ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইউনেসকো: সাংবাদিক হত্যার ৮৬% ঘটনার বিচার হয়নি


ইউনেসকো: সাংবাদিক হত্যার ৮৬% ঘটনার বিচার হয়নি

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাংবাদিকতামূলক কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যার ৮৬ শতাংশ ঘটনার বিচার এখনো হয়নি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এ ধরনের ১৮৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সশস্ত্র সংঘাত চলমান দেশগুলোতে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতা অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ইউনেসকো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে ইউনেসকো উল্লেখ করেছে, এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে— ‘হুমকির ধরন বদলাচ্ছে। বিচারহীনতা রয়ে যাচ্ছে।’ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পরিবর্তনশীল হুমকি এবং অপরাধের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি এতে তুলে ধরা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা অপরিহার্য বলে জানিয়েছে ইউনেসকো।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আকাশচুম্বী ‘গরিবের জ্বালানি’ এলপিজির দাম, রিকশাচালকদের দুর্দশা

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচারহীনতা দূর করতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, হুমকির ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’-এর আওতায় কাজ করছে ইউনেসকো। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রায় তিন হাজার সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাদের প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক পূর্ণদিবসের মডিউল অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২০০ নারী সাংবাদিক এবং ২৪ জন ফটোসাংবাদিক রয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ৬০টি সুরক্ষা ভেস্ট, চার হাজার সাংবাদিক সহায়িকা কার্ড এবং সাত হাজার ৫০০টি নির্বাচনবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশিকাও বিতরণ করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ও সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং গণমাধ্যমের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলা হতে পারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ধর্মীয় শিক্ষক নূর আলম শেখ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ধর্মীয় শিক্ষক নূর আলম শেখ গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী এলাকায় এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের সূত্র ধরে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে নূর আলম শেখ (৩২) নামে এক ধর্মীয় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া নূর আলম শেখ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলিগাতী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি টংগিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে প্রায় ১৮ মাস ধরে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি, তিনি স্থানীয় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একপর্যায়ে ওই শিশুর মায়ের সঙ্গে নূর আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন।

প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটি তাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর থেকে নূর আলম ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে দেখা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের ধারণ করা একটি আপত্তিকর ভিডিও অনলাইনে ওই গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেন। একই সঙ্গে, তার সঙ্গে দেখা না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সংবাদ পাওয়ার পর রোববার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করে। পুলিশ পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশ, উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিপিএম ও উপ-পরিদর্শক (ওসি) রেজাউল কাজীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম অভিযোগের বিষয়গুলো স্বীকার করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে টংগিবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক শনাক্ত হলে স্তন ক্যানসার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


প্রাথমিক শনাক্ত হলে স্তন ক্যানসার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বর্তমানে স্তন ক্যানসার একটি রোগ যা প্রায় সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা যায়, তবে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অতীতে বলা হতো, ‘ক্যানসার মানেই কোনো উত্তর নেই’। তবে এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা এত উন্নত হয়েছে যে, রোগটি থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব হচ্ছে। এজন্য সচেতনতা এবং চিকিৎসা গ্রহণের মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র এই দুটি বিষয় নিশ্চিত হলেই এটি সম্ভব হবে।

শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অক্টোবর মাসব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচির সমাপনী ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদারের নেতৃত্বে স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে এই রোগ নিয়ে কাজ করে আসছে। তারা শুধুমাত্র এই বছর নয়, বরং স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের বিষয়ে কাজ করে চলেছে। অর্থাৎ, রোগটি দেরিতে শনাক্ত হওয়ার পরিবর্তে কীভাবে শুরুতেই শনাক্ত করা যায় এবং স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার কীভাবে কিছুটা কমানো যায়, সেই লক্ষ্যে তাদের এই উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে এ বছর তাদের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ ৩১ অক্টোবর মাসব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটছে।

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, যদি এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা যায়, তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। জরায়ুমুখের ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের, রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের, রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবি

রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাসগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকেই আহত হচ্ছেন। গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ নগরের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ছিলেন।

এছাড়া রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসের চাপায় নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম নিহত হন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং মহাসড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

নটরডেম কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘রোববার আমাদের বন্ধু জাকিউল মারা গেছেন। রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলবে।’

অন্যদিকে, অবরোধের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা যানজটে আটকা পড়ছেন। বাসে বসেই দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাদের মতে, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে সাহাবিদের প্রথম আগমনের ইতিহাস ও ইসলামের প্রচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


