প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে ফারজানা সুলতানার মরদেহ উদ্ধারের সময় এ বিষয়ে সাক্ষ্যদানকারী হামিদুল ইসলাম (হামিদুল মোড়ল) তা দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তিনি কাশিবাটি গ্রামের এন্তোফ মোড়লের সন্তান এবং ফারজানা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী।
হামিদুল ইসলামের দাবি, ফারজানা গত ২০ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি এবং তার স্বজনরা কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে যখন তাঁরা খোঁজাখুঁজি করছিলেন, তখন সুমাইয়া খাতুনের ঘরের তালা খুলে পুলিশ এবং স্থানীয়রা ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে একটি ওয়ারড্রবের ভেতর ভাঁজ করা অবস্থায় ফারজানার মরদেহ দেখা যায়।
হামিদুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। যখন তিনি ওয়ারড্রবের ভেতরে ফারজানার মরদেহ দেখেন, তখন তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি জ্ঞান ফিরে জানতে পারেন, সুমাইয়া খাতুনকে জনতা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে। এরপরে যেই ঘরে সুমাইয়ার মরদেহ রাখা হয়েছিল, সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর জন্য আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফারজানার মরদেহ ঘর থেকে বের করা হয়।
হত্যার পেছনে একজোড়া সোনার দুলই কারণে রয়েছে এবং কারণ হিসেবে সুমাইয়া ফারজানাকে হত্যা করেছে—এমন তথ্য কিভাবে তিনি জানলেন, এ বিষয়ে হামিদুল ইসলাম সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর আগে হামিদুল ইসলামের উদ্যোগে তার বোন সুমাইয়া খাতুনের বিয়ে একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের সঙ্গে হয়েছিল। বিয়ের পর তাঁরা জানতে পারেন, আমিরুল মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন এবং একাধিক সালিস বৈঠকের ঘটনা ঘটে।
মামুনের দাবি, একটি সালিস বৈঠকে হামিদুল ইসলাম তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করে, ফলে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে ফারজানা সুলতানার পরিবার এবং সুমাইয়া খাতুনের পরিবারের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় ছিল। তারা একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন, রান্না করা খাবার বিনিময় করতেন এবং পারিবারিক লেনদেনও ছিল।
মামুন আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ভাগনি আমেনাকে খাবার কিনে দিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন মোবাইল ফোনে জানতে চান, সুমাইয়া এবং ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কি না।
হামিদুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম তার দাবি নাকচ করেন। তিনি বলেন, "হামিদুল মোড়ল নামে কাউকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। নিহত সুমাইয়া খাতুন ফারজানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো বক্তব্য তিনি পুলিশকে দেননি। এছাড়া যে ঘরে ফারজানার মরদেহ পাওয়া যায়, সেখানে সুমাইয়ার কাছ থেকে চাবি নিয়ে প্রবেশ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ঘরে ঢুকেছিলেন। হামিদুল নামে কেউ সেখানে অজ্ঞান হয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।"
ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলার তদন্ত এখনও চলছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে দেখছেন। ঘটনার বিষয়ে হামিদুল ইসলাম এবং পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন