কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
০৫:২০ পি.এম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে ফারজানা সুলতানার মরদেহ উদ্ধারের সময় এ বিষয়ে সাক্ষ্যদানকারী হামিদুল ইসলাম (হামিদুল মোড়ল) তা দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তিনি কাশিবাটি গ্রামের এন্তোফ মোড়লের সন্তান এবং ফারজানা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী।
হামিদুল ইসলামের দাবি, ফারজানা গত ২০ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি এবং তার স্বজনরা কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে যখন তাঁরা খোঁজাখুঁজি করছিলেন, তখন সুমাইয়া খাতুনের ঘরের তালা খুলে পুলিশ এবং স্থানীয়রা ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে একটি ওয়ারড্রবের ভেতর ভাঁজ করা অবস্থায় ফারজানার মরদেহ দেখা যায়।
হামিদুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। যখন তিনি ওয়ারড্রবের ভেতরে ফারজানার মরদেহ দেখেন, তখন তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি জ্ঞান ফিরে জানতে পারেন, সুমাইয়া খাতুনকে জনতা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে। এরপরে যেই ঘরে সুমাইয়ার মরদেহ রাখা হয়েছিল, সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর জন্য আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফারজানার মরদেহ ঘর থেকে বের করা হয়।
হত্যার পেছনে একজোড়া সোনার দুলই কারণে রয়েছে এবং কারণ হিসেবে সুমাইয়া ফারজানাকে হত্যা করেছে—এমন তথ্য কিভাবে তিনি জানলেন, এ বিষয়ে হামিদুল ইসলাম সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর আগে হামিদুল ইসলামের উদ্যোগে তার বোন সুমাইয়া খাতুনের বিয়ে একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের সঙ্গে হয়েছিল। বিয়ের পর তাঁরা জানতে পারেন, আমিরুল মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন এবং একাধিক সালিস বৈঠকের ঘটনা ঘটে।
মামুনের দাবি, একটি সালিস বৈঠকে হামিদুল ইসলাম তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করে, ফলে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে ফারজানা সুলতানার পরিবার এবং সুমাইয়া খাতুনের পরিবারের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় ছিল। তারা একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন, রান্না করা খাবার বিনিময় করতেন এবং পারিবারিক লেনদেনও ছিল।
মামুন আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ভাগনি আমেনাকে খাবার কিনে দিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন মোবাইল ফোনে জানতে চান, সুমাইয়া এবং ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কি না।
হামিদুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম তার দাবি নাকচ করেন। তিনি বলেন, "হামিদুল মোড়ল নামে কাউকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। নিহত সুমাইয়া খাতুন ফারজানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো বক্তব্য তিনি পুলিশকে দেননি। এছাড়া যে ঘরে ফারজানার মরদেহ পাওয়া যায়, সেখানে সুমাইয়ার কাছ থেকে চাবি নিয়ে প্রবেশ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ঘরে ঢুকেছিলেন। হামিদুল নামে কেউ সেখানে অজ্ঞান হয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।"
ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলার তদন্ত এখনও চলছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে দেখছেন। ঘটনার বিষয়ে হামিদুল ইসলাম এবং পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে কাতারের রাষ্ট্রদূত সারাইয়া আলি আল-কাহতানি সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে, যা গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে হয়ে ছিল, বাংলাদেশ এবং কাতারের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, টার্মিনাল নির্মাণ, লজিস্টিকস এবং সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগের জন্য কাতারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাতার বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কাতারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বন্দর ও নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তিনি এ খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কাতারের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বন্দর, নৌপরিবহন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীব বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাদের নিয়ে গর্ব করেন, আগামী বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনাদের নিয়ে চিন্তা করেন। নতুন বাংলাদেশ আজ আপনাদেরই হাতে।
সভায় সজীব আরো বলেন, ‘আমরা চাই, এই স্কুলের সন্তানরাই ভবিষ্যতে দেশের সর্বোচ্চ উচ্চ মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত হবে। আপনাদের প্রতি সবার আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে, আপনাদের নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব।’
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ (এক শিক্ষার্থী, এক গাছ) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও হাই স্কুলে এই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীব শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নোয়াগাঁও হাই স্কুলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
তিনি এসময় আরও বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের সঠিক পরিচর্যাও করতে হবে। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং দেশকে বাঁচায়। বাংলাদেশের মূল প্রতীক সবুজ, সেই সবুজ বাংলাদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।’
এ সময় নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডাক্তার মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব শিক্ষার্থীর হাতে গাছের চারা পৌঁছে দিয়ে সোনারগাঁকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে চলমান সহিংসতায় এক শিশুসহ অন্তত ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, বহু মানুষ আহতও হয়েছেন।