ভারতে সাহাবিদের প্রথম আগমনের ইতিহাস ও ইসলামের প্রচার

নবুয়ত লাভের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) আরব উপদ্বীপের কাফির, মুশরিক, ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হন। তাঁর মূল প্রচেষ্টা ছিল এসব মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসা। আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ এবং ২৩ বছরের অবিরাম প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুরো আরব উপদ্বীপে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁরা শুধু ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেননি, বরং নবীজি (সা.)-এর বরকতময় সান্নিধ্য এবং শিক্ষায় মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ মানুষে পরিণত হয়েছেন। তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শকে এমনভাবে ধারণ করেছিলেন যে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন। মহানবী (সা.) পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণের পর তাঁরা দ্বিনের প্রচার ও প্রসারকে নিজেদের মিশন হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁরা সমগ্র পৃথিবীর সামনে ইসলামের সুমহান পতাকাকে সমুন্নত করেন।

ভারতে সাহাবিদের প্রথম আগমন

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মুসলিম জাহানের খলিফা মনোনীত হন, কিন্তু তাঁর সংক্ষিপ্ত শাসনকালে মুরতাদদের ফিতনার মতো ভয়াবহ সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছিল। ফলে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেননি। আবু বকর (রা.)-এর পর মুসলিম জাহানের খলিফা হন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। অভ্যন্তরীণ সংকট কেটে যাওয়ার পর তিনি আরব দুনিয়ার বাইরে ইসলামের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে ইসলামের বার্তা ও বিজয় নিশান দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) খলিফা মনোনীত হওয়ার পর ১৫ হিজরিতে উসমান ইবনে আবুল আস (রা.)-কে বাহরাইন ও আম্মানের প্রশাসক নিযুক্ত করেন। উসমান (রা.) নিজের ভাই হাকাম বিন আবুল আস (রা.)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করে ভারতবর্ষের বন্দরনগরী থানাহ ও ভুরুচের উদ্দেশে প্রেরণ করেন। অপর ভাই মুগিরা বিন আবুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে আরেকটি বাহিনী ডাভেলের (করাচি) উদ্দেশে পাঠান।

তবে এগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন সংঘাতের মতো। নিয়মতান্ত্রিক কোনো সামরিক অভিযান ছিল না। ফলে ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে এর বিবরণ পাওয়া যায় না। ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনায় মাকরান, কিরমান, রণ, বেলুচিস্তান, লসবিলা, মুলতান, লাহোরসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহাবিদের পদচারণার বর্ণনা পাওয়া যায়।

ভারতবর্ষে আগমনকারী সাহাবি ও তাবেঈদের সংখ্যা

আল্লামা কাজি মুহাম্মদ আতহার মোবারকপুরী (রহ.)-এর গবেষণা অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশে ১৭ জন সাহাবির আগমন ঘটেছে। আধুনিক যুগের ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টির গবেষণা অনুযায়ী ভারতে আগমনকারী সাহাবিদের সংখ্যা ২৫। কাজি আতহার মোবারকপুরী (রহ.) তাবেঈদের সংখ্যাও উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টি বলেছেন, ভারতে ৪২ জন তাবেঈ এবং ১৮ জন তাবে-তাবেঈর আগমন হয়েছিল। (বিস্তারিত দেখুন : খেলাফতে রাশেদা আওয়ার হিন্দুস্তান ও বিররে মে ইসলাম কে আউয়ালিন নুকুশ)

ভারতে আগমানকারী সাহাবি

কাজি আতহার মোবারকপুরী (রহ.)-এর গবেষণা অনুসারে নিম্নোক্ত সাহাবিরা ভারতবর্ষে আগমন করেছিলেন। তাঁরা হলেন—১. হাকাম বিন আবুল আস (রা.), ২. হাকাম বিন আমর সালাবি গিফারি (রা.), ৩. খিররিত বিন রাশেদ নাজি সামি (রা.), ৪. রুবাই বিন জিয়াদ হারেসি (রা.), ৫. সিনান বিন সালামা হাজালি (রা.), ৬. সাহাল বিন আদি খাজরাজি আনসারি (রা.), ৭. সাহহার বিন আব্বাস আবদি (রা.), ৮. আসেম বিন আমর তামিমি (রা.), ৯. আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন ইতবান আনসারি (রা.), ১০. আবদুল্লাহ বিন উমায়ের আশজায়ি (রা.), ১১. আবদুর রহমান বিন সামুরা কুরাশি (রা.), ১২. উবায়দুল্লাহ বিন মা’মার কুরাশি তাইমি (রা.), ১৩. উসমান বিন আবুল আস সাকাফি (রা.), ১৪. উমায়ের বিন উসমান বিন সাআদ (রা.), ১৫. মুজাশি বিন মাসউদ সালামি (রা.), ১৬. মুগিরা বিন আবুল আস সাকাফি (রা.), ১৭. মুনজির বিন জারুদ আবদি (রা)। (খেলাফতে রাশেদা আওয়ার হিন্দুস্তান)

