প্রমাণ দিতে হবে।
৩. পেনশন ও ট্যাক্স রেকর্ড: অন্তত ৩০ বছরের সমপরিমাণ পেনশন তহবিলের রেকর্ড জমা দিতে হবে।
জাপানি কর্তৃপক্ষের মতে, বিদেশি নাগরিকদের নিজেদের ওপর নির্ভরশীল হতে সক্ষম করার জন্য এবং রাষ্ট্রের ওপর বোঝা না হওয়ার জন্য এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের দুশ্চিন্তা:
টোকিওতে বসবাসরত আব্দুল নামে এক বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আল জাজিরাকে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রায় আট বছর ধরে জাপানে অবস্থান করছেন এবং বলেন, "বর্তমানে আমি স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্ব—উভয়ের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এই নতুন নিয়ম আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিয়েছে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অন্য দেশে যাওয়ার বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।"
দক্ষিণপন্থার উত্থান ও সামাজিক প্রেক্ষাপট:
জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস এবং শ্রমিক সংকট থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন নীতিতে এই কড়াকড়িকে রাজনীতির ডানপন্থী পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল 'সানসেইতো' রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে এবং "জাপান ফার্স্ট" নীতি প্রচার করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করতে বিদেশি কর্মী প্রয়োজন, তবে স্থায়ী বসবাসের শর্ত কঠোর করার ফলে অনেক দক্ষ বিদেশি ভবিষ্যতে জাপান ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বাস পেছন থেকে আরেকটি বাসের দ্বারা ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাখরেরকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা পালকী পরিবহনের একটি বাস বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। এ সময় হানিফ পরিবহনের আরেকটি বাস পালকী পরিবহনের বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা মুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার জানান, দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। পালকী পরিবহন এক্সপ্রেসওয়ে পার্কিং করে রাখা ছিল। এ সময় দ্রুত গতির হানিফ পরিবহনের বাসটি সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দেয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম ইবনে মিজান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার কাজের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বইয়ের ব্যাগ হাতে কেউ, আবার কেউ স্কুলের পোশাক কাঁধে নিয়ে আছে। তাদের চোখে স্বপ্ন- পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়া; কিন্তু বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন ভয় আর শঙ্কায় ভরা এক পথ পাড়ি দিতে হয়। পাকা রাস্তা কিংবা সেতুর অভাবে ড্রামের তৈরি ভেলাই তাদের একমাত্র ভরসা।
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর তীরে ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় ভেঙে যাওয়া বাঁধটি ১৭ বছরেও নির্মাণ হয়নি। প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ ভাঙা অংশটি এখন ছোট একটি নদীতে পরিণত হয়েছে। এই পানিপথ পেরিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করছে। দেড় যুগ ধরে চলা এই দুর্দশার মধ্যে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙা বাঁধের এক পাশে প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। অন্যপাশ থেকে বিদ্যালয়ের দিকে যেতে হলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ড্রামের তৈরি ভেলায় উঠতে হয়। ভেলা যাতে স্রোতে ভেসে না যায়, তার জন্য দুই পাশে বাঁধা রশি ধরে টেনে টেনে পার হতে হয়। সামান্য অসতর্কতা কিংবা ভারসাম্য হারালেই পানিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ভেলায় উঠলেই বুক কাঁপে
প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন আহমেদ বলেন, "প্রতিদিন ড্রামের ভেলায় চড়ে স্কুলে যেতে হয়। ভেলায় উঠলেই ভয় লাগে কখন যে উল্টে যাই।" তবুও পড়াশোনার জন্য প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই এখানে দ্রুত একটি রাস্তা নির্মাণ করা হোক।"
পূর্ব মঠবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, "ড্রামে চড়ে ওপারে স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। একবার ভেলা উল্টে নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। বইয়ের ব্যাগসহ সবকিছু পানিতে ভিজে যায়।" তিনি বলেন, "পাশে মানুষ থাকায় কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছি। আমরা চাই এখানে একটা রাস্তা হোক, যাতে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারি।"
শিক্ষার্থীদের এ অবস্থার কারণে উদ্বেগে থাকেন অভিভাবকরাও। প্রতাপ স্মরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হোসনেয়ারা খাতুন বলেন, "বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর পর খুব চিন্তায় থাকতে হয়। একবার ভেলায় পার হওয়ার সময় আমার মেয়েসহ কয়েকজন শিশু পানিতে পড়ে গিয়েছিল।" তিনি জানান, "কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণ করা হোক।"
তিনি আরও বলেন, "রাস্তা নির্মাণ করা না হলেও স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ড্রাম সেতু নির্মাণ করা হোক।"
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আছাদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের তখন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ ও নিরাপদ সড়ক নির্মাণ করা হলে শুধু দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগই কমবে না, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে
প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, "২০০৯ সালে আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।" তিনি জানান, "প্রতিনিয়ত বাচ্চাদের ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় পার হতে হয়। অনেক অভিভাবক যাতায়াতের সমস্যার কারণে সন্তানদের এই স্কুলে ভর্তি করাতে চান না। আমরা দ্রুত শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।"
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু সাঈদ মোল্লা বলেন, "১৭০ মিটারের বেশি এই ভাঙা অংশ ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার করা সম্ভব নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "জায়গাটি গভীর এবং বড় আকারের। একটি ভাসমান সেতু কিংবা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা গেলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।"
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ জানান, "প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বাঁধটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।" তিনি বলেন, "বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী মন্তব্য করেন, "দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।" তিনি বলেন, "বিশেষ করে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি জানান, "বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