প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে দেশটি। স্থায়ী আবাসন বা পারমানেন্ট রেসিডেন্সির (PR) জন্য শর্তাবলী আরও কঠোর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে টোকিও। এর ফলে, জাপানে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসকারী বিদেশি পেশাজীবী এবং অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন।
আল জাজিরায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই নিয়ম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে শুরু করবে।
নতুন নিয়মে কী কী থাকছে?
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির নতুন নির্দেশনার আওতায়, স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে:
১. নির্দিষ্ট আয়ের বাধ্যবাধকতা: আবেদনকারীর পরিবারের বাৎসরিক আয় জাপানের গড় আয়ের তুলনায় বেশি হতে হবে, যা চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জমা হওয়া আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
২. ভাষাগত দক্ষতা: আবেদনকারীদের জাপানি ভাষায় প্রয়োজনীয় পারদর্শিতার প্রমাণ দিতে হবে।
৩. পেনশন ও ট্যাক্স রেকর্ড: অন্তত ৩০ বছরের সমপরিমাণ পেনশন তহবিলের রেকর্ড জমা দিতে হবে।
জাপানি কর্তৃপক্ষের মতে, বিদেশি নাগরিকদের নিজেদের ওপর নির্ভরশীল হতে সক্ষম করার জন্য এবং রাষ্ট্রের ওপর বোঝা না হওয়ার জন্য এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের দুশ্চিন্তা:
টোকিওতে বসবাসরত আব্দুল নামে এক বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আল জাজিরাকে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রায় আট বছর ধরে জাপানে অবস্থান করছেন এবং বলেন, "বর্তমানে আমি স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্ব—উভয়ের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এই নতুন নিয়ম আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিয়েছে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অন্য দেশে যাওয়ার বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।"
দক্ষিণপন্থার উত্থান ও সামাজিক প্রেক্ষাপট:
জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস এবং শ্রমিক সংকট থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন নীতিতে এই কড়াকড়িকে রাজনীতির ডানপন্থী পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল 'সানসেইতো' রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে এবং "জাপান ফার্স্ট" নীতি প্রচার করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রমিক সংকট মোকাবেলা করতে বিদেশি কর্মী প্রয়োজন, তবে স্থায়ী বসবাসের শর্ত কঠোর করার ফলে অনেক দক্ষ বিদেশি ভবিষ্যতে জাপান ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন