ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিউমোনিক প্লেগ: কি, কতটা ভয়ংকর এই রোগ?


নিউমোনিক প্লেগ: কি, কতটা ভয়ংকর এই রোগ?

রাশিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক গবেষকের অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্লেগের ধরনটিকে রোগটির সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানাচ্ছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য এ রোগের ঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে।

নিউমোনিক প্লেগের কারণ হচ্ছে ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়া তৈরি করতে সক্ষম। প্লেগের সবচেয়ে পরিচিত ধরন বুবোনিক প্লেগ, যা সাধারণত আক্রান্ত মাছির কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে, সেপ্টিসেমিক প্লেগে ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

যেভাবে ছড়ায়

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

নিউমোনিক প্লেগের বিশেষ ঝুঁকি হলো এটি আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সরাসরি অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, তখন বের হওয়া শ্বাসতন্ত্রের কণাগুলি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর নিঃসরণ থেকেও এ রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ থেকে মানুষে নিউমোনিক প্লেগ ছড়ানোর সর্বশেষ নথিভুক্ত ঘটনা ঘটে ১৯২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে।

দ্রুত দেখা দিতে পারে উপসর্গ

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট। ফুসফুসে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে রোগীর শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা

দ্রুত চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ

তবে যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিউমোনিক প্লেগের চিকিৎসা করা সম্ভব। চিকিৎসায় সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন, জেন্টামাইসিন ও স্ট্রেপ্টোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনে অক্সিজেন, তরল ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাও প্রদান করা হয়।

সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কতটা?

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

রাশিয়ার গবেষণাগারে এক গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কম।

তবে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, শরীরের তরল থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংক্রমণের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণে রাখতে পারে। প্রয়োজন হলে তাদের অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।

চতুর্দশ শতকের ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারিতে ইউরোপে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে বর্তমানে প্লেগ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও রোগটির ব্যাকটেরিয়া এখনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ২৯৮টি সোনার বারসহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ২৯৮টি সোনার বারসহ গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি বড় ধরনের জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। ডেভিড রাশ নামের ওই কর্মকর্তা ভুয়া গোপন সরকারি কর্মসূচি তৈরি করে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ সরিয়ে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও সোনার বার কেনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা তারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশ অন্তত ১৯৪ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ সরকারের কাছে বাজেয়াপ্ত করতে সম্মত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯৮টি সোনার বার, দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, ৩৫টি বিলাসবহুল ঘড়ি এবং ফ্লোরিডার চারটি বিলাসবহুল বাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, রাশ একটি ভুয়া গোপন সরকারি কর্মসূচি তৈরি করে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ সরিয়ে নেন। পরে ওই অর্থ দিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচ ও হোব সাউন্ড এলাকায় চারটি বাড়ি কেনেন। সেগুলো পরে বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করার পরিকল্পনা ছিল তার।

অন্যদিকে, সোনার বার কেনার জন্য তিনি আলাদাভাবে আরেকটি ভুয়া সংবেদনশীল সরকারি কার্যক্রমের কথা তৈরি করেন। ঠিকাদারদের তিনি জানান, তিনি একটি অত্যন্ত গোপন প্রকল্পে কাজ করছেন, যেখানে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তির কাছে উচ্চমূল্যের পণ্য পৌঁছে দিতে হবে।

এই কথার ভিত্তিতে জানুয়ারিতে এক ঠিকাদার তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৪৫ মিলিয়ন ডলার পাঠায়। এই অর্থ স্থানান্তরই তারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগের মূল ভিত্তি। তদন্তকারীরা জানান, রাশ ভুয়া সরকারি অনুমোদন তৈরি করে অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ ও অনুমোদন দিতেন। এরপর ঠিকাদার ও উপঠিকাদারদের মাধ্যমে সম্পদ কেনার ব্যবস্থা করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতেন।

মে মাসে রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের সোনার বার, ২ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটররা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আদালতে জানান, তার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে তখনও প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।

প্রসিকিউটরদের নথিতে রাশের সাবেক কর্মস্থল হিসেবে সরাসরি সিআইএর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে আগে সিআইএ ও এফবিআই জানিয়েছিল, সিআইএর পক্ষ থেকে বিষয়টি এফবিআইকে জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে করা প্রথম অভিযোগের নথিতে তাকে পূর্ব ভার্জিনিয়ার একটি সরকারি সংস্থার সাবেক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন সরকারি কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার রাখতেন বলেও জানানো হয়েছে।

মে মাসে রাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি চাকরির আবেদনে নিজের শিক্ষা ও সামরিক চাকরি সম্পর্কে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। সামরিক চাকরি শেষ হওয়ার পরও তিনি প্রতারণার মাধ্যমে সামরিক ছুটি নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ ছিল।

জুন মাসে মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন ফেডারেল আদালত। আদালত তাকে গুরুতরভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। ওই শুনানিতে সরকারি আইনজীবীরা রাশকে ‘অসাধারণভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে সক্ষম’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে পাইলট হিসেবে পরিচয় দেওয়া, সহকর্মীদের মিথ্যা বলা এবং নিজের পদমর্যাদা ও সরকারি প্রবেশাধিকার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি দক্ষ ছিলেন।