ওসিএইচএ এক প্রতিবেদনে বলছে, এই সহিংসতার কারণে অন্তত ১০টি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, মসজিদ, গাছপালা এবং কৃষি অবকাঠামোতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কঠোর চলাচল নিষেধাজ্ঞার কারণে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং জীবিকা নির্বাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ৭ মাসে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জড়িত অন্তত ১ হাজার ৩৩০টি সহিংস ঘটনার নথি সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অধিকৃত অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতিহাসের প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক সংযোগ চালুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া। দুই দেশের সীমান্তবর্তী তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুর কাজ প্রায় শেষ হলেও এটি শুধু বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য নয়। বরং ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক সহযোগিতা জোরদারের একটি কৌশলগত করিডোরে পরিণত হতে পারে- এমন আশঙ্কা গবেষক ও বিশ্লেষকদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন সেতুটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের খাসান এবং উত্তর কোরিয়ার তুমানগাংকে যোগ করবে। সীমান্তের এই প্রত্যান্ত অঞ্চলে এতদিন দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল একটি রেলসেতু, যা ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ নামে পরিচিত।
উদ্বোধনে বিলম্বজনিত কারণে, প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। সেখানে কাস্টমস ও কোয়ারেন্টিনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও প্রস্তুত করে ফেলা হয়েছে। গত ১৯ জুন সেতুটি উদ্বোধনের জন্য পরিকল্পনা ছিল। তবে রাশিয়ার অংশের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় উদ্বোধন স্থগিত করা হয়েছে। নতুন কোনও তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া উভয়ই প্রকাশ্যে জানিয়েছে, এই সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
কিন্তু ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থার ট্রুথ হাউন্ডস পরিচালিত একটি নতুন অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, সেতুটির প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক নয়; বরং এটা সামরিক সরঞ্জাম, সেনা ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের জন্য একটি তুলনামূলক গোপন লজিস্টিক করিডোর হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংস্থাটির ওপেন-সোর্স গবেষণা বিভাগের প্রধান নাজার মিহুন বলেছেন, সড়কপথে চলাচল রেলপথের তুলনায় পশ্চিমা দেশগুলোর স্যাটেলাইট নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহজ।
তিনি আরও বলেন, রেলপথের মালামালের ধরনের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা সম্ভব। আবার খোলা ওয়াগনে বহন করা পণ্যও স্যাটেলাইট চিত্রে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, ট্রাকগুলো প্রায় একই ধরনের দেখায় এবং যেকোনও স্থান থেকে দ্রুত মালামাল ওঠানো-নামানো সম্ভব হওয়ায় সেগুলোর গতিবিধি নজরদারি করা খুবই কঠিন।
নতুন সেতুটি তুমেন নদীর ওপর প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সাত মিটার প্রশস্ত। এতে দুই লেনের সড়ক থাকবে। সংযোগ সড়কসহ পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার।
স্যাটেলাইট চিত্রে রাশিয়ার অংশে একটি হেলিকপ্টার অবতরণস্থলসহ অতিরিক্ত অবকাঠামোর নির্মাণেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান রেলপথের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো দুই দেশের রেললাইনের গেজ বা প্রস্থ এক নয়। ফলে সীমান্ত অতিক্রম করার সময়ে ট্রেনের চাকা পরিবর্তন করতে হয়, যা খুবই সময়সাপেক্ষ। নতুন সড়ক সেতুতে এই ধরনের কোনও বাধা থাকবে না।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রুথ হাউন্ডসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির যৌক্তিকতা দুর্বল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অথচ ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ায় রাশিয়ার পর্যটকদের সংখ্যাও খুবই সীমিত। ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১০ হাজার রুশ নাগরিক ভ্রমণ করেন, যাদের অধিকাংশই সরকারি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সফরে অংশ নেন। রাজধানী পিয়ংইয়ং, যেখানে বিদেশি পর্যটকদের বেশির ভাগ প্রবেশ করে, সেটি এই সীমান্ত সেতু থেকে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকদের ধারণা, সেতুটির মূল লক্ষ্য বাণিজ্য নয়, বরং সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা সহজতর করা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সড়কপথ চালু হবার ফলে উত্তর কোরিয়ার সেনা, নির্মাণ ব্রিগেড ও সামরিক কর্মকর্তাদের দ্রুত রাশিয়ায় পাঠানো সম্ভব হবে। একইভাবে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদও উত্তর কোরিয়ায় দ্রুত স্থানান্তর হবে।
নাজার মিহুন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি মনে করেন, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক অস্ত্র ও প্রযুক্তির বিনিময়কে আরও সহজ এবং কম স্বচ্ছ করে তুলছে, যা উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রুথ হাউন্ডসের এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুতিন-কিম চুক্তির পরই নির্মাণ শুরু
২০২৪ সালের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
এর পরে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। পশ্চিমা ও ইউক্রেনীয় সূত্রের দাবি, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সেনাসদস্য, গোলাবারুদ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেনের কুরস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পাশে ১৪ হাজারেরও বেশি উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি দাবি করেছেন, রাশিয়া আরও প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে, ২০২৩ সালে বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানায়, উত্তর কোরিয়ার রাসন বন্দর থেকে প্রায় দুই হাজার কনটেইনার রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এসব কনটেইনারে কামানের গোলা এবং স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
এদিকে কিম জং উন রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের প্রশংসা করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের জন্য নতুন আবাসনও উদ্বোধন করেছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে অন্তত দুই হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত দুই সেনাকে ইউক্রেনীয় বাহিনী জীবিত আটক করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুমেন নদীর ওপর নতুন এই সড়ক সেতু শুধু দুই দেশের ভৌগোলিক সংযোগ নয়; বরং মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যার প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