উল্লিখিত নামগুলোর বাইরে ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টি ভারতে আগমনকারী আরো যেসব সাহাবির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন—১৮. শিহাব বিন মুখারিক বিন শিহাব তামিমি (রা.), ১৯. নুসাইর বিন দাইসুম বিন সাউর ইজলি (রা.), ২০. হাকিম বিন জাবালাহ আসাদি (রা.), ২১. কুলাইব আবু ওয়াইল (রা.), ২২. মুহাল্লাব বিন আবু সাফরা আজদি আতেকি (রা.), ২৩. আবদুল্লাহ বিন সাউয়ার আবদি (রা.), ২৪. ইয়াসির বিন সাউয়ার আবদি (রা.), ২৫. আবদুল্লাহ সুওয়াইদ তামিমি (রা.)। অবশ্য এদের ভেতর কারো কারো ব্যাপারে এই বিতর্ক রয়েছে যে তারা সাহাবি নাকি তাবেঈ। (বিররে মে ইসলাম কে আউয়ালিন নুকুশ)

ভারতে আগমনকারী তাবেঈ

ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইসহাক ভাট্টির বর্ণনা অনুসারে ভারতে আগমনকারী ৪২ জন তাবেঈ হলেন—

১. সাগির ইবনে জাআর (রহ.), ২. হারিস বাইলামানি (রহ.), ৩. হাকিম ইবনে জাবালা (রহ.), ৪. হাসান ইবনে আবুল হাসান ইয়াসার বাসরি (রহ.), ৫. সাঈদ ইবনে হিশাম আনসারি (রহ.), ৬. সাঈদ ইবনে কিন্দিয়া কুশাইরি (রহ.), ৭. শিহাব ইবনে মুখারিক তামিমি (রহ.), ৮. সাইফি ইবনে ফুসাইল শাইবানি (রহ.), ৯. নুসাইর ইবনে ওয়াসিম ইজলি (রহ.), ১০. ইবনে উসাইদ ইবনে আখনাস (রহ.), ১১. আবু শাইবা জাওহারি (রহ.), ১২. হাতিম ইবনে কুবাইসা (রহ.), ১৩. রাশিদ ইবনে আমর জাদিদি (রহ.), ১৪. জায়েদা বিন উমাইর আত-তায়ি (রহ.), ১৫. জিয়াদ ইবনে হাওয়ারি আম্মি (রহ.), ১৬. আবু কায়েস জিয়াদ ইবনে রাবাহ কায়সি বাসরি (রহ.), ১৭. হাকাম ইবনে আওয়ানা কালবি (রহ.), ১৮. মুয়াবিয়া ইবনে কুর্রাহ মুজানি বাসরি (রহ.), ১৯. মাকহুল ইবনে আবদুল্লাহ সিন্দি (রহ.), ২০. আবদুর রহমান ইবনে আব্বাস (রহ.), ২১. আবদুর রহমান সিন্দি (রহ.),

২২. কুতুন ইবনে মুদরিক কিলাবি (রহ.), ২৩. কায়েস ইবনে সালাবা (রহ.), ২৪. কামস ইবনে হাসান বাসরি (রহ.), ২৫. ইয়াজিদ ইবনে আবি কাবশাহ সাকসাকি দিমাশকি (রহ.), ২৬. মুসা সাইলানি (রহ.), ২৭. মুসা ইবনে ইয়াকুব সাকাফি (রহ.), ২৮. আবদুর রহমান কিন্দি (রহ.), ২৯. আবদুর রহমান বাইলামানি (রহ.), ৩০. ওমর ইবনে উবাইদুল্লাহ কুরাশি তাইমি (রহ.), ৩১. শিমার ইবনে আতিয়্যাহ আসাদি (রহ.), ৩২. সাঈদ ইবনে আসলাম কিলাবি (রহ.), ৩৩. হুবাব ইবনে ফাজালাহ জুহলি (রহ.), ৩৪. আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ কাউআশি (রহ.), ৩৫. হারিস ইবনে মুররাহ আবদি (রহ.), ৩৬. আইয়ুব ইবনে জায়িদ হিলালি (রহ.), ৩৭. হুরাই ইবনে হুরাই বাহেলি (রহ.), ৩৮. ইবাদ ইবনে জিয়াদ উমাবি (রহ.), ৩৯. ইয়াজিদ ইবনে মুফাররিগ হিময়ারি (রহ.), ৪০. রাবি ইবনে সুবাইহ সু’দা বসরি (রহ.), ৪১. মুজাআহ ইবনে সি’র তামিমি (রহ.), ৪২. আতিয়্যাহ ইবনে সাআদ আউফি (রহ.), ৪৩. আবু সালামা জুত্তি (রহ.), ৪৪. মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সাকাফি (রহ.)। (বিররে মে ইসলাম কে আউয়ালিন নুকুশ)

যদিও ঐতিহাসিকভাবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু কিছু নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যে তারা সাহাবি নাকি তাবেঈ এবং তাঁরা ভারতবর্ষে আগমন করেছেন কি না, তবে এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে ভারতবর্ষে বহুসংখ্যক সাহাবি ও তাবেঈর আগমন ঘটেছিল। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%