সরকারের এক আইনজীবী আদালতে বলেন, রাশকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তিনি নিয়ম এড়িয়ে চলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ও সক্ষম।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারত প্রস্তাব করেছে তিন দফা পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারত প্রস্তাব করেছে তিন দফা পরিকল্পনা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যা পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে, এর অবসান ঘটাতে ভারত তিন দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার বিষয়টি। গত মাসে ইউক্রেনের কিয়েভ সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। বুধবার এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত তাদের কাছে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন যে চারটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ভারতের উদ্যোগটি সবচেয়ে ব্যাপক। অন্য তিনটি প্রস্তাব এসেছে তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত; তবে কার্যকর চুক্তির জন্য সম্মুখযুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো এবং কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ভারতের তিন দফা পরিকল্পনার প্রথম অংশে জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয় অংশে কৃষ্ণসাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। দিল্লির ধারণা, এই ক্ষেত্রে সমন্বিত যুদ্ধবিরতি হলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হতে পারে।

সিবিহার বক্তব্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও মিসরের উদ্যোগ মূলত কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করা। ভারতের পরিকল্পনায় এই দুই ক্ষেত্রকে একত্রিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইউক্রেনের এই অবস্থানের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন। পুতিন মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে মোদির ‘ভালো চিন্তাভাবনা’ রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

জয়শঙ্করও জানিয়েছেন, ভারত কেবল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বসে নেই; বরং মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষের সঙ্গেই বাস্তব ও কার্যকর আলোচনা চালাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে কিয়েভ সফরের সময় তিনি বলেন, ভারত মনে করে যুদ্ধক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যুক্তরাষ্ট্রে ইরানকে হামলা করতে দিন’, ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


‘যুক্তরাষ্ট্রে ইরানকে হামলা করতে দিন’, ট্রাম্পের মন্তব্যে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, কারণ তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরের ধ্বংস হওয়া মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোকে ইরানের হামলার জন্য ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে গ্রহণ করার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা এবং ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও।

সোমবার নেব্রাস্কায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান চাইলে একটি মার্কিন শহরে হামলা চালাতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, ‘তারা একটি শহর ধ্বংস করতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসে হামলা করতে দিন, সান দিয়েগোতেও করতে দিন। এটি খুবই সামান্য মূল্য এবং খুব শিগগিরই সব শেষ হয়ে যাবে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউজম মন্তব্যটিকে ‘উন্মাদনা’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি কংগ্রেসকে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিউজম বলেন, যে প্রেসিডেন্ট এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন এবং শহরটিতে ৭০০ মেরিন সেনা পাঠিয়েছিলেন, তিনিই এখন ইরানকে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোতে হামলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, যারা মনে করেননি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেবে।

তবে ডেমোক্র্যাটরাই একমাত্র ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরোধিতা করেননি। তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন। সান দিয়েগোর কাছে প্রতিনিধি পরিষদের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান প্রার্থী জিম ডেসমন্ড বলেন, তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ‘দৃঢ়ভাবে একমত নন’। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা ও ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি হলেও মার্কিন জনগণ ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রেসিডেন্টের প্রথম দায়িত্ব।

ডেসমন্ড বলেন, ‘কোনো মার্কিন শহরই বিসর্জনযোগ্য নয় এবং কোনো মার্কিন পরিবারকে কখনোই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকানদের সঙ্গে ককাস করা স্বতন্ত্র প্রতিনিধি কেভিন কিলিও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনাকে গুরুত্ব দেয়নি। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চেউং এটিকে ‘মিডিয়ার অযথা উত্তেজনা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হলে মার্কিন শহরগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারত। তার দাবি, ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন বেশি নিরাপদ এবং ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী বা অর্থ নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয়বার মা-বাবা হচ্ছেন কিয়ারা-সিদ্ধার্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


দ্বিতীয়বার মা-বাবা হচ্ছেন কিয়ারা-সিদ্ধার্থ

বলিউডের তারকা দম্পতি কিয়ারা আদভানি ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা দ্বিতীয়বার মা-বাবা হতে চলেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সুখবরটি জানিয়েছেন।

কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে তাদের একমাত্র মেয়ে সারায়াহর হাতও দেখা যায়। তিনজনের হাতের পাশে একটি ছোট্ট ক্রোশিয়ার শিশুর মোজা রাখা ছিল। ছবির ক্যাপশনে তারা লিখেছেন, ‘আবারও জীবনের সবচেয়ে বড় উপহারে আশীর্বাদধন্য হলাম। আমাদের হৃদয় ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।’

সুখবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই কিয়ারা ও সিদ্ধার্থকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেছেন ভক্ত ও বলিউডের সহকর্মীরা। করণ জোহর, আথিয়া শেঠি, ভূমি পেডনেকর, মানীশ মালহোত্রা সহ অনেকেই তাদের পোস্টে ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ বিয়ে করেন। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাদের প্রথম সন্তান, মেয়ে সারায়াহর জন্ম হয়। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন। সেবারও ছোট্ট একজোড়া শিশুর মোজার ছবি শেয়ার করে সুখবরটি জানিয়েছিলেন তারা।

কিয়ারা ও সিদ্ধার্থের সম্পর্কের শুরু ‘শেরশাহ’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে। পরে ২০২৩ সালে রাজস্থানের জয়সালমেরের সূর্যগড় প্যালেসে ঘরোয়া আয়োজনে তারা বিয়ে করেন।

ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ। এবারও তারা দ্বিতীয় সন্তান আসার খবরটি একটি সাধারণ ও আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে জানালেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%